ঢাকা ১১ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

পাঁচ বছরেও হয়নি রাস্তা, আম্ফানে বিলীন সড়ক এখনো সাঁকোই ভরসা

#
news image

খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের পশ্চিম হাজতখালী গ্রামের মানুষ এখনও স্বপ্ন দেখেন একটি পাকা রাস্তার। অথচ সেই স্বপ্নটা ছিল একেবারে স্বাভাবিক নাগরিক অধিকার। কিন্তু পাঁচ বছর আগে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বিধ্বস্ত হওয়া গ্রামের একমাত্র সড়কটি আজও মেরামত হয়নি। স্থানীয়দের জীবন এখনো বাঁশের সাঁকোর ওপর ঝুঁকির দোলনায় দুলছে।

পশ্চিম হাজতখালী গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে দেওয়ানখালি খাল। ২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যায় গ্রামের একমাত্র মাটির রাস্তা। সেই রাস্তা দিয়েই এক সময় শত শত মানুষ স্কুল, বাজার, মন্দিরসহ নানান প্রয়োজনে যাতায়াত করতেন। এখন ওই রাস্তার স্থানে কেবল খাল আর একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো।

এলাকাবাসী জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি ভেঙে পড়ে। তখন কোমরে পানি দিয়ে চলতে হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায়ই পড়ে যায় পানিতে। হিন্দু সম্প্রদায়ের দুটি উপাসনালয়—দুর্গা মন্দির ও হরি মন্দির—এই রাস্তার পাশেই। ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা পূজার সময় সাঁকো দিয়ে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আম্ফানের পরপরই স্থানীয় সরকার থেকে সাময়িকভাবে বাঁশের সাঁকো করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা বহুবার উপর মহলে জানিয়েছি, লিখিত আবেদন করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।”

সড়কটি নির্মিত হলে উপকার পাবে পশ্চিম হাজতখালী গ্রামের হাজারো মানুষ। শুধু স্কুলছাত্র আর পূজারী নয়, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আনতে গিয়ে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষক, দিনমজুর ও গৃহিণীদের।

পশ্চিম হাজতখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনুপ চক্রবর্তী বলেন, “প্রতিদিন শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসে। অনেক সময় পা ফসকে পড়ে যায়। এতে পড়াশোনায় অনীহা বাড়ছে। তাছাড়া অভিভাবকরাও সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান।”

স্থানীয়দের বক্তব্য, নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি মিললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তারা মনে করেন, তাদের এলাকার অবহেলা দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

তারিক লিটু, কয়রা (খুলনা) :

২৭ মে, ২০২৫,  7:55 AM

news image

খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের পশ্চিম হাজতখালী গ্রামের মানুষ এখনও স্বপ্ন দেখেন একটি পাকা রাস্তার। অথচ সেই স্বপ্নটা ছিল একেবারে স্বাভাবিক নাগরিক অধিকার। কিন্তু পাঁচ বছর আগে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বিধ্বস্ত হওয়া গ্রামের একমাত্র সড়কটি আজও মেরামত হয়নি। স্থানীয়দের জীবন এখনো বাঁশের সাঁকোর ওপর ঝুঁকির দোলনায় দুলছে।

পশ্চিম হাজতখালী গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে দেওয়ানখালি খাল। ২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যায় গ্রামের একমাত্র মাটির রাস্তা। সেই রাস্তা দিয়েই এক সময় শত শত মানুষ স্কুল, বাজার, মন্দিরসহ নানান প্রয়োজনে যাতায়াত করতেন। এখন ওই রাস্তার স্থানে কেবল খাল আর একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো।

এলাকাবাসী জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি ভেঙে পড়ে। তখন কোমরে পানি দিয়ে চলতে হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায়ই পড়ে যায় পানিতে। হিন্দু সম্প্রদায়ের দুটি উপাসনালয়—দুর্গা মন্দির ও হরি মন্দির—এই রাস্তার পাশেই। ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা পূজার সময় সাঁকো দিয়ে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আম্ফানের পরপরই স্থানীয় সরকার থেকে সাময়িকভাবে বাঁশের সাঁকো করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা বহুবার উপর মহলে জানিয়েছি, লিখিত আবেদন করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।”

সড়কটি নির্মিত হলে উপকার পাবে পশ্চিম হাজতখালী গ্রামের হাজারো মানুষ। শুধু স্কুলছাত্র আর পূজারী নয়, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আনতে গিয়ে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষক, দিনমজুর ও গৃহিণীদের।

পশ্চিম হাজতখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনুপ চক্রবর্তী বলেন, “প্রতিদিন শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসে। অনেক সময় পা ফসকে পড়ে যায়। এতে পড়াশোনায় অনীহা বাড়ছে। তাছাড়া অভিভাবকরাও সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান।”

স্থানীয়দের বক্তব্য, নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি মিললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তারা মনে করেন, তাদের এলাকার অবহেলা দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।