ঢাকা ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
শিরোনামঃ
মাধবপুরে শাহপুর ছড়ায় ইজারা ছাড়াই চলছে বালু চুরির মহা উৎসব ! দেখার যেন কেউ নেই ! গাজীপুর বদলে দিতে প্রশাসকের ‘ভিশন ১৮০ অগ্রাধিকার পাবে ফ্লাইওভার, খাল খনন ও দখলমুক্ত ফুটপাথ হাটহাজারীতে যানজট নিরসনে বিশেষ আলোচনা সভা নাজিরপুরে ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, আসামিদের হুমকিতে আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার কোম্পানীগঞ্জে মোহাম্মদিয়া ব্রিকফিল্ডের পাওনা আদায়ের দাবিতে মানববন্ধন বিজিবির অভিযানে কষ্টি পাথরের মুর্তি ও মাদক আটক জাতীয় শহীদ সেনা দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে আগামীকাল ইউপি চেয়ারম্যান থেকে জিসিসির প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার, নেতাকর্মীদের আনন্দ উচ্ছ্বাস  ইউপি চেয়ারম্যান থেকে জিসিসির প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার, নেতাকর্মীদের আনন্দ উচ্ছ্বাস 

অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে আগামীকাল

#
news image

আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য- ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার বেলা ২ টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইমেলা উদ্বোধন করবেন। এসময় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করবেন তিনি।

ইতোমধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও একাডেমির সামনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার প্রস্তুতি শেষের দিকে রয়েছে।  

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করবেন, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করবেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করবেন, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা, সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন, বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। 

অমর একুশে বইমেলা ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮ টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। 

ছুটির দিন বইমেলা চলবে বেলা ১১ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত। 

বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকা বিক্রির জন্য মেলার দুই অংশেই স্টল থাকবে।

এবারের বইমেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবেন। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি, মোট ইউনিট থাকবে ১ হাজার ১৮টি। গত বছর  প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি।

এবারের অমর একুশে বইমেলার আয়োজনকে পরিবেশ-সুরক্ষা সচেতন এবং ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’য় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। মেলার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত ধূলিবালি-নিবারক পানি ছিটানো এবং নিয়মিত মশক নিধনের সার্বিক ব্যবস্থা থাকবে। 

আয়োজনস্থল ও পাশ্ববর্তী এলাকায় স্থাপিত সব স্টল, দোকান, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট, প্রচারপত্র, ফাস্ট ফুড, কফি শপ, খাবার দোকান ইত্যাদি প্রস্তুতে পুনঃব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ, যেমন পাট, কাপড়, কাগজ ইত্যাদির ব্যবহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা প্রত্যাশিত। 

অন্যদিকে, সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবার বইমেলার বিন্যাস গতবারের মতো অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। তবে কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেট্রোরেল স্টেশন-এর অবস্থানগত কারণে গতবারের মেলার বাহির-পথ এবার একটু সরিয়ে মন্দির-গেটের কাছাকাছি স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে মোট চারটি প্রবেশ ও বাহির-পথ থাকবে। 

খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা-ঘেঁষে বিন্যস্ত করা হয়েছে। রমজান মাসের কথা বিবেচনায় রেখে পবিত্র রমজান উপলক্ষে বইমেলার সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মেলায় আগত মুসল্লিদের জন্য সুরা তারাবি নামাজের সুব্যবস্থা থাকবে। নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ অন্যান্য পরিষেবা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া খাবারের স্টলগুলোকে এবার বিশেষভাবে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে। 

অমর একুশে বইমেলায় শিশুচত্বরে মোট ৬৩টি প্রতিষ্ঠান এবং ১০৭টি ইউনিট থাকবে।

বইমেলায় শিশুদের উপস্থিতি বাড়াতে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝে রাখা হয়েছে, শিশুচত্বর। যেনো শিশুরা অবাধে বিচরণ করতে পারে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত বই সহজে সংগ্রহ করতে পারে। প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় বেলা ১১ টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে।

প্রতিদিন বিকেল ৩ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত বইমেলার মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে।   

অন্যদিকে, বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। 

মেলার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য এলাকাজুড়ে পর্যাপ্ত ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

মেলাপ্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় (সমগ্র মেলাপ্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত এবং দোয়েল চত্বর থেকে শহীদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চাঁনখারপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত) নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০২৫ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এছাড়া ২০২৫ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং এ-বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। 

এবারের বইমেলায় প্রবর্তন হচ্ছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ শিরোনামে একটি নতুন পুরস্কার। মেলায় নতুন অংশগ্রহণকারী (যে সব প্রতিষ্ঠান নতুন প্রকাশক হিসেবে এবারই প্রথম ২০২৪ বা ২০২৫ সালে মেলায় প্রথম অংশগ্রহণ করছে) তাদের মধ্য থেকে ‘গুণগতমান বিচার’-এ সর্বাধিক সংখ্যক বইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ (১ম, ২য়, ৩য়) প্রদান করা হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির সচিব ও অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সদস্য-সচিব ড. মো. সেলিম রেজা, জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জি এম মিজানুর রহমান, অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক ড. সরকার আমিন, বর্তমান বাংলা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম এবং বর্তমান বাংলা লিমিটেডের কমিউনিকেশন ম্যানেজার  ইয়াছিন শরীফ উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  7:15 PM

news image

আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য- ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার বেলা ২ টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইমেলা উদ্বোধন করবেন। এসময় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করবেন তিনি।

ইতোমধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও একাডেমির সামনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার প্রস্তুতি শেষের দিকে রয়েছে।  

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করবেন, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করবেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করবেন, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা, সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন, বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। 

অমর একুশে বইমেলা ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮ টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। 

ছুটির দিন বইমেলা চলবে বেলা ১১ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত। 

বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকা বিক্রির জন্য মেলার দুই অংশেই স্টল থাকবে।

এবারের বইমেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবেন। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি, মোট ইউনিট থাকবে ১ হাজার ১৮টি। গত বছর  প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি।

এবারের অমর একুশে বইমেলার আয়োজনকে পরিবেশ-সুরক্ষা সচেতন এবং ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’য় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। মেলার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত ধূলিবালি-নিবারক পানি ছিটানো এবং নিয়মিত মশক নিধনের সার্বিক ব্যবস্থা থাকবে। 

আয়োজনস্থল ও পাশ্ববর্তী এলাকায় স্থাপিত সব স্টল, দোকান, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট, প্রচারপত্র, ফাস্ট ফুড, কফি শপ, খাবার দোকান ইত্যাদি প্রস্তুতে পুনঃব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ, যেমন পাট, কাপড়, কাগজ ইত্যাদির ব্যবহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা প্রত্যাশিত। 

অন্যদিকে, সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবার বইমেলার বিন্যাস গতবারের মতো অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। তবে কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেট্রোরেল স্টেশন-এর অবস্থানগত কারণে গতবারের মেলার বাহির-পথ এবার একটু সরিয়ে মন্দির-গেটের কাছাকাছি স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে মোট চারটি প্রবেশ ও বাহির-পথ থাকবে। 

খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা-ঘেঁষে বিন্যস্ত করা হয়েছে। রমজান মাসের কথা বিবেচনায় রেখে পবিত্র রমজান উপলক্ষে বইমেলার সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মেলায় আগত মুসল্লিদের জন্য সুরা তারাবি নামাজের সুব্যবস্থা থাকবে। নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ অন্যান্য পরিষেবা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া খাবারের স্টলগুলোকে এবার বিশেষভাবে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে। 

অমর একুশে বইমেলায় শিশুচত্বরে মোট ৬৩টি প্রতিষ্ঠান এবং ১০৭টি ইউনিট থাকবে।

বইমেলায় শিশুদের উপস্থিতি বাড়াতে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝে রাখা হয়েছে, শিশুচত্বর। যেনো শিশুরা অবাধে বিচরণ করতে পারে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত বই সহজে সংগ্রহ করতে পারে। প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় বেলা ১১ টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে।

প্রতিদিন বিকেল ৩ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত বইমেলার মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে।   

অন্যদিকে, বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। 

মেলার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য এলাকাজুড়ে পর্যাপ্ত ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

মেলাপ্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় (সমগ্র মেলাপ্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত এবং দোয়েল চত্বর থেকে শহীদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চাঁনখারপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত) নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০২৫ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এছাড়া ২০২৫ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং এ-বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। 

এবারের বইমেলায় প্রবর্তন হচ্ছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ শিরোনামে একটি নতুন পুরস্কার। মেলায় নতুন অংশগ্রহণকারী (যে সব প্রতিষ্ঠান নতুন প্রকাশক হিসেবে এবারই প্রথম ২০২৪ বা ২০২৫ সালে মেলায় প্রথম অংশগ্রহণ করছে) তাদের মধ্য থেকে ‘গুণগতমান বিচার’-এ সর্বাধিক সংখ্যক বইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ (১ম, ২য়, ৩য়) প্রদান করা হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির সচিব ও অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সদস্য-সচিব ড. মো. সেলিম রেজা, জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জি এম মিজানুর রহমান, অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক ড. সরকার আমিন, বর্তমান বাংলা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম এবং বর্তমান বাংলা লিমিটেডের কমিউনিকেশন ম্যানেজার  ইয়াছিন শরীফ উপস্থিত ছিলেন।