ঢাকা ১০ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

নেত্রকোনায় ফের বন্যার শঙ্কা

#
news image

নেত্রকোনায় ফের বন্যার শঙ্কা

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি;

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ৪টি উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, পূর্বধলা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এর আগে গত জুন-জুলাই মাসে দুই দফায় নেত্রকোনার ৭টি উপজেলা বন্যার কবলে পড়ে।জেলার  উব্ধাখালি নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। কংস নদের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার শঙ্কা জাগিয়েছে। এতে করে নদ-নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্জলগুলো প্লাবিত হয়েছে।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার তাতিয়র  গ্রামের বাসিন্দা শামসুল হক বলেন, নদীর পানি বাইরা আমরার গ্রামে পানি আইতে আরম্ভ অইয়া গেছে। বাড়ির কাছাকাছি আইয়া পড়ছে। কোনসময় যে বাড়ির ভিতরে ঢুইক্যা পড়ে কোন ঠিকঠিহানা নাই। যা ফসল লাগাইছিলাম সব অহন পানির তলে।দুর্গাপুর উপজেলার চারিয়া গ্রামের বাসিন্দা নীলাদ্রি শর্মা বলেন, টানা বৃষ্টিতে সোমেশ্বরী নদীর পানি এক তালে বেড়েই চলছে। এর আগে দুই দফায় বন্যা হয়েছে। যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে আমাদের বাড়িতে পানি ঢুকতে বেশি সময় লাগবে না। চারদিকে পানি আর পানি ফলে আমরা খুব দুর্ভোগের মধ্যে আছি।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যে সীমান্ত এলাকা গারো পাহাড়ি অঞ্চল দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের খুজিগড়া গ্রামের ভিতর দিয়ে ছোট পাহাড়ি নদী ডাব্রাস ও নেত্রী বয়ে গেছে। উজানের ঢলের পানি আর বৃষ্টিতে নদী দুইটির পানি উপচে খুজিগড়া ও বগাউড়া গ্রামে ঢুকে পড়ে। এতে করে সেখানের অনেক বাড়িতেও পানি ঢুকেছে।বগাউড়া গ্রামের এনজিওর কর্মী সন্তোষ হাজং বলেন, পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টির পানিতে আমাদের গ্রামের প্রায় ৩০-৪০ বাড়িতে পানি ঢুকেছে। বন্যা এখন বলতে গেলে সারা বছর লেগেই থাকে। কারণ নদীগুলো বালিতে ভরে গেছে। পানি ধরে রাখার ক্ষমতা কমে গেছে। এরই মাঝে এলাকার ৩২ শতাংশ ফসলি জমি বালিতে ঢাকা পড়ে গেছে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার সোমেশ্বরী, উব্দাখালী, কংশ, ও ধনু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ সোমবার  সকাল ১২ টার দিকে কংশ নদের পানি জারিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আগের দিন রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই নদীর পানি একই পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। সোমবার সকালের দিকে উব্দাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে রবিবার সন্ধ্যার দিকে পূর্বধলার জারিয়া ইউনিয়নে নাটেরকোনায় সাত কিলোমিটার বেড়িবাঁধের আনসার ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের অংশ ভেঙে গেছে। এতে পূর্বধলা ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পানি প্রবেশ করেছে। এর আগে বাঁধটির অনেক স্থানে পানি ছুঁই ছুঁই করায় বাঁধটি রক্ষায় আনসার সদস্য ও স্থানীয়রা বালুর বস্তা ও মাটি ফেলে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা ব্যর্থ হন। পূর্বধলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যার্তদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১১টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ১১৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় এক হাজার পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল  শিশুখাদ্য ও গোখাদ্যের জন্য নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক

০৭ অক্টোবর, ২০২৪,  7:42 PM

news image

নেত্রকোনায় ফের বন্যার শঙ্কা

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি;

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ৪টি উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, পূর্বধলা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এর আগে গত জুন-জুলাই মাসে দুই দফায় নেত্রকোনার ৭টি উপজেলা বন্যার কবলে পড়ে।জেলার  উব্ধাখালি নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। কংস নদের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার শঙ্কা জাগিয়েছে। এতে করে নদ-নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্জলগুলো প্লাবিত হয়েছে।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার তাতিয়র  গ্রামের বাসিন্দা শামসুল হক বলেন, নদীর পানি বাইরা আমরার গ্রামে পানি আইতে আরম্ভ অইয়া গেছে। বাড়ির কাছাকাছি আইয়া পড়ছে। কোনসময় যে বাড়ির ভিতরে ঢুইক্যা পড়ে কোন ঠিকঠিহানা নাই। যা ফসল লাগাইছিলাম সব অহন পানির তলে।দুর্গাপুর উপজেলার চারিয়া গ্রামের বাসিন্দা নীলাদ্রি শর্মা বলেন, টানা বৃষ্টিতে সোমেশ্বরী নদীর পানি এক তালে বেড়েই চলছে। এর আগে দুই দফায় বন্যা হয়েছে। যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে আমাদের বাড়িতে পানি ঢুকতে বেশি সময় লাগবে না। চারদিকে পানি আর পানি ফলে আমরা খুব দুর্ভোগের মধ্যে আছি।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যে সীমান্ত এলাকা গারো পাহাড়ি অঞ্চল দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের খুজিগড়া গ্রামের ভিতর দিয়ে ছোট পাহাড়ি নদী ডাব্রাস ও নেত্রী বয়ে গেছে। উজানের ঢলের পানি আর বৃষ্টিতে নদী দুইটির পানি উপচে খুজিগড়া ও বগাউড়া গ্রামে ঢুকে পড়ে। এতে করে সেখানের অনেক বাড়িতেও পানি ঢুকেছে।বগাউড়া গ্রামের এনজিওর কর্মী সন্তোষ হাজং বলেন, পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টির পানিতে আমাদের গ্রামের প্রায় ৩০-৪০ বাড়িতে পানি ঢুকেছে। বন্যা এখন বলতে গেলে সারা বছর লেগেই থাকে। কারণ নদীগুলো বালিতে ভরে গেছে। পানি ধরে রাখার ক্ষমতা কমে গেছে। এরই মাঝে এলাকার ৩২ শতাংশ ফসলি জমি বালিতে ঢাকা পড়ে গেছে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার সোমেশ্বরী, উব্দাখালী, কংশ, ও ধনু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ সোমবার  সকাল ১২ টার দিকে কংশ নদের পানি জারিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আগের দিন রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই নদীর পানি একই পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। সোমবার সকালের দিকে উব্দাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে রবিবার সন্ধ্যার দিকে পূর্বধলার জারিয়া ইউনিয়নে নাটেরকোনায় সাত কিলোমিটার বেড়িবাঁধের আনসার ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের অংশ ভেঙে গেছে। এতে পূর্বধলা ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পানি প্রবেশ করেছে। এর আগে বাঁধটির অনেক স্থানে পানি ছুঁই ছুঁই করায় বাঁধটি রক্ষায় আনসার সদস্য ও স্থানীয়রা বালুর বস্তা ও মাটি ফেলে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা ব্যর্থ হন। পূর্বধলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যার্তদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১১টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ১১৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় এক হাজার পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল  শিশুখাদ্য ও গোখাদ্যের জন্য নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।