ঢাকা ১১ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

চট্টগ্রামে ঈদের ছুটিতে ভিন্নভিন্ন ঘটনায় নিহত ২৩ আহত ৩৫

#
news image

গত ৩১ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দূর্ঘটনা, বিদ্যুতের খুটির সাথে ধাক্কা ও অগ্নিকান্ডসহ পৃথক ঘটনায় অন্তত ২৩ জন নিহত ও ৩৫ জনের অধিক আহত হয়েছেন। তৎমধ্যে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নে দুইদিনের ব্যবধানে দুইটি পৃথক দূর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় বাসের সঙ্গে দুই মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৭টার দিকে চুনতি বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত ও পরে হাসপাতালে নেয়ার পর আরও তিনজন মারা যান। নিহতরা হলেন, একই পরিবারের ৫ সদস্য রফিকুল ইসলাম শামীম (৪৬) ও তার স্ত্রী লুৎফুন নাহার সুমি (৩৫), তাদের দুই মেয়ে ৮ বছরের লিয়ানা এবং আনীসা। এছাড়া শামীমের ভাগনি তানিফা ইয়াছমিন (১৬)। তাদের সবার বাড়ি ঢাকা মহানগরের মীরপুর এলাকায়। একই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন দিলীপ মন্ডল (৪৩) ও সাধনা রাণী মন্ডল (৩৭) দম্পতি। তাদের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপায়। তারা দুইজনই ঘটনাস্থলে নিহত হন। তবে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তাদের কন্যা আরাধ্যা। একই গাড়িতে থাকা ৬০ বছর বয়সী আশীষ মন্ডল চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি সম্পর্কে দিলীপের ভাই। তাছাড়া দুর্ঘটনার শিকার মাইক্রোবাসটির চালক ইউসুফ আলী (৫৫) মারা গেছেন। তার বাড়ি রাজধানীর দক্ষিণখানে। পাশাপাশি মুক্তার হোসেন নামে আরো ব্যক্তির মৃত্যু হয় এ দুর্ঘটনায়। তবে তার নাম জানা গেলেও পুরো পরিচয় জানাতে পারেনি দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রামগামী রিলাক্স পরিবহনের একটি বাস জাঙ্গালীয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিলে একটি মাইক্রোবাস দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং অন্যটি মাইক্রোবাসটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলে ৭ জন নিহত হয়। ঘটনায় গুরুতর আহত ৫ জনকে লোহাগাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। বাকি চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে দুইজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা কুষ্টিয়া থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। মাইক্রোবাস চালক ছাড়া নিহতরা সবাই দুটি পরিবারের সদস্য। নিহতদের মধ্যে তিনজন মহিলা, দুইজন শিশু ও পাঁচজন পূরুষ রয়েছেন।
লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার রাখাল চন্দ্র জানান, বাস ও দুটি মাইক্রোবাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথমে একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। পড়ে আরেকটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। হতাহতরা বেশিরভাগই একটি মাইক্রোবাসের যাত্রী। ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত আরো ৫ জনকে প্রথমে লোহাগাড়া ও পড়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ৩ জনের মৃত্যু হয়। নিহত একটি পরিবারের স্বজন বাধন বিশ্বাস জানান, নিহতরা সবাই ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার বাসিন্দা। দুটি পরিবারের ১২ জন সদস্য ঈদের ছুটিতে একটি হাইস মাইক্রোবাস ভাড়া করে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, জাঙ্গালিয়ার এই একই এলাকায় ঈদের দিন আলাদা আরেকটি দুর্ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত কাল (১ এপ্রিল) একই স্থানে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে কারো মুত্যু না হলেও অন্তত ১০ জন আহত হয়। আজ সকালের দুর্ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে তিন দিনের ব্যবধানে তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু ও ২০ জন আহত হয়।
এদিকে গত সোমবার (৩১ মার্চ ঈদের দিন) সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে উপজেলার জাঙ্গালিয়া মাজার গেট এলাকায় অপর এক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ১২ জন আহত হন। নিহতরা হলেন, লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের আদার মানিক মো. পারভেজে পুত্র মো. জাহেদ (২৫), একই এলাকার আলমের পুত্র রিফাত (২৯), একই ইউনিয়নের চরপাড়ার নুরুল ইসলামের পুত্র নাজিম, উপজেলার সুখছড়ি মৌলভীপাড়ার আমির হোসেনের পুত্র জিয়ান হোসেন অপু ও সাতকানিয়া উপজেলার ডেলিপাড়ার আবদুস ছাত্তারের ছেলে ছিদ্দিক। জানা যায়, সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। 
এদিকে ২৯মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে চট্টগ্রামে প্রাইভেটকারে এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনায় মোহাম্মদ মানিক (৩০) ও আবদুল্লাহ (৩২) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রবিন ও হৃদয় নামে আরো দুই আহত হয়েছেন। নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজনের মধ্যে মোহাম্মদ মানিক পেশায় গাড়িচালক বলে জানা গেছে। তার বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট গ্রামে। তিনি প্রাইভেটকারটিতে চালকের আসনে বসা ছিলেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিলভার রঙের একটি প্রাইভেটকার কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে বাকলিয়া এক্সেস রোডে প্রবেশ করলে পেছন দিক থেকে তিন-চারটি মোটরসাইকেলে হেলপেট পরা অজ্ঞাতপরিচয় যুবকরা গাড়িটিকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে যুবকরা এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকেন। প্রাইভেটকারের ভেতর থেকেও মোটরসাইকেল আরোহীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছোড়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানের আগেই দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গাড়িতে থাকা চারজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে মানিক ও আবদুল্লাহকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। অন্য দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সূত্র জানায়, গত ১৫ মার্চ ঢাকায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আকরাম নামের এক ব্যক্তিকে টার্গেট করে প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। আকরামের ব্যবহৃত গাড়ির মডেল ও রং একই হওয়ায় এই ঘটনা ঘটানো হয়। তবে ভাগ্য বশত এই গাড়ীতে আকরাম ছিলেন না। সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেওয়ার পর হুমকির ঘটনায় আকরামের স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না শারমিন ও সহযোগী হাসানসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। অপরদিকে নগরীর আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী জায়গার সীমানা পরিমাপকে ঘিরে শ্যামল চৌধুরী (৬০) নামে একজনের মৃত্যু ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ১ এপ্রিল দুপুরে উত্তর কাট্টলী ইশান মহাজন রোডে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, হামলা করে ওই লোককে হত্যা করা হয়েছে। তবে শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন নেই। স্থানীয়রা জানান, জায়গার সীমানা পরিমাপকে ঘিরে শ্যামল চৌধুরী স্ট্রোক করেন। সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তা ছাড়া লোহাগাড়ায় উপজেলায় বিদ্যুতের খুঁটির সাথে ধাক্কা লেগে মো. অনিক (১৮) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর করুন মৃত্যু হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। নিহত অনিক উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল কবিরের পুত্র। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় বড় হাতিয়া ইউনিয়নের সেনের হাটের দক্ষিণ পাশে ব্রিজের উপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল আজিজ জানান, খুঁটির সাথে ধাক্কা লেগে সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় অনিক। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে আনোয়ারা উপজেলায় ঈদের দিন সকালে রান্না করার সময় অগ্নি দগ্ধ হয়ে ঊর্মি আকতার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুু হয়েছে। সোমবার (৩১ মার্চ) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের খাসখামা এলাকায় নঈম উদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত গৃহবধূ নঈম উদ্দিনের স্ত্রী এবং একই ইউনিয়নের ডুমুরিয়ার রুদ্ররা এলাকার মো. সেলিম উদ্দিনের কন্যা।
জানা যায়, ঈদের দিন ঊর্মি রান্না করার সময় চুলার আগুন তার নতুন শাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনি রান্নাঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় বাড়ি ও স্থানীয় লোকজন আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঊর্মিকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মারা যান। আগুনে তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ অংশ পুড়ে যায়।
এদিকে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় শাহ আলম বকুল (৪১) নামে এক প্রকৌশলীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেল তিনটার সময় রাউজান উপজেলার ১নং হলদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডস্থ তিতা গাজীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ আলম বকুল একই এলাকার নুরুল ইসলামের পুত্র। স্থানীয়রা জানান, প্রকৌশলী নুরুল আলম বকুল গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে স্ত্রী ও সন্তানদের শহরে রেখে গ্রামের নিজ বাড়িতে আসেন। ঈদের পরের দিন দুপুরে নিজের বাড়িতে এসে মা শহিদা বেগম, সৎ ভাই দিদার আলম, নাজিম উদ্দিন, মুন্নি আকতার ভিটের জায়গা ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে বিরোধে জড়ায়। এর জের ধরে হাতাহতির এক পর্যায়ে বকুলকে দা, কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকলে তিনি মাটিতে লুটে পড়েন। পরে স্থানীয়রা ও ছোট ভাই রাজু আহমেদ তাকে প্রথমে রাউজান উপজেলা হাসপাতাল, পরে চমেক হাসপতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূইয়া জানান, সৎ ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহতের ঘটনা ঘটেছে। 
তাছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ১২ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ যুবদল কর্মী জিহাদুর রহমান জিহাদ (২৭) মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। জিহাদ নগরীর লালখান বাজার এলাকার বাসিন্দা। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতার হোসেন বলেন, জিহাদ পায়ে গুলিবিদ্ধ এবং পেটে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছিলেন। ঘটনার ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়েছে। গত ২১ মার্চ রাতে লালখানবাজার কুসুমবাগ এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চারজন আহত হন। ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর খুলশী থানার ওসি মুজিবুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। এ বিষয়ে থানায় মামলা হলে ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।অপরদিকে জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাধন বড়ুয়া (৬৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের হরিহর-সারাশিয়া সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আরো ৪ জন আহত হয়েছে। অঅহতরা হলেন, অটোরিকশার যাত্রী চুনচুনি বড়ুয়া (৬৫), বিদু বড়ুয়া (৬৪), পারভীন আক্তার (৫৫) ও মোটরসাইকেল চালক বখতেয়ার হোসেন (২১)। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, পদুয়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সারাশিয়া এলাকায় সাবেরহাট থেকে রাজারহাট যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় গাড়ি দুটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে উল্টে যায়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অটোরিকশার যাত্রী সাধন বড়ুয়ার মৃত্যু হয়। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ না থাকায় স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ঃ

০৩ এপ্রিল, ২০২৫,  5:57 PM

news image

গত ৩১ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দূর্ঘটনা, বিদ্যুতের খুটির সাথে ধাক্কা ও অগ্নিকান্ডসহ পৃথক ঘটনায় অন্তত ২৩ জন নিহত ও ৩৫ জনের অধিক আহত হয়েছেন। তৎমধ্যে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নে দুইদিনের ব্যবধানে দুইটি পৃথক দূর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় বাসের সঙ্গে দুই মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৭টার দিকে চুনতি বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত ও পরে হাসপাতালে নেয়ার পর আরও তিনজন মারা যান। নিহতরা হলেন, একই পরিবারের ৫ সদস্য রফিকুল ইসলাম শামীম (৪৬) ও তার স্ত্রী লুৎফুন নাহার সুমি (৩৫), তাদের দুই মেয়ে ৮ বছরের লিয়ানা এবং আনীসা। এছাড়া শামীমের ভাগনি তানিফা ইয়াছমিন (১৬)। তাদের সবার বাড়ি ঢাকা মহানগরের মীরপুর এলাকায়। একই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন দিলীপ মন্ডল (৪৩) ও সাধনা রাণী মন্ডল (৩৭) দম্পতি। তাদের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপায়। তারা দুইজনই ঘটনাস্থলে নিহত হন। তবে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তাদের কন্যা আরাধ্যা। একই গাড়িতে থাকা ৬০ বছর বয়সী আশীষ মন্ডল চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি সম্পর্কে দিলীপের ভাই। তাছাড়া দুর্ঘটনার শিকার মাইক্রোবাসটির চালক ইউসুফ আলী (৫৫) মারা গেছেন। তার বাড়ি রাজধানীর দক্ষিণখানে। পাশাপাশি মুক্তার হোসেন নামে আরো ব্যক্তির মৃত্যু হয় এ দুর্ঘটনায়। তবে তার নাম জানা গেলেও পুরো পরিচয় জানাতে পারেনি দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রামগামী রিলাক্স পরিবহনের একটি বাস জাঙ্গালীয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিলে একটি মাইক্রোবাস দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং অন্যটি মাইক্রোবাসটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলে ৭ জন নিহত হয়। ঘটনায় গুরুতর আহত ৫ জনকে লোহাগাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। বাকি চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে দুইজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা কুষ্টিয়া থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। মাইক্রোবাস চালক ছাড়া নিহতরা সবাই দুটি পরিবারের সদস্য। নিহতদের মধ্যে তিনজন মহিলা, দুইজন শিশু ও পাঁচজন পূরুষ রয়েছেন।
লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার রাখাল চন্দ্র জানান, বাস ও দুটি মাইক্রোবাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথমে একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। পড়ে আরেকটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। হতাহতরা বেশিরভাগই একটি মাইক্রোবাসের যাত্রী। ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত আরো ৫ জনকে প্রথমে লোহাগাড়া ও পড়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ৩ জনের মৃত্যু হয়। নিহত একটি পরিবারের স্বজন বাধন বিশ্বাস জানান, নিহতরা সবাই ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার বাসিন্দা। দুটি পরিবারের ১২ জন সদস্য ঈদের ছুটিতে একটি হাইস মাইক্রোবাস ভাড়া করে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, জাঙ্গালিয়ার এই একই এলাকায় ঈদের দিন আলাদা আরেকটি দুর্ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত কাল (১ এপ্রিল) একই স্থানে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে কারো মুত্যু না হলেও অন্তত ১০ জন আহত হয়। আজ সকালের দুর্ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে তিন দিনের ব্যবধানে তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু ও ২০ জন আহত হয়।
এদিকে গত সোমবার (৩১ মার্চ ঈদের দিন) সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে উপজেলার জাঙ্গালিয়া মাজার গেট এলাকায় অপর এক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ১২ জন আহত হন। নিহতরা হলেন, লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের আদার মানিক মো. পারভেজে পুত্র মো. জাহেদ (২৫), একই এলাকার আলমের পুত্র রিফাত (২৯), একই ইউনিয়নের চরপাড়ার নুরুল ইসলামের পুত্র নাজিম, উপজেলার সুখছড়ি মৌলভীপাড়ার আমির হোসেনের পুত্র জিয়ান হোসেন অপু ও সাতকানিয়া উপজেলার ডেলিপাড়ার আবদুস ছাত্তারের ছেলে ছিদ্দিক। জানা যায়, সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। 
এদিকে ২৯মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে চট্টগ্রামে প্রাইভেটকারে এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনায় মোহাম্মদ মানিক (৩০) ও আবদুল্লাহ (৩২) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রবিন ও হৃদয় নামে আরো দুই আহত হয়েছেন। নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজনের মধ্যে মোহাম্মদ মানিক পেশায় গাড়িচালক বলে জানা গেছে। তার বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট গ্রামে। তিনি প্রাইভেটকারটিতে চালকের আসনে বসা ছিলেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিলভার রঙের একটি প্রাইভেটকার কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে বাকলিয়া এক্সেস রোডে প্রবেশ করলে পেছন দিক থেকে তিন-চারটি মোটরসাইকেলে হেলপেট পরা অজ্ঞাতপরিচয় যুবকরা গাড়িটিকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে যুবকরা এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকেন। প্রাইভেটকারের ভেতর থেকেও মোটরসাইকেল আরোহীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছোড়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানের আগেই দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গাড়িতে থাকা চারজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে মানিক ও আবদুল্লাহকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। অন্য দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সূত্র জানায়, গত ১৫ মার্চ ঢাকায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আকরাম নামের এক ব্যক্তিকে টার্গেট করে প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। আকরামের ব্যবহৃত গাড়ির মডেল ও রং একই হওয়ায় এই ঘটনা ঘটানো হয়। তবে ভাগ্য বশত এই গাড়ীতে আকরাম ছিলেন না। সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেওয়ার পর হুমকির ঘটনায় আকরামের স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না শারমিন ও সহযোগী হাসানসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। অপরদিকে নগরীর আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী জায়গার সীমানা পরিমাপকে ঘিরে শ্যামল চৌধুরী (৬০) নামে একজনের মৃত্যু ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ১ এপ্রিল দুপুরে উত্তর কাট্টলী ইশান মহাজন রোডে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, হামলা করে ওই লোককে হত্যা করা হয়েছে। তবে শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন নেই। স্থানীয়রা জানান, জায়গার সীমানা পরিমাপকে ঘিরে শ্যামল চৌধুরী স্ট্রোক করেন। সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তা ছাড়া লোহাগাড়ায় উপজেলায় বিদ্যুতের খুঁটির সাথে ধাক্কা লেগে মো. অনিক (১৮) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর করুন মৃত্যু হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। নিহত অনিক উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল কবিরের পুত্র। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় বড় হাতিয়া ইউনিয়নের সেনের হাটের দক্ষিণ পাশে ব্রিজের উপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল আজিজ জানান, খুঁটির সাথে ধাক্কা লেগে সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় অনিক। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে আনোয়ারা উপজেলায় ঈদের দিন সকালে রান্না করার সময় অগ্নি দগ্ধ হয়ে ঊর্মি আকতার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুু হয়েছে। সোমবার (৩১ মার্চ) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের খাসখামা এলাকায় নঈম উদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত গৃহবধূ নঈম উদ্দিনের স্ত্রী এবং একই ইউনিয়নের ডুমুরিয়ার রুদ্ররা এলাকার মো. সেলিম উদ্দিনের কন্যা।
জানা যায়, ঈদের দিন ঊর্মি রান্না করার সময় চুলার আগুন তার নতুন শাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনি রান্নাঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় বাড়ি ও স্থানীয় লোকজন আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঊর্মিকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মারা যান। আগুনে তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ অংশ পুড়ে যায়।
এদিকে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় শাহ আলম বকুল (৪১) নামে এক প্রকৌশলীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেল তিনটার সময় রাউজান উপজেলার ১নং হলদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডস্থ তিতা গাজীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ আলম বকুল একই এলাকার নুরুল ইসলামের পুত্র। স্থানীয়রা জানান, প্রকৌশলী নুরুল আলম বকুল গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে স্ত্রী ও সন্তানদের শহরে রেখে গ্রামের নিজ বাড়িতে আসেন। ঈদের পরের দিন দুপুরে নিজের বাড়িতে এসে মা শহিদা বেগম, সৎ ভাই দিদার আলম, নাজিম উদ্দিন, মুন্নি আকতার ভিটের জায়গা ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে বিরোধে জড়ায়। এর জের ধরে হাতাহতির এক পর্যায়ে বকুলকে দা, কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকলে তিনি মাটিতে লুটে পড়েন। পরে স্থানীয়রা ও ছোট ভাই রাজু আহমেদ তাকে প্রথমে রাউজান উপজেলা হাসপাতাল, পরে চমেক হাসপতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূইয়া জানান, সৎ ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহতের ঘটনা ঘটেছে। 
তাছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ১২ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ যুবদল কর্মী জিহাদুর রহমান জিহাদ (২৭) মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। জিহাদ নগরীর লালখান বাজার এলাকার বাসিন্দা। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতার হোসেন বলেন, জিহাদ পায়ে গুলিবিদ্ধ এবং পেটে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছিলেন। ঘটনার ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়েছে। গত ২১ মার্চ রাতে লালখানবাজার কুসুমবাগ এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চারজন আহত হন। ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর খুলশী থানার ওসি মুজিবুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। এ বিষয়ে থানায় মামলা হলে ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।অপরদিকে জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাধন বড়ুয়া (৬৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের হরিহর-সারাশিয়া সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আরো ৪ জন আহত হয়েছে। অঅহতরা হলেন, অটোরিকশার যাত্রী চুনচুনি বড়ুয়া (৬৫), বিদু বড়ুয়া (৬৪), পারভীন আক্তার (৫৫) ও মোটরসাইকেল চালক বখতেয়ার হোসেন (২১)। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, পদুয়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সারাশিয়া এলাকায় সাবেরহাট থেকে রাজারহাট যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় গাড়ি দুটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে উল্টে যায়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অটোরিকশার যাত্রী সাধন বড়ুয়ার মৃত্যু হয়। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ না থাকায় স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।