আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব নিয়ে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকরা
অনলাইন ডেস্ক
০৫ অক্টোবর, ২০২৪, 6:58 PM
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব নিয়ে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকরা
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব নিয়ে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকরা
রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি;
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে চলছে সনাতন ধর্মালম্বীদে দেবী দুর্গা বন্দনার প্রস্তুতি, এরই ধারাবাহিকতায় দেবী বন্দনার প্রস্তুতিতে মেতেছে ধর্মীয় সম্প্রীতির জেলা নেত্রকোনা। জেলার প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষে এখন চলছে শিল্পীর রংতুলির আঁকড়ে প্রতিমার সৌন্দর্য বর্ধণের কাজ। পাশাপাশি বর্ণিল সাজে সাজানো হচ্ছে প্রতিটি পূজামণ্ডপসহ আশপাশের এলাকা। সব মিলিয়ে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকরা।
আগামী ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয়
দুর্গোৎসব শুরু হয়ে ১৩ অক্টোবর বিজয় দশমীতে দেবীকে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব।
গত ২ অক্টোবর 'মহালয়া' অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ বছরের শারদ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। হিন্দু শাস্ত্রমতে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে, দেবী পক্ষের শুরুর তিথি এই মহালয়া। 'মহালয়া' তিথির ভোরে চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোকে (পৃথিবীতে) আমন্ত্রণ জানানো হয় দেবী দুর্গাকে আর এর মধ্য দিয়েই সূচনা হয় সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
জানা যায়, এ বছর নেত্রকোনা জেলায় মোট ৪৬৫টি পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলার দশটি উপজেলায় মোট ৫৬০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব হলেও এ বছর ৯৫টি কমে মোট ৪৬৫টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলার পৌর শহরে ৫৪টি, সদর উপজেলায় ৫১টি, বারহাট্টা উপজেলায় ৪৮টি, কেন্দুয়া উপজেলায় ৩৬টি, আটপাড়া উপজেলায় ৩৮টি, কলমাকান্দা উপজেলায় ৪৯টি, দুর্গাপুর উপজেলায় ৬৩টি, পূর্বধলা উপজেলায় ৪৮টি, মোহনগঞ্জ উপজেলায় ৩৪টি, মদন উপজেলায় ১২টি ও খালিয়াজুরী উপজেলায় ৩২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উৎযাপিত হচ্ছে।সরেজমিনে নেত্রকোনার কয়েকটি উপজেলার পূজা মন্ডপে গিয়ে দেখা গেছে, আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে- বরাবরের মতোই প্রস্তুতি চলছে প্রতিটি মণ্ডপে। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ, এখন চলছে রঙের কাজ।
বারহাট্টা সদরের গড়মা দুর্গাপূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ নন্দীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমাদের এলাকার হিন্দু -মুসলিম সবাই মিলেমিশে দুর্গাপূজার আনন্দ উপভোগ করি। আশা করছি, বরাবরের মতোই এবারও শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সকলে মিলেমিশে পূজা সম্পন্ন করতে পারব।জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন পন্ডিত বলেন, 'আমরা আশা করছি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দের মধ্য দিয়ে পূজা সম্পন্ন করতে পারব।' আমাদের মধ্যে কোনোদিন ধর্মীয় সম্প্রীতির ব্যত্যয় ঘটেনি আশাকরি এবারও ঘটবে না।
জেলার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানান, আসন্ন দুর্গাপূজায় নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি হিসেবে প্রত্যেকটি মণ্ডপে সিসিটিভির ব্যাবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও নিরাপত্তারক্ষী। পুলিশের পক্ষ থেকে মোবাইল টিম, স্ট্যান্ডিং ডিউটি ও ক্লাস্টার ব্যাসিসে পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত অন্যান্য সকল বাহিনীগুলোও সক্রিয় থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার। পূজা চলাকালীন সকল মণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য মাঠে সর্তক পাহারায় থাকবে পুলিশ, যাতে পূজায় অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা ঘটতে না পারে।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেয়া হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক
০৫ অক্টোবর, ২০২৪, 6:58 PM
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব নিয়ে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকরা
রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি;
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে চলছে সনাতন ধর্মালম্বীদে দেবী দুর্গা বন্দনার প্রস্তুতি, এরই ধারাবাহিকতায় দেবী বন্দনার প্রস্তুতিতে মেতেছে ধর্মীয় সম্প্রীতির জেলা নেত্রকোনা। জেলার প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষে এখন চলছে শিল্পীর রংতুলির আঁকড়ে প্রতিমার সৌন্দর্য বর্ধণের কাজ। পাশাপাশি বর্ণিল সাজে সাজানো হচ্ছে প্রতিটি পূজামণ্ডপসহ আশপাশের এলাকা। সব মিলিয়ে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকরা।
আগামী ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয়
দুর্গোৎসব শুরু হয়ে ১৩ অক্টোবর বিজয় দশমীতে দেবীকে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব।
গত ২ অক্টোবর 'মহালয়া' অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ বছরের শারদ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। হিন্দু শাস্ত্রমতে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে, দেবী পক্ষের শুরুর তিথি এই মহালয়া। 'মহালয়া' তিথির ভোরে চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোকে (পৃথিবীতে) আমন্ত্রণ জানানো হয় দেবী দুর্গাকে আর এর মধ্য দিয়েই সূচনা হয় সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
জানা যায়, এ বছর নেত্রকোনা জেলায় মোট ৪৬৫টি পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলার দশটি উপজেলায় মোট ৫৬০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব হলেও এ বছর ৯৫টি কমে মোট ৪৬৫টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলার পৌর শহরে ৫৪টি, সদর উপজেলায় ৫১টি, বারহাট্টা উপজেলায় ৪৮টি, কেন্দুয়া উপজেলায় ৩৬টি, আটপাড়া উপজেলায় ৩৮টি, কলমাকান্দা উপজেলায় ৪৯টি, দুর্গাপুর উপজেলায় ৬৩টি, পূর্বধলা উপজেলায় ৪৮টি, মোহনগঞ্জ উপজেলায় ৩৪টি, মদন উপজেলায় ১২টি ও খালিয়াজুরী উপজেলায় ৩২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উৎযাপিত হচ্ছে।সরেজমিনে নেত্রকোনার কয়েকটি উপজেলার পূজা মন্ডপে গিয়ে দেখা গেছে, আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে- বরাবরের মতোই প্রস্তুতি চলছে প্রতিটি মণ্ডপে। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ, এখন চলছে রঙের কাজ।
বারহাট্টা সদরের গড়মা দুর্গাপূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ নন্দীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমাদের এলাকার হিন্দু -মুসলিম সবাই মিলেমিশে দুর্গাপূজার আনন্দ উপভোগ করি। আশা করছি, বরাবরের মতোই এবারও শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সকলে মিলেমিশে পূজা সম্পন্ন করতে পারব।জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন পন্ডিত বলেন, 'আমরা আশা করছি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দের মধ্য দিয়ে পূজা সম্পন্ন করতে পারব।' আমাদের মধ্যে কোনোদিন ধর্মীয় সম্প্রীতির ব্যত্যয় ঘটেনি আশাকরি এবারও ঘটবে না।
জেলার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানান, আসন্ন দুর্গাপূজায় নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি হিসেবে প্রত্যেকটি মণ্ডপে সিসিটিভির ব্যাবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও নিরাপত্তারক্ষী। পুলিশের পক্ষ থেকে মোবাইল টিম, স্ট্যান্ডিং ডিউটি ও ক্লাস্টার ব্যাসিসে পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত অন্যান্য সকল বাহিনীগুলোও সক্রিয় থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার। পূজা চলাকালীন সকল মণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য মাঠে সর্তক পাহারায় থাকবে পুলিশ, যাতে পূজায় অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা ঘটতে না পারে।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেয়া হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে।