ঢাকা ১০ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

দুর্গাপুরে কোটি টাকার সড়কে বড়সড় অনিয়ম: ৫ দিনেই উঠে গেল পিচ !

#
news image

রাজশাহীর দুর্গাপুরে কোটি টাকার সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সদ্য নির্মিত সড়কের কার্পেটিং শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় উঠে যেতে শুরু করেছে। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা।

উপজেলার তিওড়কুড়ী থেকে পাঁচবাড়ি হয়ে দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৪ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়কটি গত ৫ সেপ্টেম্বর কাজ শেষ হয়। চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স ২ কোটি ৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকারও বেশি ব্যয়ে সড়কটির কাজ সম্পন্ন করে। 

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণে নিম্নমানের বিটুমিন, ইট ও বালি ব্যবহার এবং সড়ক পরিষ্কার না করেই পিচ ঢালাই করার কারণে অল্প দিনেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, হাত বা পা দিয়েই সহজে পিচের স্তর উঠে আসছে।

পথচারী প্রফেসর ইয়াসিন আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তায় ঠিকমতো পিচ দেয়নি। এক বছরও টিকবে না এই রাস্তা। এখন যদি বৃষ্টি হয়, পুরো রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে।”

ভ্যানচালক আবু বক্কর বলেন, “সরকার কোটি টাকা ব্যয় করছে, অথচ ঠিকাদাররা দায়সারা কাজ করেছে। কয়েকদিন না যেতেই সব উঠে যাচ্ছে। এর চেয়ে আগের রাস্তা ভালো ছিল।”

স্থানীয় বাসিন্দা আঞ্জুয়ারা বেগমের অভিযোগ, “পা দিয়ে ঘষলেই পাথর উঠে যায়। পিচ ঢালাইয়ের সময় রোলার দিয়েও ঠিকমতো চাপ দেওয়া হয়নি।”

দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুস সাত্তার বলেন, “ঠিকাদার তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করেছে। উপজেলা থেকে কেউ কাজ তদারকি করেনি। ফলে ঠিকাদার ইচ্ছেমতো দায়সারা কাজ করে চলে গেছে।”

একজন স্থানীয় ঠিকাদার জানান, পাকা সড়কের পিচ সহজে উঠে আসার কারণ হলো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও সঠিক অনুপাতে পাথর, বালি ও বিটুমিন না মেশানো। এতে রাস্তার উপরের স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে ও স্থায়িত্ব কমে যায়।

ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের প্রতিনিধি অসিম হোসেনকে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী মাশুক-ই মোহাম্মদ বলেন, “নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। ল্যাবে পরীক্ষা করে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজশাহী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে রাস্তা পুনর্র্নিমাণ করা হবে।

খন্দকার মোহাম্মাদ আলী, রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো চিফ :

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫,  3:29 PM

news image

রাজশাহীর দুর্গাপুরে কোটি টাকার সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সদ্য নির্মিত সড়কের কার্পেটিং শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় উঠে যেতে শুরু করেছে। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা।

উপজেলার তিওড়কুড়ী থেকে পাঁচবাড়ি হয়ে দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৪ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়কটি গত ৫ সেপ্টেম্বর কাজ শেষ হয়। চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স ২ কোটি ৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকারও বেশি ব্যয়ে সড়কটির কাজ সম্পন্ন করে। 

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণে নিম্নমানের বিটুমিন, ইট ও বালি ব্যবহার এবং সড়ক পরিষ্কার না করেই পিচ ঢালাই করার কারণে অল্প দিনেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, হাত বা পা দিয়েই সহজে পিচের স্তর উঠে আসছে।

পথচারী প্রফেসর ইয়াসিন আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তায় ঠিকমতো পিচ দেয়নি। এক বছরও টিকবে না এই রাস্তা। এখন যদি বৃষ্টি হয়, পুরো রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে।”

ভ্যানচালক আবু বক্কর বলেন, “সরকার কোটি টাকা ব্যয় করছে, অথচ ঠিকাদাররা দায়সারা কাজ করেছে। কয়েকদিন না যেতেই সব উঠে যাচ্ছে। এর চেয়ে আগের রাস্তা ভালো ছিল।”

স্থানীয় বাসিন্দা আঞ্জুয়ারা বেগমের অভিযোগ, “পা দিয়ে ঘষলেই পাথর উঠে যায়। পিচ ঢালাইয়ের সময় রোলার দিয়েও ঠিকমতো চাপ দেওয়া হয়নি।”

দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুস সাত্তার বলেন, “ঠিকাদার তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করেছে। উপজেলা থেকে কেউ কাজ তদারকি করেনি। ফলে ঠিকাদার ইচ্ছেমতো দায়সারা কাজ করে চলে গেছে।”

একজন স্থানীয় ঠিকাদার জানান, পাকা সড়কের পিচ সহজে উঠে আসার কারণ হলো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও সঠিক অনুপাতে পাথর, বালি ও বিটুমিন না মেশানো। এতে রাস্তার উপরের স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে ও স্থায়িত্ব কমে যায়।

ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের প্রতিনিধি অসিম হোসেনকে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী মাশুক-ই মোহাম্মদ বলেন, “নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। ল্যাবে পরীক্ষা করে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজশাহী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে রাস্তা পুনর্র্নিমাণ করা হবে।