ঢাকা ১০ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

বাবার স্বীকৃতি না পাওয়ার বেদনা নিয়েই একুশের  ভোরে চিরবিদায় নিলেন কবি শামছুদ্দিনের বড় ছেলে

#
news image

বাবার স্বীকৃতি না পাওয়ার বেদনা নিয়েই একুশের 
ভোরে চিরবিদায় নিলেন কবি শামছুদ্দিনের বড় ছেলে
এস এম সামছুর রহমান, বাগেরহাট প্রতিনিধি :
‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলিরে বাঙালি, তোরা ঢাকার শহর রক্তে ভাসাইলি’- মর্মস্পর্শী এই গানের রচয়িতা বাগেরহাটের চারণ কবি শেখ শামছুদ্দিনের বড় ছেলে দেলোয়ার হোসেন খোকন (৬৬) ইন্তেকাল করেছে। (ইন্না লিল্লাহ.... রাজিউন)। বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারী) ভোরে বেমরতা ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে পৈত্রিক বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৫ সন্তান ও এক ভাই রেখে গেছেন। বেমরতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন টগর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে বাবার স্বীকৃতি না পাওয়ার বেদনা আর অভিমান নিয়েই একুশের ভোরে কবি পুত্রের এই প্রস্থান বলছেন কবি প্রেমীরা। চরম অভাবের ভিতর থেকেও বাবার কথা বলতে তিনি যেন গর্ব বোধ করতেন। বাবার বিষয়ে কোন প্রশ্ন করলে যেটুকু পারতেন বলতেন, বিরক্ত হতেন না কখনও। তিনি আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষায় ছিলেন, রাস্ট্র একদিন তাঁর বাবাকে সেই অমর গানটির জন্য হয়তো সম্মানিত করবে! পরিচিত কেউ গেলে জানতেও চাইতেন, বাবার নামটা কি তালিকায় উঠেছে?
কিন্ত না, ভাষা আন্দোলনের ৭২ বছরেও বিখ্যাত এই চারণ কবি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। তাইতো পিতার স্বীকৃতি দেখে যেতে পারলেন না কবি পুত্র দেলোয়ার হোসেন খোকন।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিলের সময় পাক সেনাদের নির্বিচার গুলিতে ছাত্র নিহত হওয়ার খবর বাগেরহাটে পৌছার পর ওই রাতেই তিনি এই গানটি রচনা করেন। পরদিন সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক মাঠে (বর্তমান এসি লাহা মিলনায়তন) এক আবেগঘন প্রতিবাদ সমাবেশে কবি সামছুদ্দীন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলিরে বাঙালি, তোরা ঢাকার শহর রক্তে ভাসাইলি। ও বাঙালি তোতা পাখি পড়তে আইসা খুয়াইলি পরান, মায় সে জানে পুতের বেদন যার কলিজান জান রে-স্বরচিত একটি গান গেয়েছিলেন। 
পরে শহরের বিভিন্ন স্থানে ‘রাষ্ট্রভাষা’ গান গেয়ে ভাষা অন্দোলনে গতির সঞ্চার করেন। পরবর্তীকালে তার গানটি এত জনপ্রিয় হয় যে, সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। 

এস এম সামছুর রহমান
বাগেরহাট

জেলা প্রতিনিধি

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪,  7:48 PM

news image

বাবার স্বীকৃতি না পাওয়ার বেদনা নিয়েই একুশের 
ভোরে চিরবিদায় নিলেন কবি শামছুদ্দিনের বড় ছেলে
এস এম সামছুর রহমান, বাগেরহাট প্রতিনিধি :
‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলিরে বাঙালি, তোরা ঢাকার শহর রক্তে ভাসাইলি’- মর্মস্পর্শী এই গানের রচয়িতা বাগেরহাটের চারণ কবি শেখ শামছুদ্দিনের বড় ছেলে দেলোয়ার হোসেন খোকন (৬৬) ইন্তেকাল করেছে। (ইন্না লিল্লাহ.... রাজিউন)। বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারী) ভোরে বেমরতা ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে পৈত্রিক বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৫ সন্তান ও এক ভাই রেখে গেছেন। বেমরতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন টগর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে বাবার স্বীকৃতি না পাওয়ার বেদনা আর অভিমান নিয়েই একুশের ভোরে কবি পুত্রের এই প্রস্থান বলছেন কবি প্রেমীরা। চরম অভাবের ভিতর থেকেও বাবার কথা বলতে তিনি যেন গর্ব বোধ করতেন। বাবার বিষয়ে কোন প্রশ্ন করলে যেটুকু পারতেন বলতেন, বিরক্ত হতেন না কখনও। তিনি আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষায় ছিলেন, রাস্ট্র একদিন তাঁর বাবাকে সেই অমর গানটির জন্য হয়তো সম্মানিত করবে! পরিচিত কেউ গেলে জানতেও চাইতেন, বাবার নামটা কি তালিকায় উঠেছে?
কিন্ত না, ভাষা আন্দোলনের ৭২ বছরেও বিখ্যাত এই চারণ কবি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। তাইতো পিতার স্বীকৃতি দেখে যেতে পারলেন না কবি পুত্র দেলোয়ার হোসেন খোকন।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিলের সময় পাক সেনাদের নির্বিচার গুলিতে ছাত্র নিহত হওয়ার খবর বাগেরহাটে পৌছার পর ওই রাতেই তিনি এই গানটি রচনা করেন। পরদিন সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক মাঠে (বর্তমান এসি লাহা মিলনায়তন) এক আবেগঘন প্রতিবাদ সমাবেশে কবি সামছুদ্দীন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলিরে বাঙালি, তোরা ঢাকার শহর রক্তে ভাসাইলি। ও বাঙালি তোতা পাখি পড়তে আইসা খুয়াইলি পরান, মায় সে জানে পুতের বেদন যার কলিজান জান রে-স্বরচিত একটি গান গেয়েছিলেন। 
পরে শহরের বিভিন্ন স্থানে ‘রাষ্ট্রভাষা’ গান গেয়ে ভাষা অন্দোলনে গতির সঞ্চার করেন। পরবর্তীকালে তার গানটি এত জনপ্রিয় হয় যে, সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। 

এস এম সামছুর রহমান
বাগেরহাট