ঢাকা ১০ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০ শতাংশ শুল্ক নিশ্চিত করা সরকারের বড় সাফল্য : প্রেস সচিব

#
news image

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক ট্যারিফ আলোচনায় ২০ শতাংশ শুল্ক নিশ্চিত করাকে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। 

তিনি বলেছেন, এই আলোচনা ছিল সরকারের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করেছে।

শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটের ডেইলি স্টার ভবনে বাংলাদেশ ও ট্রাম্পের শুল্ক: বাণিজ্য ব্যবস্থা পরবর্তী বিশ্বের অর্থনৈতিক কূটনীতি শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ রিসার্চ এনালাইসিস এন্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেইন) গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। এতে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক  অধ্যাপক ড. রাশেদ আল তিতুমীর, অর্থনীতিবিদ জৌতি রহমান ও জিয়া হাসান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

শফিকুল আলম বলেন, অনেকে বলেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকার দুর্বল, অভিজ্ঞতা নেই, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভালো চুক্তি আদায় করতে পারবে না। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছিসঠিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে।

তিনি বলেন, শুরু থেকেই সরকার জানত এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সে কারণে মনোযোগ ছিল বাস্তবসম্মত ও দ্রুত ফল আনা যায়এমন ক্ষেত্রে। আমরা শুরু থেকেই কনফিডেন্ট ছিলাম যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তি করা সম্ভব। 

শফিকুল আলম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিদুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই প্রতিবেশী একটি দেশের গণমাধ্যম থেকে প্রচুর বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করা হলেও বাংলাদেশ সঠিক কূটনৈতিক প্রস্তুতির মাধ্যমে সেটি মোকাবেলা করতে পেরেছে।

তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফর করে প্রাথমিকভাবে বুঝতে পারেন যে ট্রাম্প প্রশাসন ট্যারিফ নীতিতে বৈশ্বিক ঐকমত্য থেকে সরে এসে নিজস্ব অবস্থান নিচ্ছে। এর পর বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়। 

আলোচনার পেছনে তিনটি মূল শক্তি কাজ করেছে বলে উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা, ড. খলিলুর রহমানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং বৈশ্বিক বাজার সম্পর্কে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের সুস্পষ্ট ধারনা।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের মূল সুবিধা হচ্ছে বৈশ্বিক বাজারে দেশের বড় ভোক্তা ও আমদানিকারক হিসেবে অবস্থান। কটন, তেল, পোল্ট্রি ফিড বা ভোজ্যতেলপ্রায় সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। এই বাস্তবতাকে আলোচনায় লেভারেজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্যারিফ আলোচনায় ফল আসলেও সরকার সমান্তরালে অন্যান্য বাজারের দিকেও নজর রাখছে।

চট্টগ্রাম বন্দরকে আরও দক্ষ করে তোলা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় সংস্কারকে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর মূল শর্ত উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, চট্টগ্রাম বন্দরকে যদি সিঙ্গাপুরের মতো দক্ষ করা না যায়, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আটকে রাখা যাবে না।

শফিকুল আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এ পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা হয়তো ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করিনি, কিন্তু গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই সময়ে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি খারাপ কিছু নয়।

প্রেস সচিব আশা প্রকাশ করেন, ট্যারিফ আলোচনার সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধির নতুন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আগামীতে আরও গভীর হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বাজারে আরও প্রবেশাধিকার। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান বা ভিয়েতনামের মতো আমরাও বিশ্বাস করিযুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়িয়ে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির নতুন পথে এগিয়ে যাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

২৪ আগস্ট, ২০২৫,  1:55 AM

news image

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক ট্যারিফ আলোচনায় ২০ শতাংশ শুল্ক নিশ্চিত করাকে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। 

তিনি বলেছেন, এই আলোচনা ছিল সরকারের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করেছে।

শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটের ডেইলি স্টার ভবনে বাংলাদেশ ও ট্রাম্পের শুল্ক: বাণিজ্য ব্যবস্থা পরবর্তী বিশ্বের অর্থনৈতিক কূটনীতি শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ রিসার্চ এনালাইসিস এন্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেইন) গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। এতে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক  অধ্যাপক ড. রাশেদ আল তিতুমীর, অর্থনীতিবিদ জৌতি রহমান ও জিয়া হাসান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

শফিকুল আলম বলেন, অনেকে বলেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকার দুর্বল, অভিজ্ঞতা নেই, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভালো চুক্তি আদায় করতে পারবে না। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছিসঠিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে।

তিনি বলেন, শুরু থেকেই সরকার জানত এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সে কারণে মনোযোগ ছিল বাস্তবসম্মত ও দ্রুত ফল আনা যায়এমন ক্ষেত্রে। আমরা শুরু থেকেই কনফিডেন্ট ছিলাম যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তি করা সম্ভব। 

শফিকুল আলম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিদুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই প্রতিবেশী একটি দেশের গণমাধ্যম থেকে প্রচুর বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করা হলেও বাংলাদেশ সঠিক কূটনৈতিক প্রস্তুতির মাধ্যমে সেটি মোকাবেলা করতে পেরেছে।

তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফর করে প্রাথমিকভাবে বুঝতে পারেন যে ট্রাম্প প্রশাসন ট্যারিফ নীতিতে বৈশ্বিক ঐকমত্য থেকে সরে এসে নিজস্ব অবস্থান নিচ্ছে। এর পর বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়। 

আলোচনার পেছনে তিনটি মূল শক্তি কাজ করেছে বলে উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা, ড. খলিলুর রহমানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং বৈশ্বিক বাজার সম্পর্কে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের সুস্পষ্ট ধারনা।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের মূল সুবিধা হচ্ছে বৈশ্বিক বাজারে দেশের বড় ভোক্তা ও আমদানিকারক হিসেবে অবস্থান। কটন, তেল, পোল্ট্রি ফিড বা ভোজ্যতেলপ্রায় সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। এই বাস্তবতাকে আলোচনায় লেভারেজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্যারিফ আলোচনায় ফল আসলেও সরকার সমান্তরালে অন্যান্য বাজারের দিকেও নজর রাখছে।

চট্টগ্রাম বন্দরকে আরও দক্ষ করে তোলা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় সংস্কারকে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর মূল শর্ত উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, চট্টগ্রাম বন্দরকে যদি সিঙ্গাপুরের মতো দক্ষ করা না যায়, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আটকে রাখা যাবে না।

শফিকুল আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এ পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা হয়তো ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করিনি, কিন্তু গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই সময়ে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি খারাপ কিছু নয়।

প্রেস সচিব আশা প্রকাশ করেন, ট্যারিফ আলোচনার সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধির নতুন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আগামীতে আরও গভীর হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বাজারে আরও প্রবেশাধিকার। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান বা ভিয়েতনামের মতো আমরাও বিশ্বাস করিযুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়িয়ে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির নতুন পথে এগিয়ে যাবে।