ঢাকা ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
শিরোনামঃ
গাজীপুরে সংগীতা আইডিয়াল হাই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান সম্পন্ন  গুদারা খালের বাঁধ অপসারণ: উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা বড়লেখায় উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু এমপি কোম্পানীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অংশ নিচ্ছেন সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী জাতিসংঘ ফোরামে ন্যায্য বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো ও টেকসই এলডিসি উত্তরণের আহ্বান বাংলাদেশের দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি বিপুল পরিমান ভারতীয় মোবাইল ফোন জব্দ বানারীপাড়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ পালিত বড়লেখা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী সুযোগ নিতে পারে জামায়াত

চট্টগ্রামে ঈদের কেনাবেচায় ধুম

#
news image

শপিংমল থেকে ফুটপাত, মহানগর থেকে উপজেলা-মফস্বল সবস্থানে ঈদের কেনাবেচায় ধুম চলছে। কোটিপতি থেকে ছিন্নমূল সকলে ছুটছেন ঈদের কেনাকাটার জন্য মার্কেট গুলোতে। কেউ যাচ্ছেন অভিজাত মার্কেটে, কেউ ছুটছেন শপিং মলে। নগরীর গন্ডি পেরিয়ে কেউ রয়েছেন মফস্বলের দোকানে। নগরের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রিয়াজউদ্দিন বাজার মধ্যবিত্ত নারীদের কাছে রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। বাজেটের মধ্যে শাড়ি, জামা, প্রসাধনী, জুয়েলারি ও শিশুদের পোশাকের জন্য এ মার্কেট অদ্বিতীয়। রমজানের শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে হরধম ক্রয় বিক্রয়। দোকানিরা জানালেন, ঈদের কেনাকাটায় এবার শাড়ি ভালো বিক্রি হচ্ছে। এরমধ্যে বেশি চাহিদা রয়েছে বেনারসি ও কাতানের। দোকানগুলোতে শাড়ি ছাড়াও থ্রি-পিস, লুঙ্গি, জুতো, প্যান্ট, জুয়েলারি, প্রসাধনীসহ পাইকারি ও খুচরা পণ্যের বিপুল সম্ভার রয়েছে। রিয়াজউদ্দিন বাজারে শপিং করতে আসা গৃহিনী শাহানাজ আকতার বলেন, এ মার্কেট ও আশেপাশে সব ধরনের জিনিস পাওয়া যায়। তাও বাজেটের মধ্যেই। রিয়াজউদ্দিন বাজারের দোকানগুলোতে শাড়ি কালেকশনও ভালো। তাই শাড়ি কিনতে আসলাম।

রিয়াজউদ্দিন বাজার ছাড়াও নগরীর জহুর হকার্স মার্কেট, বিপণি বিতান, তামাকমুন্ডি লেইন ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর। এছাড়া রিয়াজউদ্দিন বাজারের নিউমার্কেট থেকে শাহ আমানত পর্যন্ত দুই পাশে ছাড়াও স্টেশন রোডের একপাশে কয়েকশ হকার রয়েছে। ঈদে হকারদের এখানে সবচেয়ে বিক্রি বেশি হয়। এসব দোকানে ১০০ টাকার মধ্যে শার্ট কিংবা ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে প্যান্ট কেনা যায়। এছাড়া ২০০ থেকে ৬০০ মধ্যে জুতা পাওয়া যাচ্ছে এসব ফুটপাতে। কম দামে এখানে পণ্য কিনতে নিম্নবিত্তের মানুষের ভরসা এ ফুটপাতের দোকানগুলোই। নিউমার্কেট খ্যাত বিপণি বিতানের শাড়ি, শার্ট, পাঞ্জাবি, থ্রিপিস, বোরকা, জুতো, মোবাইল, ঘড়ি, ব্যাগ-লাগেজ, টেইলারিং, কসমেটিকসের প্রতিটি শোরুমে ফ্যাশন সচেতন তরুণ-তরুণীদের ভিড়। আবার এসব শোরুমে কেনাকাটায় রয়েছে বিশেষ ছাড়ও যা ঈদ বিক্রয় উৎসব নামে পরিচিত। নগরীর আরেক পুরানো মার্কেট টেরিবাজারে বিকিকিনির বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এ মার্কেট মূলত বিদেশি কাপড়ের জন্য বিখ্যাত। পাঞ্জাবি-শাড়ি ও থান কাপড় কিনতে নগরবাসীর প্রথম পছন্দ এ টেরিবাজার।

অপরদিকে ব্র্যান্ড ও নতুন ডিজাইনের প্রতি যাদের ঝোঁক তারা ভিড় করছেন নগরীর বিলাসবহুল শপিং মলগুলোতে। বিশেষ করে সানমার, ফিনলে স্কয়ার, বালি আর্কেড, আখতারুজ্জামান সেন্টার, আফমি প্লাজা, মিমি সুপার মার্কেট, ইউনেস্কো সিটি সেন্টারে বেশ ক্রেতা সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। ফিনলে স্কয়ারে কাপড় কিনতে আসা তরুন সৈরভ জানান, এখানে দামের চেয়ে পোশাকের মানটাই আসল। বিভিন্ন ব্র‍্যান্ডের পোশাক দেখছি ঘুরে ঘুরে। যেখানে যেটা পছন্দ হবে কিনবো। অপরদিকে নগরীর আগ্রাবাদ মোড় থেকে একটু এগোলেই আখতারুজ্জামান সেন্টারের পেছনে কমার্স কলেজ রোডসহ আশপাশের ফুটপাতে বিভিন্ন নামি-দামি ব্র্যান্ডের হরেক রকমের জুতার পসরা। কেডস, চটি, ফরমাল স্যু থেকে শুরু করে তরুণদের পছন্দের সব জুতা পাওয়া যাচ্ছে এ ফুটপাতেই। সন্ধ্যার পর থেকে জমে ওঠে এই জুতার বাজার। মূলত বাজেট ফ্রেন্ডলি, সঙ্গে এক জায়গায় হরেক রকমের জুতা আর কোথাও পাওয়া যায় না। পরিচিত ব্র‍্যান্ডের দোকানে যে জুতা তিন থেকে চার হাজার টাকা, প্রায় একই রকমের জুতা এখানে পাওয়া যায় ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকায়। জুতাও বেশ টেকসই। এক ক্রেতা মতে, বিভিন্ন ব্র‍্যান্ডের জুতা রয়েছে এখানে। তবে বাজার থেকে একটু দেখেশুনে কিনতে হয়। দরদাম করে মোটামুটি কম দামে জুতা পাওয়া যায়।

তাছাড়া ঈদ উপলক্ষে অনেকে কিনছেন গৃহস্থালি পণ্য ও ঘর সাজানোর নানা পণ্য। আর এর জন্য বিখ্যাত নগরীর গোলাম রসুল মার্কেটে এখন বিক্রেতাদের দম ফেলার ফুরসত নেই। জনৈক ক্রেতা বলেন, ঈদে অতিথিদের আপ্যায়ন ও ঘর সাজাতে কিছু জিনিস কিনছি। এখানে মানসম্মত গৃহস্থালি পণ্য পাওয়া যায়। তাছাড়া দক্ষিন চট্টগ্রামের কর্ণফুলি মার্কেট, কলেজ বাজার, চাতরি চৌমহুনি বাজার, বটতলী বাজার, পটিয়ার শন্তির হাট বাজার, পটিয়া সদর, চন্দনাইশের খান হাট, দোহাজারী, সাতকানিয়ার কেরানী হাট, বাজালিয়া, সাতকানিয়া উপজেলার সদর, বাশখালীর গুনাগরি, রামদাশ হাট,লোহাগাড়ার পদুয়া, বটতলী, চন্দনাইশের ইউনুচ মার্কেট, বরকল মৌলভী বাজারসহ সর্বত্র ঈদের বাজারে ধুমধামের সহিত কেনা বেচা চলছে অনবরত।

আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ঃ

২৬ মার্চ, ২০২৫,  7:05 PM

news image

শপিংমল থেকে ফুটপাত, মহানগর থেকে উপজেলা-মফস্বল সবস্থানে ঈদের কেনাবেচায় ধুম চলছে। কোটিপতি থেকে ছিন্নমূল সকলে ছুটছেন ঈদের কেনাকাটার জন্য মার্কেট গুলোতে। কেউ যাচ্ছেন অভিজাত মার্কেটে, কেউ ছুটছেন শপিং মলে। নগরীর গন্ডি পেরিয়ে কেউ রয়েছেন মফস্বলের দোকানে। নগরের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রিয়াজউদ্দিন বাজার মধ্যবিত্ত নারীদের কাছে রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। বাজেটের মধ্যে শাড়ি, জামা, প্রসাধনী, জুয়েলারি ও শিশুদের পোশাকের জন্য এ মার্কেট অদ্বিতীয়। রমজানের শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে হরধম ক্রয় বিক্রয়। দোকানিরা জানালেন, ঈদের কেনাকাটায় এবার শাড়ি ভালো বিক্রি হচ্ছে। এরমধ্যে বেশি চাহিদা রয়েছে বেনারসি ও কাতানের। দোকানগুলোতে শাড়ি ছাড়াও থ্রি-পিস, লুঙ্গি, জুতো, প্যান্ট, জুয়েলারি, প্রসাধনীসহ পাইকারি ও খুচরা পণ্যের বিপুল সম্ভার রয়েছে। রিয়াজউদ্দিন বাজারে শপিং করতে আসা গৃহিনী শাহানাজ আকতার বলেন, এ মার্কেট ও আশেপাশে সব ধরনের জিনিস পাওয়া যায়। তাও বাজেটের মধ্যেই। রিয়াজউদ্দিন বাজারের দোকানগুলোতে শাড়ি কালেকশনও ভালো। তাই শাড়ি কিনতে আসলাম।

রিয়াজউদ্দিন বাজার ছাড়াও নগরীর জহুর হকার্স মার্কেট, বিপণি বিতান, তামাকমুন্ডি লেইন ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর। এছাড়া রিয়াজউদ্দিন বাজারের নিউমার্কেট থেকে শাহ আমানত পর্যন্ত দুই পাশে ছাড়াও স্টেশন রোডের একপাশে কয়েকশ হকার রয়েছে। ঈদে হকারদের এখানে সবচেয়ে বিক্রি বেশি হয়। এসব দোকানে ১০০ টাকার মধ্যে শার্ট কিংবা ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে প্যান্ট কেনা যায়। এছাড়া ২০০ থেকে ৬০০ মধ্যে জুতা পাওয়া যাচ্ছে এসব ফুটপাতে। কম দামে এখানে পণ্য কিনতে নিম্নবিত্তের মানুষের ভরসা এ ফুটপাতের দোকানগুলোই। নিউমার্কেট খ্যাত বিপণি বিতানের শাড়ি, শার্ট, পাঞ্জাবি, থ্রিপিস, বোরকা, জুতো, মোবাইল, ঘড়ি, ব্যাগ-লাগেজ, টেইলারিং, কসমেটিকসের প্রতিটি শোরুমে ফ্যাশন সচেতন তরুণ-তরুণীদের ভিড়। আবার এসব শোরুমে কেনাকাটায় রয়েছে বিশেষ ছাড়ও যা ঈদ বিক্রয় উৎসব নামে পরিচিত। নগরীর আরেক পুরানো মার্কেট টেরিবাজারে বিকিকিনির বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এ মার্কেট মূলত বিদেশি কাপড়ের জন্য বিখ্যাত। পাঞ্জাবি-শাড়ি ও থান কাপড় কিনতে নগরবাসীর প্রথম পছন্দ এ টেরিবাজার।

অপরদিকে ব্র্যান্ড ও নতুন ডিজাইনের প্রতি যাদের ঝোঁক তারা ভিড় করছেন নগরীর বিলাসবহুল শপিং মলগুলোতে। বিশেষ করে সানমার, ফিনলে স্কয়ার, বালি আর্কেড, আখতারুজ্জামান সেন্টার, আফমি প্লাজা, মিমি সুপার মার্কেট, ইউনেস্কো সিটি সেন্টারে বেশ ক্রেতা সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। ফিনলে স্কয়ারে কাপড় কিনতে আসা তরুন সৈরভ জানান, এখানে দামের চেয়ে পোশাকের মানটাই আসল। বিভিন্ন ব্র‍্যান্ডের পোশাক দেখছি ঘুরে ঘুরে। যেখানে যেটা পছন্দ হবে কিনবো। অপরদিকে নগরীর আগ্রাবাদ মোড় থেকে একটু এগোলেই আখতারুজ্জামান সেন্টারের পেছনে কমার্স কলেজ রোডসহ আশপাশের ফুটপাতে বিভিন্ন নামি-দামি ব্র্যান্ডের হরেক রকমের জুতার পসরা। কেডস, চটি, ফরমাল স্যু থেকে শুরু করে তরুণদের পছন্দের সব জুতা পাওয়া যাচ্ছে এ ফুটপাতেই। সন্ধ্যার পর থেকে জমে ওঠে এই জুতার বাজার। মূলত বাজেট ফ্রেন্ডলি, সঙ্গে এক জায়গায় হরেক রকমের জুতা আর কোথাও পাওয়া যায় না। পরিচিত ব্র‍্যান্ডের দোকানে যে জুতা তিন থেকে চার হাজার টাকা, প্রায় একই রকমের জুতা এখানে পাওয়া যায় ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকায়। জুতাও বেশ টেকসই। এক ক্রেতা মতে, বিভিন্ন ব্র‍্যান্ডের জুতা রয়েছে এখানে। তবে বাজার থেকে একটু দেখেশুনে কিনতে হয়। দরদাম করে মোটামুটি কম দামে জুতা পাওয়া যায়।

তাছাড়া ঈদ উপলক্ষে অনেকে কিনছেন গৃহস্থালি পণ্য ও ঘর সাজানোর নানা পণ্য। আর এর জন্য বিখ্যাত নগরীর গোলাম রসুল মার্কেটে এখন বিক্রেতাদের দম ফেলার ফুরসত নেই। জনৈক ক্রেতা বলেন, ঈদে অতিথিদের আপ্যায়ন ও ঘর সাজাতে কিছু জিনিস কিনছি। এখানে মানসম্মত গৃহস্থালি পণ্য পাওয়া যায়। তাছাড়া দক্ষিন চট্টগ্রামের কর্ণফুলি মার্কেট, কলেজ বাজার, চাতরি চৌমহুনি বাজার, বটতলী বাজার, পটিয়ার শন্তির হাট বাজার, পটিয়া সদর, চন্দনাইশের খান হাট, দোহাজারী, সাতকানিয়ার কেরানী হাট, বাজালিয়া, সাতকানিয়া উপজেলার সদর, বাশখালীর গুনাগরি, রামদাশ হাট,লোহাগাড়ার পদুয়া, বটতলী, চন্দনাইশের ইউনুচ মার্কেট, বরকল মৌলভী বাজারসহ সর্বত্র ঈদের বাজারে ধুমধামের সহিত কেনা বেচা চলছে অনবরত।