বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে সেবা প্রার্থীরা
রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
২৪ আগস্ট, ২০২৫, 11:55 PM
বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে সেবা প্রার্থীরা
চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জনবল না থাকা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীন মনোভাব ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবায় 'হ য ব র ল' অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না উপজেলার বিপুল জনগোষ্ঠী। বর্তমানে যে জনবল আছে তারাও নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। যার কারণে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে প্রায় ২ লাখের বিশাল জনগোষ্ঠীকে। একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ১৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সবগুলোতেই বর্তমানে অব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকট চরমে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে গড়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ জন ভর্তি হয়। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ৫০ শয্যার নতুন ভিআইপি বেড থাকলেও কার্যকর চালু না হওয়ায় বেডের অভাবে অধিকাংশ রোগীকে রাখা হচ্ছে মেঝেতে। আন্তঃবিভাগে পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড থাকলেও নেই কোনো শিশু ওয়ার্ড।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার সময় হাসপাতালটিতে শয্যা সংখ্যা ছিল ৩১টি। সর্বশেষ এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয় এবং ২০২২ সাল থেকে এটি ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদনও পায়। কিন্তু ২০২৫ এ এসেও ৫০ শয্যার চিকিৎসা সেবা চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এখনও ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই টেনেটুনে চলছে। যে সকল ডাক্তার ও নার্স আছেন তারাও প্রায় সময়ই কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকেন।
হাসপাতালে সেবা প্রার্থীদের নানা অভিযোগের ভিত্তিতে আজ রবিবার সকাল দশটায় সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানকে কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এসময় মেডিক্যাল অফিসার, ডেন্টাল সার্জন, কনসালটেন্ট ডাঃ মোঃ মোসরেকুল ইসলাম মনি সহ অনেকেই অনুপস্থিত পাওয়া যায়। সাংবাদিকেরা হাসপাতাল ত্যাগ করার সময় সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন কনসালটেন্ট ডাঃ মোঃ মোসরেকুল ইসলাম মনি।
উপস্থিত রোগীর স্বজনদের মধ্যে কয়েকজন জানান, বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নার্স ও ডাক্তারদের ডাকলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়না। প্রায় সময়ই ডাক্তার ও নার্সরা রোগীদের সাথে চরম খারাপ আচরণ করে। পর্যাপ্ত ওষুধ থাকা সত্বেও শুধু স্যালাইন ব্যাতীত আর কিছুই পাওয়া যায় না। অথচ যে উন্নত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছিল সেখানে ভালো মানের ব্যবস্থাপনা থাকলে আমরা ২ লাখ জনগোষ্ঠী পর্যাপ্ত সেবা পেতাম। আমাদের কষ্ট করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যেতে হত না।
এ বিষয়টি জানতে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি নিজে নারী শিশু কোর্টে একটি মামলার স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য নেত্রকোনা কোর্টে যাবেন বিধায় আজকে সময় মত কর্মস্থলে আসতে পারেননি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা অব্যবস্থাপনা, ডাক্তার ও নার্সদের সময় মত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত না থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি বিষয়টি দেখব এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা অব্যবস্থাপনার বিষয়টি নেত্রকোনা জেলার সিভিল সার্জন গোলাম মোস্তফাকে অবগত করা হলে তিনি জানান, বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যারা দায়িত্বে অবহেলা করছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নিব।
রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
২৪ আগস্ট, ২০২৫, 11:55 PM
চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জনবল না থাকা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীন মনোভাব ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবায় 'হ য ব র ল' অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না উপজেলার বিপুল জনগোষ্ঠী। বর্তমানে যে জনবল আছে তারাও নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। যার কারণে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে প্রায় ২ লাখের বিশাল জনগোষ্ঠীকে। একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ১৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সবগুলোতেই বর্তমানে অব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকট চরমে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে গড়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ জন ভর্তি হয়। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ৫০ শয্যার নতুন ভিআইপি বেড থাকলেও কার্যকর চালু না হওয়ায় বেডের অভাবে অধিকাংশ রোগীকে রাখা হচ্ছে মেঝেতে। আন্তঃবিভাগে পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড থাকলেও নেই কোনো শিশু ওয়ার্ড।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার সময় হাসপাতালটিতে শয্যা সংখ্যা ছিল ৩১টি। সর্বশেষ এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয় এবং ২০২২ সাল থেকে এটি ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদনও পায়। কিন্তু ২০২৫ এ এসেও ৫০ শয্যার চিকিৎসা সেবা চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এখনও ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই টেনেটুনে চলছে। যে সকল ডাক্তার ও নার্স আছেন তারাও প্রায় সময়ই কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকেন।
হাসপাতালে সেবা প্রার্থীদের নানা অভিযোগের ভিত্তিতে আজ রবিবার সকাল দশটায় সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানকে কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এসময় মেডিক্যাল অফিসার, ডেন্টাল সার্জন, কনসালটেন্ট ডাঃ মোঃ মোসরেকুল ইসলাম মনি সহ অনেকেই অনুপস্থিত পাওয়া যায়। সাংবাদিকেরা হাসপাতাল ত্যাগ করার সময় সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন কনসালটেন্ট ডাঃ মোঃ মোসরেকুল ইসলাম মনি।
উপস্থিত রোগীর স্বজনদের মধ্যে কয়েকজন জানান, বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নার্স ও ডাক্তারদের ডাকলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়না। প্রায় সময়ই ডাক্তার ও নার্সরা রোগীদের সাথে চরম খারাপ আচরণ করে। পর্যাপ্ত ওষুধ থাকা সত্বেও শুধু স্যালাইন ব্যাতীত আর কিছুই পাওয়া যায় না। অথচ যে উন্নত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছিল সেখানে ভালো মানের ব্যবস্থাপনা থাকলে আমরা ২ লাখ জনগোষ্ঠী পর্যাপ্ত সেবা পেতাম। আমাদের কষ্ট করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যেতে হত না।
এ বিষয়টি জানতে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি নিজে নারী শিশু কোর্টে একটি মামলার স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য নেত্রকোনা কোর্টে যাবেন বিধায় আজকে সময় মত কর্মস্থলে আসতে পারেননি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা অব্যবস্থাপনা, ডাক্তার ও নার্সদের সময় মত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত না থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি বিষয়টি দেখব এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা অব্যবস্থাপনার বিষয়টি নেত্রকোনা জেলার সিভিল সার্জন গোলাম মোস্তফাকে অবগত করা হলে তিনি জানান, বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যারা দায়িত্বে অবহেলা করছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নিব।