ঢাকা ১১ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

প্রেম রূপাকে বানিয়েছেন বদ্ধ উন্মাদ

#
news image

প্রেমে সৃষ্টি জগত সংসার, সৃষ্টি আদম হাওয়া সেই প্রেমেরই দেখা পাইলে হইতো সবই পাওয়া। প্রেমে স্বর্গ প্রেমই নরক প্রেমে বাঁচা মরা, প্রেম কইরো না দেহের সঙ্গে আত্মার সনে ছাড়া। আব্দুল আলীমের বিক্ষাত এই গানের মত রুপার জীবনে এক সময় সব পেয়েও আবার সব হারিয়েছেন। রুপার জীবনে প্রেম একসময় স্বর্গ হলেও এখন সেই প্রেমই যেন এক নরক হয়ে উঠেছে।সেই প্রেমের কারণে রুপা আজ বদ্ধ উন্মাদ। রুপার বেড়ে ওঠা সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তার মায়াবী অপূর্ব চেহারা, চালচলন, কথাবার্তা, আচার-আচরণে মুগ্ধ হতেন যে কেউ। শুধু চেহারা নয়, বিভিন্ন রকম প্রতিভায় পরিপূর্ণ ছিলেন তিনি। নাচ, গান, কবিতা আবৃতিতে ছিলেন অতুলিনীয়। কিন্তু আজ এই করুণ দশার কারণ কি?

বলছিলাম বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়া রোকসানা বেগম রুপার কথা। বাবা ছিলেন সরকারী কর্মকর্তা। বাবার আদরের মেয়ে হওয়ায় রূপার চালচলনেও ছিল চাকচিক্য। রূপ আর গুণের কারণে তার প্রেমে পড়েছে অনেক যুবক। রূপাও অল্প বয়সেই ধরা দেন প্রেমের জালে। পরিবারের অবাধ্য হয়ে ৭ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় প্রেমিকের সাথে ঘর বাঁধেন রূপা। কিন্তু সেই প্রেমই রূপাকে বানিয়েছেন বদ্ধ উন্মাদ।

বিয়ের কিছুদিন যেতেই প্রেমিক স্বামী জড়িয়ে পড়ে অপরাধে। তার অপরাধের কারণে জেলে জেতে হয় তাকে। আর এ সুযোগে রূপার বাবা স্বামীর বাড়ি থেকে এনে স্বামী তালাক করতে বাধ্য করেন রূপাকে। এর পরও রূপার ভালোবাসা কমে নাই। মাঝে মধ্যেই পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাজশাহী জেলখানাতে যেতেন স্বামীকে দেখতে। রূপার বিশ্বাস ছিলো স্বামী এসে আবারও গ্রহণ করবে তাকে।

কিন্তু তা আর হয় নি। রূপা বরাবরের মতোই এক পরন্ত বিকেলে বাসার ছাদে বসে ছিলেন। এ সময় বাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল এক বিবাহের অনুষ্ঠানের গাড়ীবহর ( অনেক গুলো গাড়ি)। রূপা লক্ষ্য করেন তার প্রেমিক বিয়ে করে নিয়ে যাচ্ছেন নববধুকে নিয়ে। এমন সময় তার বাসার নিচেই ফোটে একটি পটকা। পটকার বিকট আওয়াজে স্তম্ভিত হয় রূপা। দৌড়ে প্রবেশ করেন বাসার একটি রুমে। সেই রুমেই ছিলেন টানা তিন মাস। এর পর থেকে রূপা মানসিক ভারসাম্যহীন।

রুপা এখন একা ।নেই তার পরিবারের কোনো সদস্য। খোঁজ নিয়ে জানা যায় রুপার পরিবারের সবাই প্রায় মৃত।

রূপা এখন থাকেন খোলা আকাশের নিচে। তার খোঁজ খবর রাখেন না কেউ। বেঁচে আছেন অন্যের দয়ার উপর।

রুপার বান্ধবী সাথী আক্তার বলেন, রুপা খুব ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান ছিল। সব সময় রুপার কাছে তখন ২০০/৪০০ টাকা থাকতো। তাই বন্ধুও ছিল অনেক। রুপা পড়াশোনার পাশাপাশি অনেক প্রতিভার অধিকারী ছিল। সময়ের সাথে সাথে আজ রুপা একাকী খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় রুপাকে দুইবেলা খাবার এবং মাঝে মাঝে দেখাশোনা করেন নিলুফা নামের এক গরীব মহিলা। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি গরীব মানুষ।তার (রুপা) তো কেউ নেই। খাবার দেন আল্লাহ। আমার মাধ্যমে তার কাছে খাবার আল্লাহ পৌঁছে দিচ্ছে এটাই আলহামদুলিল্লাহ। আমার কাছে রুপা কোন ভারি বোঝা নয়। রুপার জীবনের বাকি সময় হয়তো কেটে যাবে এমন খোলা আকাশের নিচেই। প্রেম ঘরছাড়া করে আবার ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে। আবার কোন প্রেমের জন্য মানুষ হয়তো পৃথিবী ছাড়ে। এমন প্রেম সচরাচর দেখা যায় নাটক কিংবা সিনেমার গল্পে। কিন্তু রুপার মতো প্রেম রয়ে যায় লোক চক্ষুর আড়ালে। এভাবে খোলা আকাশের নীচে রোদ বৃষ্টি আর হার কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে দিন কেটে যাচ্ছে রুপার। আর হয়তো রুপার সেই প্রেমিক আজ দিন পার করছে কোনো এসি রুমে। কোন একদিন নওগাঁ নওজোয়ান মাঠের এই খোলা আকাশের নিচেই হয়তো রুপার জীবনের অবসান ঘটবে ।জানবেনা কেউ, আর রুপার জীবনের ইতিহাস। রুপার প্রেমিকের মনে হয়তো রুপার জন্য আর কোনদিনই ভালোবাসার জন্ম নেয়নি।

তৌফিক তাপস, নওগাঁ :

২২ মে, ২০২৫,  7:57 PM

news image

প্রেমে সৃষ্টি জগত সংসার, সৃষ্টি আদম হাওয়া সেই প্রেমেরই দেখা পাইলে হইতো সবই পাওয়া। প্রেমে স্বর্গ প্রেমই নরক প্রেমে বাঁচা মরা, প্রেম কইরো না দেহের সঙ্গে আত্মার সনে ছাড়া। আব্দুল আলীমের বিক্ষাত এই গানের মত রুপার জীবনে এক সময় সব পেয়েও আবার সব হারিয়েছেন। রুপার জীবনে প্রেম একসময় স্বর্গ হলেও এখন সেই প্রেমই যেন এক নরক হয়ে উঠেছে।সেই প্রেমের কারণে রুপা আজ বদ্ধ উন্মাদ। রুপার বেড়ে ওঠা সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তার মায়াবী অপূর্ব চেহারা, চালচলন, কথাবার্তা, আচার-আচরণে মুগ্ধ হতেন যে কেউ। শুধু চেহারা নয়, বিভিন্ন রকম প্রতিভায় পরিপূর্ণ ছিলেন তিনি। নাচ, গান, কবিতা আবৃতিতে ছিলেন অতুলিনীয়। কিন্তু আজ এই করুণ দশার কারণ কি?

বলছিলাম বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়া রোকসানা বেগম রুপার কথা। বাবা ছিলেন সরকারী কর্মকর্তা। বাবার আদরের মেয়ে হওয়ায় রূপার চালচলনেও ছিল চাকচিক্য। রূপ আর গুণের কারণে তার প্রেমে পড়েছে অনেক যুবক। রূপাও অল্প বয়সেই ধরা দেন প্রেমের জালে। পরিবারের অবাধ্য হয়ে ৭ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় প্রেমিকের সাথে ঘর বাঁধেন রূপা। কিন্তু সেই প্রেমই রূপাকে বানিয়েছেন বদ্ধ উন্মাদ।

বিয়ের কিছুদিন যেতেই প্রেমিক স্বামী জড়িয়ে পড়ে অপরাধে। তার অপরাধের কারণে জেলে জেতে হয় তাকে। আর এ সুযোগে রূপার বাবা স্বামীর বাড়ি থেকে এনে স্বামী তালাক করতে বাধ্য করেন রূপাকে। এর পরও রূপার ভালোবাসা কমে নাই। মাঝে মধ্যেই পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাজশাহী জেলখানাতে যেতেন স্বামীকে দেখতে। রূপার বিশ্বাস ছিলো স্বামী এসে আবারও গ্রহণ করবে তাকে।

কিন্তু তা আর হয় নি। রূপা বরাবরের মতোই এক পরন্ত বিকেলে বাসার ছাদে বসে ছিলেন। এ সময় বাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল এক বিবাহের অনুষ্ঠানের গাড়ীবহর ( অনেক গুলো গাড়ি)। রূপা লক্ষ্য করেন তার প্রেমিক বিয়ে করে নিয়ে যাচ্ছেন নববধুকে নিয়ে। এমন সময় তার বাসার নিচেই ফোটে একটি পটকা। পটকার বিকট আওয়াজে স্তম্ভিত হয় রূপা। দৌড়ে প্রবেশ করেন বাসার একটি রুমে। সেই রুমেই ছিলেন টানা তিন মাস। এর পর থেকে রূপা মানসিক ভারসাম্যহীন।

রুপা এখন একা ।নেই তার পরিবারের কোনো সদস্য। খোঁজ নিয়ে জানা যায় রুপার পরিবারের সবাই প্রায় মৃত।

রূপা এখন থাকেন খোলা আকাশের নিচে। তার খোঁজ খবর রাখেন না কেউ। বেঁচে আছেন অন্যের দয়ার উপর।

রুপার বান্ধবী সাথী আক্তার বলেন, রুপা খুব ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান ছিল। সব সময় রুপার কাছে তখন ২০০/৪০০ টাকা থাকতো। তাই বন্ধুও ছিল অনেক। রুপা পড়াশোনার পাশাপাশি অনেক প্রতিভার অধিকারী ছিল। সময়ের সাথে সাথে আজ রুপা একাকী খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় রুপাকে দুইবেলা খাবার এবং মাঝে মাঝে দেখাশোনা করেন নিলুফা নামের এক গরীব মহিলা। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি গরীব মানুষ।তার (রুপা) তো কেউ নেই। খাবার দেন আল্লাহ। আমার মাধ্যমে তার কাছে খাবার আল্লাহ পৌঁছে দিচ্ছে এটাই আলহামদুলিল্লাহ। আমার কাছে রুপা কোন ভারি বোঝা নয়। রুপার জীবনের বাকি সময় হয়তো কেটে যাবে এমন খোলা আকাশের নিচেই। প্রেম ঘরছাড়া করে আবার ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে। আবার কোন প্রেমের জন্য মানুষ হয়তো পৃথিবী ছাড়ে। এমন প্রেম সচরাচর দেখা যায় নাটক কিংবা সিনেমার গল্পে। কিন্তু রুপার মতো প্রেম রয়ে যায় লোক চক্ষুর আড়ালে। এভাবে খোলা আকাশের নীচে রোদ বৃষ্টি আর হার কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে দিন কেটে যাচ্ছে রুপার। আর হয়তো রুপার সেই প্রেমিক আজ দিন পার করছে কোনো এসি রুমে। কোন একদিন নওগাঁ নওজোয়ান মাঠের এই খোলা আকাশের নিচেই হয়তো রুপার জীবনের অবসান ঘটবে ।জানবেনা কেউ, আর রুপার জীবনের ইতিহাস। রুপার প্রেমিকের মনে হয়তো রুপার জন্য আর কোনদিনই ভালোবাসার জন্ম নেয়নি।