ঢাকা ১০ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

সার সংকটে দিশেহারা গোমস্তাপুরের আমন ধান চাষিরা

#
news image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার সাধারণ কৃষকরা চলতি আমন মৌসুমে ধান চাষ করে কাঙ্ক্ষিত রাসায়নিক সার না পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। তারা কী করবেন, কিভাবে চাষাবাদ চালিয়ে যাবেন—তা বুঝে উঠতে পারছেন না। কারো নিজের জমি, কেউ নিয়েছেন বর্গা, কেউবা করছেন তেভাগা ভিত্তিতে—প্রতিটা ক্ষেত্রেই ধানের ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না সার কৃষকরা অভিযোগ করছেন, সার সংগ্রহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। তারপরও মিলছে না নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরিয়া, টিএসপি কিংবা ডিএপি। ফলে ধানের সঠিক বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক মিষ্টু আলী বলেন, "রাত ৩টার সময় এসে সার ডিলারের লাইনে দাঁড়িয়েছি, দুপুর গড়িয়ে গেছে, এখনো বলা হচ্ছে—‘স্টক শেষ’। এইভাবে আমরা কীভাবে চাষ করবো ?"

বর্গাচাষি আশরাফুল ইসলাম জানান, "জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছি। টাকা ধার করে বীজ ও সেচ করেছি। এখন যদি সারের অভাবে ফলন না হয়, তাহলে দেনা শোধ করবো কীভাবে?"

তেভাগা ভিত্তিতে চাষ করা আরেক কৃষক সাদিকুল বলেন, "মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে ধান ফলাতে নেমেছি। এখন সার না পেলে তো ধানই হবে না। আমি কী ভাগ দিবো আর কী রাখবো?"

এরই মধ্যে অনেক ধান চাষী অভিযোগ করেছে বাগান ও পুকুরে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে সার সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে এগুলো তারা কৃষি অফিসের তদারকির জন্য দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়াও জানা যায় অনেক কৃষক বিঘা প্রতি এক বস্তা করে সার জমিতে ব্যবহার করছে, যেখানে কৃষি অফিসের ভাষ্যমতে বিঘা প্রতি  ২০- ২৫ কেজি সার এক বিঘা জমির চাষাবাদের জন্য যথেষ্ট কিন্তু এই মাত্রাতিরিক্ত সার ব্যবহার কারণে অনেকাংশে সারের সংকট হয়ে উঠছে। 

আবার অনেক কৃষক অভিযোগ করেছে  যে বরাদ্দ আসে, তা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। কিন্তু কিছু অসাধু লোক এই সুযোগে সার কালোবাজারে তুলছে, এটা সত্যি। প্রশাসন কঠোর হলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারে।"

এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন বলেন, "আমরা সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।আমারা বিভিন্ন এলাকায় সেমিনার করে কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহিত করছি। তবে রাসায়নিক সারের ঘাটতি মেটাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সারের সংকট কেটে যাবে। 

ভবিষ্যৎ শঙ্কা সচেতন মহলের অনেকে বলছেন, ধান উৎপাদনের মৌসুমে সার সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব শুধু কৃষকের ওপর নয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রান্তিক কৃষক ও দিনমজুর শ্রেণি।

গোমস্তাপুরের কৃষকরা আজ শুধুই ধান নয়, ভবিষ্যৎ জীবনধারণের জন্য লড়ছেন। সরকার যদি সময়মতো পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং কালোবাজার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আমন মৌসুমে ধানের ফলন ও কৃষকের জীবিকা—দুটোই চরম হুমকির মুখে পড়বে।

আনোয়ার হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :

১০ আগস্ট, ২০২৫,  12:44 AM

news image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার সাধারণ কৃষকরা চলতি আমন মৌসুমে ধান চাষ করে কাঙ্ক্ষিত রাসায়নিক সার না পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। তারা কী করবেন, কিভাবে চাষাবাদ চালিয়ে যাবেন—তা বুঝে উঠতে পারছেন না। কারো নিজের জমি, কেউ নিয়েছেন বর্গা, কেউবা করছেন তেভাগা ভিত্তিতে—প্রতিটা ক্ষেত্রেই ধানের ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না সার কৃষকরা অভিযোগ করছেন, সার সংগ্রহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। তারপরও মিলছে না নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরিয়া, টিএসপি কিংবা ডিএপি। ফলে ধানের সঠিক বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক মিষ্টু আলী বলেন, "রাত ৩টার সময় এসে সার ডিলারের লাইনে দাঁড়িয়েছি, দুপুর গড়িয়ে গেছে, এখনো বলা হচ্ছে—‘স্টক শেষ’। এইভাবে আমরা কীভাবে চাষ করবো ?"

বর্গাচাষি আশরাফুল ইসলাম জানান, "জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছি। টাকা ধার করে বীজ ও সেচ করেছি। এখন যদি সারের অভাবে ফলন না হয়, তাহলে দেনা শোধ করবো কীভাবে?"

তেভাগা ভিত্তিতে চাষ করা আরেক কৃষক সাদিকুল বলেন, "মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে ধান ফলাতে নেমেছি। এখন সার না পেলে তো ধানই হবে না। আমি কী ভাগ দিবো আর কী রাখবো?"

এরই মধ্যে অনেক ধান চাষী অভিযোগ করেছে বাগান ও পুকুরে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে সার সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে এগুলো তারা কৃষি অফিসের তদারকির জন্য দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়াও জানা যায় অনেক কৃষক বিঘা প্রতি এক বস্তা করে সার জমিতে ব্যবহার করছে, যেখানে কৃষি অফিসের ভাষ্যমতে বিঘা প্রতি  ২০- ২৫ কেজি সার এক বিঘা জমির চাষাবাদের জন্য যথেষ্ট কিন্তু এই মাত্রাতিরিক্ত সার ব্যবহার কারণে অনেকাংশে সারের সংকট হয়ে উঠছে। 

আবার অনেক কৃষক অভিযোগ করেছে  যে বরাদ্দ আসে, তা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। কিন্তু কিছু অসাধু লোক এই সুযোগে সার কালোবাজারে তুলছে, এটা সত্যি। প্রশাসন কঠোর হলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারে।"

এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন বলেন, "আমরা সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।আমারা বিভিন্ন এলাকায় সেমিনার করে কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহিত করছি। তবে রাসায়নিক সারের ঘাটতি মেটাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সারের সংকট কেটে যাবে। 

ভবিষ্যৎ শঙ্কা সচেতন মহলের অনেকে বলছেন, ধান উৎপাদনের মৌসুমে সার সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব শুধু কৃষকের ওপর নয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রান্তিক কৃষক ও দিনমজুর শ্রেণি।

গোমস্তাপুরের কৃষকরা আজ শুধুই ধান নয়, ভবিষ্যৎ জীবনধারণের জন্য লড়ছেন। সরকার যদি সময়মতো পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং কালোবাজার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আমন মৌসুমে ধানের ফলন ও কৃষকের জীবিকা—দুটোই চরম হুমকির মুখে পড়বে।