প্রতিদিন হাজারো রোহিঙ্গা ঢুকছে, ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে
কক্সবাজার প্রতিনিধি :
০২ মে, ২০২৫, 10:43 PM
প্রতিদিন হাজারো রোহিঙ্গা ঢুকছে, ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অস্থিতিশীলতার অজুহাতে নতুন করে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বেড়েছে। প্রতিদিন কয়েক কিস্তিতে হাজারো রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকছে বাংলাদেশে। এরপর নজরদারি এড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে।
ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এমন বেশ কিছু ভিডিও। নদীপথে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা দিয়ে ঢুকে চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। ভাষাগত সাদৃশ্য থাকার সুবাদে চট্টগ্রাম তাদের প্রথম পছন্দ।
গত এপ্রিলে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবার। তারা জানান, আরাকান আর্মির আর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর তাণ্ডবে তারা দেশ ছেড়েছেন। মিয়ানমারের সেনাদের চেয়েও ভয়ঙ্কর আরাকান আর্মি। তারা তরুণ-তরুণীদের জিম্মি করে নির্মাণ কাজে বাধ্য করছে, রোহিঙ্গা বসতিতে আগুন দিচ্ছে এবং সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। খুন-ধর্ষণ চলছে দেদারসে।
দায়িত্বশীল একাধিক সংস্থার দাবি দাবি, গত এক বছরে অন্তত ১ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। যারা আশ্রয় নিয়েছে ক্যাম্পগুলোতে্ সেখানে স্থান সংকুলানের অভাবে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে নতুন শরণার্থীদের।
তবে সীমান্ত সংলগ্ন স্থানীয়দের মতে, অন্তত ৩ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকেছে গত ৬ মাসে। যাদের বড় অংশই ক্যাম্প ছেড়ে বেরিয়ে গেছে এবং ছড়িয়ে গেছে সারাদেশে।
এদিকে, রোহিঙ্গা শিবিরে স্থান ও খাদ্যাভাবের পাশাপাশি বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, রাখাইনের নতুন দখলদাররা রোহিঙ্গাদের মাদক ও চোরাচালানে বাধ্য করছে। এসব ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে।
বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে এবং মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে কেউ ছাড় পাচ্ছে না।
একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আরাকানে শুধুমাত্র জাতিগত নির্যাতন-নিপীড়নের জন্যই রোহিঙ্গাদের সরানো হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। ভূ-রাজনৈতিক কারণে এই অঞ্চলে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড তৈরির অংশ হিসেবেই এ কাজটি করা হচ্ছে। যার বলি হচ্ছে সাধারণ রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে, টেকনাফ সীমান্ত থেকে এখনও মিয়ানমারের ভেতরে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে আগুনের ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দ্রুত সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
কক্সবাজার প্রতিনিধি :
০২ মে, ২০২৫, 10:43 PM
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অস্থিতিশীলতার অজুহাতে নতুন করে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বেড়েছে। প্রতিদিন কয়েক কিস্তিতে হাজারো রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকছে বাংলাদেশে। এরপর নজরদারি এড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে।
ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এমন বেশ কিছু ভিডিও। নদীপথে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা দিয়ে ঢুকে চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। ভাষাগত সাদৃশ্য থাকার সুবাদে চট্টগ্রাম তাদের প্রথম পছন্দ।
গত এপ্রিলে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবার। তারা জানান, আরাকান আর্মির আর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর তাণ্ডবে তারা দেশ ছেড়েছেন। মিয়ানমারের সেনাদের চেয়েও ভয়ঙ্কর আরাকান আর্মি। তারা তরুণ-তরুণীদের জিম্মি করে নির্মাণ কাজে বাধ্য করছে, রোহিঙ্গা বসতিতে আগুন দিচ্ছে এবং সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। খুন-ধর্ষণ চলছে দেদারসে।
দায়িত্বশীল একাধিক সংস্থার দাবি দাবি, গত এক বছরে অন্তত ১ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। যারা আশ্রয় নিয়েছে ক্যাম্পগুলোতে্ সেখানে স্থান সংকুলানের অভাবে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে নতুন শরণার্থীদের।
তবে সীমান্ত সংলগ্ন স্থানীয়দের মতে, অন্তত ৩ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকেছে গত ৬ মাসে। যাদের বড় অংশই ক্যাম্প ছেড়ে বেরিয়ে গেছে এবং ছড়িয়ে গেছে সারাদেশে।
এদিকে, রোহিঙ্গা শিবিরে স্থান ও খাদ্যাভাবের পাশাপাশি বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, রাখাইনের নতুন দখলদাররা রোহিঙ্গাদের মাদক ও চোরাচালানে বাধ্য করছে। এসব ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে।
বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে এবং মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে কেউ ছাড় পাচ্ছে না।
একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আরাকানে শুধুমাত্র জাতিগত নির্যাতন-নিপীড়নের জন্যই রোহিঙ্গাদের সরানো হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। ভূ-রাজনৈতিক কারণে এই অঞ্চলে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড তৈরির অংশ হিসেবেই এ কাজটি করা হচ্ছে। যার বলি হচ্ছে সাধারণ রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে, টেকনাফ সীমান্ত থেকে এখনও মিয়ানমারের ভেতরে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে আগুনের ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দ্রুত সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।