রাজশাহীতে পিতার বিরুদ্ধে মেয়ের বাড়ি দখল ও বৈদ্যুতিক চুরির অভিযোগ
খন্দকার মোহাম্মদ আলী, রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো চিফ :
২২ জুলাই, ২০২৫, 9:31 PM
রাজশাহীতে পিতার বিরুদ্ধে মেয়ের বাড়ি দখল ও বৈদ্যুতিক চুরির অভিযোগ
রাজশাহী নগরীতে নিজ কন্যার বাড়ি দখল করে চুরাই মিটার দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে জন্মদাতা পিতা মো. নাসিরুল ইসলাম রনজু (৫৫)-এর বিরুদ্ধে। বিষয়টি ঘিরে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) বিমানবন্দর বিভাগের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসৌজন্যমূলক আচরণেরও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মৌসুমী পারভীন ও তার স্বামী নাসির হোসেন জানান, নতুন বিলশিমলা এলাকার হোল্ডিং নম্বর ০২১৯/০১ এর তিনতলা ভবনটি মৌসুমীর নিজস্ব মালিকানাধীন। ২০১৯ সালে জনৈক শুকুর আলীর কাছ থেকে .০০৮২৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করে তাতে ভবন নির্মাণ করেন তিনি। দীর্ঘদিন সেখানেই বসবাস করছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালে মৌসুমীর পিতা নাসিরুল ইসলাম দ্বিতীয় স্ত্রীসহ নিচতলায় অবস্থান নিতে শুরু করেন এবং পরে এক পর্যায়ে মেয়ে ও জামাইকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
ঘটনার পর, মৌসুমীর নামে নিবন্ধিত বৈধ মিটার (নং: ২৯৫১১৫) সরিয়ে দিয়ে অন্য একটি মিটার (নং: ৬৭৫৮৯০) বসানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, নেসকোর মিটার রিডার বন্ধন (৩০), যিনি নাসিরুল ইসলামের আত্মীয়, তার যোগসাজশে এই মিটার পরিবর্তন হয়। মাসে মাত্র ৮৪ টাকা বিল দেখিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার চলছিল, যার অর্থ পরিশোধ করতেন মৌসুমী পারভীন, কারণ মিটারটি এখনো তার নামে।
মৌসুমী পারভীন বিষয়টি জানতে পেরে প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ নেসকোর বিমানবন্দর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে গেলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে অপমানজনক আচরণ করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকৌশলী বলেন, "জাল দলিল বানানো যায়, হোল্ডিং টাকায় হয় – এসব নিয়ে আমার সময় নেই।" এমন মন্তব্য একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পেশাদারিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের ঘাটতির পরিচয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ প্রসঙ্গে মিটার রিডার বন্ধন বলেন, "নাসিরুল ইসলাম আমার মামা হন। তার কথামতো মিটার বদলাই। পরে বুঝি, জমি ও বাড়ি আসলে তার মেয়ের নামে।" তিনি স্বীকার করেন, তার এই কাজে ভুল হয়েছে।
অবশেষে মৌসুমী পারভীন বাধ্য হয়ে রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং: ৯৪/০২-০৬-২০২৫) করেন। এর ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নেসকো নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে তারা যে অভিযোগ তুলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।আমরা ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।"
তবে নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে পরে জানান, "আমরা মিটার কেটে এনেছি। অফিসিয়াল নিয়মে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এরপর তিনি রেগে ফোন কেটে দেন।
স্থানীয় এক প্রতিবেশী সাহাবুল সরকার টুটুল বলেন, এই ঘটনাটি শুধু পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং নেসকোর একাংশের অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে বৈদ্যুতিক সম্পদ লুণ্ঠনের শঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরে। যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন একজন নারী, যিনি নিজের অধিকার আদায়ে বারবার ধরনা দিয়েও পাচ্ছেন না সঠিক প্রতিকার।
খন্দকার মোহাম্মদ আলী, রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো চিফ :
২২ জুলাই, ২০২৫, 9:31 PM
রাজশাহী নগরীতে নিজ কন্যার বাড়ি দখল করে চুরাই মিটার দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে জন্মদাতা পিতা মো. নাসিরুল ইসলাম রনজু (৫৫)-এর বিরুদ্ধে। বিষয়টি ঘিরে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) বিমানবন্দর বিভাগের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসৌজন্যমূলক আচরণেরও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মৌসুমী পারভীন ও তার স্বামী নাসির হোসেন জানান, নতুন বিলশিমলা এলাকার হোল্ডিং নম্বর ০২১৯/০১ এর তিনতলা ভবনটি মৌসুমীর নিজস্ব মালিকানাধীন। ২০১৯ সালে জনৈক শুকুর আলীর কাছ থেকে .০০৮২৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করে তাতে ভবন নির্মাণ করেন তিনি। দীর্ঘদিন সেখানেই বসবাস করছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালে মৌসুমীর পিতা নাসিরুল ইসলাম দ্বিতীয় স্ত্রীসহ নিচতলায় অবস্থান নিতে শুরু করেন এবং পরে এক পর্যায়ে মেয়ে ও জামাইকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
ঘটনার পর, মৌসুমীর নামে নিবন্ধিত বৈধ মিটার (নং: ২৯৫১১৫) সরিয়ে দিয়ে অন্য একটি মিটার (নং: ৬৭৫৮৯০) বসানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, নেসকোর মিটার রিডার বন্ধন (৩০), যিনি নাসিরুল ইসলামের আত্মীয়, তার যোগসাজশে এই মিটার পরিবর্তন হয়। মাসে মাত্র ৮৪ টাকা বিল দেখিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার চলছিল, যার অর্থ পরিশোধ করতেন মৌসুমী পারভীন, কারণ মিটারটি এখনো তার নামে।
মৌসুমী পারভীন বিষয়টি জানতে পেরে প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ নেসকোর বিমানবন্দর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে গেলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে অপমানজনক আচরণ করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকৌশলী বলেন, "জাল দলিল বানানো যায়, হোল্ডিং টাকায় হয় – এসব নিয়ে আমার সময় নেই।" এমন মন্তব্য একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পেশাদারিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের ঘাটতির পরিচয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ প্রসঙ্গে মিটার রিডার বন্ধন বলেন, "নাসিরুল ইসলাম আমার মামা হন। তার কথামতো মিটার বদলাই। পরে বুঝি, জমি ও বাড়ি আসলে তার মেয়ের নামে।" তিনি স্বীকার করেন, তার এই কাজে ভুল হয়েছে।
অবশেষে মৌসুমী পারভীন বাধ্য হয়ে রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং: ৯৪/০২-০৬-২০২৫) করেন। এর ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নেসকো নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে তারা যে অভিযোগ তুলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।আমরা ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।"
তবে নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে পরে জানান, "আমরা মিটার কেটে এনেছি। অফিসিয়াল নিয়মে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এরপর তিনি রেগে ফোন কেটে দেন।
স্থানীয় এক প্রতিবেশী সাহাবুল সরকার টুটুল বলেন, এই ঘটনাটি শুধু পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং নেসকোর একাংশের অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে বৈদ্যুতিক সম্পদ লুণ্ঠনের শঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরে। যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন একজন নারী, যিনি নিজের অধিকার আদায়ে বারবার ধরনা দিয়েও পাচ্ছেন না সঠিক প্রতিকার।
সম্পর্কিত