ঢাকা ১১ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

বদরগঞ্জে চিকলী নদীর ভাংড়িরঘাটে ব্রিজ না-হওয়ায় হাজারো মানুষের ভোগান্তি

#
news image

স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও পৌরশহরের চিকলী নদীর ভাংড়িরঘাটে ব্রিজ না হওয়ায় সাঁকো দিয়ে পারাপার হাজারও মানুষের ক্ষোভ, ব্রিজ নির্মাণের দাবী।’ আ.লীগের দুই নেতার কোন্দলে চিকলী নদীর ভাংড়িরঘাটে হয়নি ব্রিজ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ভোটের আগে‘ "একজন কচিল পুল না হইলে বিয়াও কইরব্যার নাও"। আরেকজনের তোকনে দিনের ভোট আইতোত থ্যাববানু তাও পুলখ্যান হইলনা।’ এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের শেখেরহাট এলাকার স’মিল মালিক নাজমুল হোসেন। কারণ কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে এলাকাবাসীর ভোট নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সেসময় তিনি লোকজনকে এ বলে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তিনি ব্রিজ দিতে না পারলে কখনোই বিয়ে করবেন না। এরপর ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা ডিউক চৌধুরী একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও আওয়ামীলীগসহ তার বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। তবে তারা নির্বাচিত হওয়ার পর কথা রাখেননি। আর একারণেই ক্ষোভে ফুঁসছেন স’মিল মালিক নাজমুল। শুধুমাত্র নাজমুল নন ব্রিজ না হওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দামোদরপুর ইউনিয়নের সকলেই।

জানাযায়, দামোরদরপুর ইউনিয়ন নদীবেষ্টিত এলাকা । যমুনেশ্বরী, চিকলী, আখিরা খালসহ বিভিন্ন নদী-নালা ওই ইউনিয়নকে নানাভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। একারণে ওই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের প্রকৃতির সাথে অনেকটা যুদ্ধ করেই বেঁচে থাকতে হয়। তবে ওইসব নদীর দু’ একটি জায়গায় ব্রিজ হলেও ভাংড়ির ঘাটে আজ পর্যন্ত ব্রিজ নির্মিত হয়নি। অথচ শত প্রতিকুলতার মাঝেও ভাংড়িরঘাট দিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার করেন দামোদরপুর ইউনিয়নসহ তারাগঞ্জ ও নীলফামারির কিশোরগঞ্জ উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। স্বাধীনতার পর থেকে এসব এলাকার মানুষ ভাংড়ির ঘাটে ব্রিজ নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসলেও কোন কাজ হয়নি। বরং ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বার বার জনগণের ভোট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন নেতারা। এরপর তারা ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি ভুলে গেছেন। ফলে আজো এসব এলাকার মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিন এলাকা পরিদর্শণকালে কথা হয় শেখেরহাট ব্যাপারীপাড়ার ব্যবসায়ী রোমান আলীর সাথে। তিনি বলেন, শুকনো মওসুমে দুর্ভোগ থাকলেও বাঁশের সাঁকো দিয়ে তবুও মালামাল পারাপার করা সম্ভব হয়। কিন্তু বর্ষা মওসুমে তা’ আর সম্ভব হয়না। তখন ১০ কিলোমিটার ঘুরে শহরে ঢুকতে হয়। মোস্তফাপুর এলাকার গুদামপাড়ার ফনি চন্দ্র দাস বলেন, অন্যান্য পাড়ার লোকজনের চেয়ে আমাদের পাড়ার লোকজনের ভোগান্তি সচচেয়ে বেশি। কারণ আমাদের পাড়াকে আরো একটি নদী বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ওই নদী পার হয়ে তারপর এ নদীর পাড়ে আসতে হয়। তিনি বলেন, বর্ষা মওসুমে কেউ অসুস্থ হলে কিংবা ছোট ছোট ছেলেমেয়ে স্কুলে যেতে চাইলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শেখেরহাটের রেজাউল হক বলেন, বদরগঞ্জ-শেখেরহাট সড়কটি শুধু ইউনিয়ন-উপজেলা সংযোগ সড়ক নয়। এটি নীলফামারির কিশোরগঞ্জ উপজেলার সাথেও সরাসরি সংযুক্ত। কিন্তু এ বিষয়টি জেনেও নেতারা কেন ব্রিজটি নির্মাণ করেননা তা’ অজানা। মোস্তফাপুর এলাকার শিঙ্গিমারীর বাসিন্দা সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন, ভাংড়ির ঘাটে ব্রিজ না থাকায় বদরগঞ্জ শহরে যেতে প্রত্যেক মানুষকে মোস্তফাপুরে অপেক্ষা করতে হয়। অথচ ব্রিজটি হলে বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জসহ নীলফামারির কিশোরগঞ্জে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ঘাট ইজারাদার আফজাল হোসেন বলেন, জন্মের পর থেকে শুনি ভাংড়ির ঘাটে ব্রিজ হবে।

কিন্তু বৃদ্ধ বয়সেও তা’ আর দেখা হলনা। ভবিষ্যতে ব্রিজটি দেখতে পাব কিনা তাও জানিনা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধুমাত্র নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণে ভাংড়ির ঘাটে আজো ব্রিজ হয়নি। কারণ মোস্তফাপুরে কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটুর বাড়ি। তার সাথে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। তিনি আওয়ামীলীগ নেতা ডিউক চৌধুরীকে হারিয়ে একবার উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। এমনকি সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামীলীগের প্রার্থী ডিউক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মূলতঃ কৃষকলীগ নেতা বিটুর কারণেই ব্রিজটি নির্মাণ করেননি তৎকালিণ আওয়ামীলীগ সংসদ সদস্য ডিউক চৌধুরী।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বদরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হেনা মোরশেদ আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। পৌর প্রশাসক ভালো বলতে পারবেন। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) ব্রিজ নির্মাণের জন্য টেণ্ডার আহবান করেছে। সেটি ইভ্যালুয়েশন পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণ ঠিকাদারীর বিষয়ে এখনো কোন ডিসিশান হয়নি। 

সবুজ আহম্মেদ, বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ

২০ মে, ২০২৫,  5:28 AM

news image

স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও পৌরশহরের চিকলী নদীর ভাংড়িরঘাটে ব্রিজ না হওয়ায় সাঁকো দিয়ে পারাপার হাজারও মানুষের ক্ষোভ, ব্রিজ নির্মাণের দাবী।’ আ.লীগের দুই নেতার কোন্দলে চিকলী নদীর ভাংড়িরঘাটে হয়নি ব্রিজ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ভোটের আগে‘ "একজন কচিল পুল না হইলে বিয়াও কইরব্যার নাও"। আরেকজনের তোকনে দিনের ভোট আইতোত থ্যাববানু তাও পুলখ্যান হইলনা।’ এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের শেখেরহাট এলাকার স’মিল মালিক নাজমুল হোসেন। কারণ কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে এলাকাবাসীর ভোট নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সেসময় তিনি লোকজনকে এ বলে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তিনি ব্রিজ দিতে না পারলে কখনোই বিয়ে করবেন না। এরপর ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা ডিউক চৌধুরী একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও আওয়ামীলীগসহ তার বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। তবে তারা নির্বাচিত হওয়ার পর কথা রাখেননি। আর একারণেই ক্ষোভে ফুঁসছেন স’মিল মালিক নাজমুল। শুধুমাত্র নাজমুল নন ব্রিজ না হওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দামোদরপুর ইউনিয়নের সকলেই।

জানাযায়, দামোরদরপুর ইউনিয়ন নদীবেষ্টিত এলাকা । যমুনেশ্বরী, চিকলী, আখিরা খালসহ বিভিন্ন নদী-নালা ওই ইউনিয়নকে নানাভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। একারণে ওই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের প্রকৃতির সাথে অনেকটা যুদ্ধ করেই বেঁচে থাকতে হয়। তবে ওইসব নদীর দু’ একটি জায়গায় ব্রিজ হলেও ভাংড়ির ঘাটে আজ পর্যন্ত ব্রিজ নির্মিত হয়নি। অথচ শত প্রতিকুলতার মাঝেও ভাংড়িরঘাট দিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার করেন দামোদরপুর ইউনিয়নসহ তারাগঞ্জ ও নীলফামারির কিশোরগঞ্জ উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। স্বাধীনতার পর থেকে এসব এলাকার মানুষ ভাংড়ির ঘাটে ব্রিজ নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসলেও কোন কাজ হয়নি। বরং ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বার বার জনগণের ভোট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন নেতারা। এরপর তারা ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি ভুলে গেছেন। ফলে আজো এসব এলাকার মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিন এলাকা পরিদর্শণকালে কথা হয় শেখেরহাট ব্যাপারীপাড়ার ব্যবসায়ী রোমান আলীর সাথে। তিনি বলেন, শুকনো মওসুমে দুর্ভোগ থাকলেও বাঁশের সাঁকো দিয়ে তবুও মালামাল পারাপার করা সম্ভব হয়। কিন্তু বর্ষা মওসুমে তা’ আর সম্ভব হয়না। তখন ১০ কিলোমিটার ঘুরে শহরে ঢুকতে হয়। মোস্তফাপুর এলাকার গুদামপাড়ার ফনি চন্দ্র দাস বলেন, অন্যান্য পাড়ার লোকজনের চেয়ে আমাদের পাড়ার লোকজনের ভোগান্তি সচচেয়ে বেশি। কারণ আমাদের পাড়াকে আরো একটি নদী বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ওই নদী পার হয়ে তারপর এ নদীর পাড়ে আসতে হয়। তিনি বলেন, বর্ষা মওসুমে কেউ অসুস্থ হলে কিংবা ছোট ছোট ছেলেমেয়ে স্কুলে যেতে চাইলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শেখেরহাটের রেজাউল হক বলেন, বদরগঞ্জ-শেখেরহাট সড়কটি শুধু ইউনিয়ন-উপজেলা সংযোগ সড়ক নয়। এটি নীলফামারির কিশোরগঞ্জ উপজেলার সাথেও সরাসরি সংযুক্ত। কিন্তু এ বিষয়টি জেনেও নেতারা কেন ব্রিজটি নির্মাণ করেননা তা’ অজানা। মোস্তফাপুর এলাকার শিঙ্গিমারীর বাসিন্দা সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন, ভাংড়ির ঘাটে ব্রিজ না থাকায় বদরগঞ্জ শহরে যেতে প্রত্যেক মানুষকে মোস্তফাপুরে অপেক্ষা করতে হয়। অথচ ব্রিজটি হলে বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জসহ নীলফামারির কিশোরগঞ্জে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ঘাট ইজারাদার আফজাল হোসেন বলেন, জন্মের পর থেকে শুনি ভাংড়ির ঘাটে ব্রিজ হবে।

কিন্তু বৃদ্ধ বয়সেও তা’ আর দেখা হলনা। ভবিষ্যতে ব্রিজটি দেখতে পাব কিনা তাও জানিনা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধুমাত্র নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণে ভাংড়ির ঘাটে আজো ব্রিজ হয়নি। কারণ মোস্তফাপুরে কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটুর বাড়ি। তার সাথে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। তিনি আওয়ামীলীগ নেতা ডিউক চৌধুরীকে হারিয়ে একবার উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। এমনকি সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামীলীগের প্রার্থী ডিউক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মূলতঃ কৃষকলীগ নেতা বিটুর কারণেই ব্রিজটি নির্মাণ করেননি তৎকালিণ আওয়ামীলীগ সংসদ সদস্য ডিউক চৌধুরী।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বদরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হেনা মোরশেদ আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। পৌর প্রশাসক ভালো বলতে পারবেন। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) ব্রিজ নির্মাণের জন্য টেণ্ডার আহবান করেছে। সেটি ইভ্যালুয়েশন পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণ ঠিকাদারীর বিষয়ে এখনো কোন ডিসিশান হয়নি।