ঢাকা ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের মেয়াদের নিয়োগ ও বদলির নথি তলব করল দুদক অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনার গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত ডিএসইতে সূচকের চাঙ্গা ভাব, লেনদেন ৭২০ কোটি টাকা পার ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৪ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২৫২ বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদের প্রয়াণে শোক ও দোয়া মাহফিল চরভদ্রাসনে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবক সমাবেশ শাল্লায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর ৪ দিন অনশন, সমাধানে ব্যর্থ স্থানীয়রা বড়লেখায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে কদমতলা ইউনিয়নের দুই বিএনপি নেতার মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জনবল বাড়াবে সরকার : তৌহিদ

#
news image

পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন আজ বলেছেন, লাখ লাখ প্রবাসীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকার বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে বিশেষ করে কনস্যুলেট জেনারেল অফিসগুলোতে জনবল বৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মানবসম্পদ বাড়ানোর প্রচেষ্টা শুরু করেছি, বিশেষ করে আমাদের কনস্যুলার পদগুলোতে। আশা করছি এই প্রচেষ্টায় অন্তত আংশিক সাফল্য পাব।’

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ফরেন সার্ভিস ডে-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।

হোসেন বলেন, বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন তার প্রায় ৮০ শতাংশ তাদের অভিবাসনের আগে দেশের ভেতরে এবিষয়ক কার্যক্রম থেকে আসে, বাকি ২০ শতাংশ অভিবাসী দেশে ঘটে।

‘তবুও, বিদেশে আমাদের মিশনগুলোকে সম্পূর্ণ ১০০ শতাংশ সমস্যার সমাধান করতে হবে’ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বিদেশী মিশনের উপর চাপ কমাতে দেশে মূল কারণগুলো সমাধানের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, সীমিত জনবল এবং লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ মিশনগুলো বিশ্বব্যাপী এক কোটিরও বেশি প্রবাসীকে পরিষেবা প্রদান করছে।

সৌদি আরবের উদাহরণ টেনে উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরবে প্রায় ৩২ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি মিশনের ৫০ জন কর্মকর্তা কীভাবে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমস্যা সামাল দিতে পারেন?

অভিবাসী শ্রমিকরা দেশ ছাড়ার আগেই যে পদ্ধতিগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তা কমাতে ঢাকায় উদ্যোগ নিতে তিনি আহ্বান জানান।

কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও বেশি সহানুভূতি জানানোর আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রবাসীরা ইচ্ছা করে মিশনে (কনস্যুলেট) যান না। বেশিরভাগই মরিয়া হয়ে আসেন। যদিও কয়েকজন ভালো আচরণ নাও করতে পারে, তবে বেশিরভাগের সহায়তার গুরুতর প্রয়োজন হয়। 

তিনি বিদেশে মিশনের কর্মকর্তাদের দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের উল্লেখযোগ্য অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের সেবা করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সংকটের কথাও উল্লেখ করে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানকে ‘দ্বিধাগ্রস্ততা’ হিসেবে অবহিত করেন।

তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মিকে এই অগ্রগতির পথে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন।

উপদেষ্টা বলেন, আরাকান আর্মি রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত নয়, তাই আনুষ্ঠানিক আলোচনা সম্ভব নয়। তবুও, কোনও না কোনওভাবে তাদের সম্পৃক্ত না করে সংকটের সমাধান অসম্ভব।’

হোসেন জোর দিয়ে বলেন, স্বীকৃতি না পেলেও রাখাইনে আরাকান আর্মির উপস্থিতি ও প্রভাব রোহিঙ্গা সংকটের যেকোনো সামগ্রিক সমাধানে তাদের ভূমিকা অনিবার্য করে তুলেছে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে স্মরণ করে প্রতি বছর ১৮ এপ্রিল ফরেন সার্ভিস দিবস পালন করা হয়, তৎকালীন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে কর্মরত একদল সাহসী বাঙালি কূটনীতিক প্রথম বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন।

পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন এবং বেশ কয়েকজন সাবেক বাংলাদেশী কূটনীতিকও দিনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

তাদের সাহসী পদক্ষেপ জাতির স্বাধীনতার দিকে যাত্রায় একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল এবং যা একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছে।

এই দিনটি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের স্বার্থকে এগিয়ে নিতে দেশের কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সাহস, প্রতিশ্রুতি ও পেশাগত উৎকর্ষতার প্রতীক।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

১৯ এপ্রিল, ২০২৫,  1:06 AM

news image

পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন আজ বলেছেন, লাখ লাখ প্রবাসীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকার বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে বিশেষ করে কনস্যুলেট জেনারেল অফিসগুলোতে জনবল বৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মানবসম্পদ বাড়ানোর প্রচেষ্টা শুরু করেছি, বিশেষ করে আমাদের কনস্যুলার পদগুলোতে। আশা করছি এই প্রচেষ্টায় অন্তত আংশিক সাফল্য পাব।’

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ফরেন সার্ভিস ডে-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।

হোসেন বলেন, বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন তার প্রায় ৮০ শতাংশ তাদের অভিবাসনের আগে দেশের ভেতরে এবিষয়ক কার্যক্রম থেকে আসে, বাকি ২০ শতাংশ অভিবাসী দেশে ঘটে।

‘তবুও, বিদেশে আমাদের মিশনগুলোকে সম্পূর্ণ ১০০ শতাংশ সমস্যার সমাধান করতে হবে’ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বিদেশী মিশনের উপর চাপ কমাতে দেশে মূল কারণগুলো সমাধানের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, সীমিত জনবল এবং লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ মিশনগুলো বিশ্বব্যাপী এক কোটিরও বেশি প্রবাসীকে পরিষেবা প্রদান করছে।

সৌদি আরবের উদাহরণ টেনে উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরবে প্রায় ৩২ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি মিশনের ৫০ জন কর্মকর্তা কীভাবে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমস্যা সামাল দিতে পারেন?

অভিবাসী শ্রমিকরা দেশ ছাড়ার আগেই যে পদ্ধতিগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তা কমাতে ঢাকায় উদ্যোগ নিতে তিনি আহ্বান জানান।

কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও বেশি সহানুভূতি জানানোর আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রবাসীরা ইচ্ছা করে মিশনে (কনস্যুলেট) যান না। বেশিরভাগই মরিয়া হয়ে আসেন। যদিও কয়েকজন ভালো আচরণ নাও করতে পারে, তবে বেশিরভাগের সহায়তার গুরুতর প্রয়োজন হয়। 

তিনি বিদেশে মিশনের কর্মকর্তাদের দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের উল্লেখযোগ্য অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের সেবা করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সংকটের কথাও উল্লেখ করে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানকে ‘দ্বিধাগ্রস্ততা’ হিসেবে অবহিত করেন।

তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মিকে এই অগ্রগতির পথে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন।

উপদেষ্টা বলেন, আরাকান আর্মি রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত নয়, তাই আনুষ্ঠানিক আলোচনা সম্ভব নয়। তবুও, কোনও না কোনওভাবে তাদের সম্পৃক্ত না করে সংকটের সমাধান অসম্ভব।’

হোসেন জোর দিয়ে বলেন, স্বীকৃতি না পেলেও রাখাইনে আরাকান আর্মির উপস্থিতি ও প্রভাব রোহিঙ্গা সংকটের যেকোনো সামগ্রিক সমাধানে তাদের ভূমিকা অনিবার্য করে তুলেছে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে স্মরণ করে প্রতি বছর ১৮ এপ্রিল ফরেন সার্ভিস দিবস পালন করা হয়, তৎকালীন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে কর্মরত একদল সাহসী বাঙালি কূটনীতিক প্রথম বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন।

পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন এবং বেশ কয়েকজন সাবেক বাংলাদেশী কূটনীতিকও দিনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

তাদের সাহসী পদক্ষেপ জাতির স্বাধীনতার দিকে যাত্রায় একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল এবং যা একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছে।

এই দিনটি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের স্বার্থকে এগিয়ে নিতে দেশের কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সাহস, প্রতিশ্রুতি ও পেশাগত উৎকর্ষতার প্রতীক।