পিরোজপুর পৌরসভার ড্রেনগুলো যেন মশা তৈরির কারখানা
পিরোজপুর প্রতিনিধি :
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 11:33 PM
পিরোজপুর পৌরসভার ড্রেনগুলো যেন মশা তৈরির কারখানা
পিরোজপুর পৌরসভার ড্রেনগুলো যেন মশা তৈরির কারখানা হয়েছে । প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্বেও নেই কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ, ফলে ডেঙ্গু আতঙ্কে দিন পার করছে পৌরবাসী। শীঘ্রই কর্তৃপক্ষ ড্রেনগুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে মারাত্মকভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হতে পারে পিরোজপুর পৌরবাসী।
দেশের পুরাতন পৌরসভাগুলোর মধ্যে পিরোজপুর অন্যতম হলেও পরিকল্পিতভাবে হয়নি এর নগরায়ন। দীর্ঘ দিন ধরে ড্রেন ও খাল দখল এবং ময়লা-আবর্জনায় সেগুলোর প্রবাহ বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পর পানি জমে থাকছে, যা এডিস মশার আদর্শ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এ পৌরসভার ৪২টি খালের মূল শহরের মধ্যের অধিকাংশ খাল দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে যত্রতত্র স্থাপনা হওয়ায় একদিকে যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানি চলাচলের স্বাভাবিক গতি, অন্যদিকে পানির গতি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে খাল। ফলে পৌরসভা পড়েছে জলাবদ্ধতায়। অন্যদিকে ড্রেনগুলোকে ময়লার ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করায় শহরের অধিকাংশ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে পৌরসভার খাল ও ড্রেনগুলো পরিনত হয়েছে মশা আর রোগ জীবাণুর কারখানায়।
পৌরসভায় প্রায় ৪২টি খাল ও ৬০ কিলোমিটার ড্রেন দখল ও ময়লা-আবর্জনার কারণে কোনো নির্ভরযোগ্য নিকাশি ব্যবস্থা নেই। সম্প্রতি 'ভাড়ানি' নামে একটি খাল স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে খনন ও দখলমুক্ত করার কাজ শুরু হলেও বাকি খালগুলো এখনো বেদখল। ফলে খালগুলোতে নদীর পানি প্রবেশ বন্ধ হয়ে সেগুলো ছোট ড্রেন বা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে।
পিরোজপুর শহরের মাতৃসদন সড়ক, উকিলপাড়া, মধ্য রাস্তা, শিক্ষা অফিস সড়ক, কালিবাড়ি সড়কসহ বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকার ড্রেনগুলো ডাস্টবিনে পরিনত হয়েছে, সঠিক সময়ে পরিষ্কার না করা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় বৃষ্টির পানি ড্রেনগুলোতে জমে থাকছে, এতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এই জমে থাকা পানিই এখন ডেঙ্গু রোগের মারাত্মক বার্তা বহন করছে।
বর্তমানে মশা খুব বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টি হলেই ড্রেনগুলো ভরে যায়, ড্রেনের ময়লা গুলো উপরে চলে আসে। কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় ড্রেনগুলো এখন ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। যে যেমন পারছে ড্রেনে ময়লা ফেলছে, ফলে ড্রেনগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এই জলাবদ্ধতায় প্রচুর মশা তৈরি হচ্ছে, যেখান থেকে এডিস মশা বংশ বিস্তার করছে। দ্রুত কর্তৃপক্ষ যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে পৌরবাসী।
মাদ্রাসা শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমানে মশা অনেক বেড়ে গিয়েছে। একটু বৃষ্টি পড়লেই শহরে ড্রেনগুলোতে পানি জমে থাকে এবং সেই পানি থেকেই মশার সৃষ্টি হয় এবং জোয়ারের পানিতেও ড্রেনগুলো তলিয়ে যায়। শহরের অসচেতন নাগরিকদের ময়লা ফেলার কারণে ড্রেনগুলো ভরে গিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি না থাকায় এগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে না। এ কারণেই মশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণেবাসী নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছ। কর্তৃপক্ষ যদি ড্রেনগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে তাহলে পিরোজপুর বাসি ডেঙ্গু থেকে মুক্তি পাবে।
পৌর শহরের বাসিন্দা লোকমান শেখ বলেন, পিরোজপুর পৌরসভার ট্রেনগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। প্রতিটা ড্রেনে ময়লা আবর্জনা ভরে রয়েছে। ড্রেনে জমে থাকা পানির দিকে তাকালে মশা দেখতে পাওয়া যায়। আমরা চাই পৌরসভার ভেতরের ড্রেনগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুক। মশা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে দিনের বেলায় মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হয়।
গৃহিনী শারমিন আক্তার বলেন, সন্ধ্যা হলে মশার যন্ত্রণায় ঘরে থাকা যায় না। সব সময় বিছানায় মশারি টাঙিয়ে রাখতে হয়। কর্তৃপক্ষের সঠিক উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন মশা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ডেঙ্গু রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত ড্রেনগুলো অতি দ্রুত পরিষ্কার করা।
জেলা উদীচী শিল্প গোষ্ঠীর সভাপতি খালেদ আবু বলেন, পিরোজপুরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থা। ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে না ময়লা আবর্জনা ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলে ই ড্রেনগুলো ভরে যায়। বরিশাল বিভাগে যে হারে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে পিরোজপুরের সাধারণ মানুষের ভেতরে আতঙ্ক দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো অতি দ্রুত যেন ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হয়।
পিরোজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত বনিক বলেন, পিরোজপুর পৌরসভা জনবহুল এবং প্রাচীন পৌরসভা। বর্তমানে এ জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দেখা দিয়েছে। ডেঙ্গু নিধনের জন্য আমরা প্রতিকার হিসেবে মশা নিধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি। বিভিন্ন জায়গায় স্প্রে সহ ড্রেনগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্ষাকাল হওয়ার কারণে বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে এবং সেখান থেকেই মশার উৎপত্তি হয়। আমরা সেসব জায়গায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং এ ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে।
পিরোজপুর প্রতিনিধি :
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 11:33 PM
পিরোজপুর পৌরসভার ড্রেনগুলো যেন মশা তৈরির কারখানা হয়েছে । প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্বেও নেই কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ, ফলে ডেঙ্গু আতঙ্কে দিন পার করছে পৌরবাসী। শীঘ্রই কর্তৃপক্ষ ড্রেনগুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে মারাত্মকভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হতে পারে পিরোজপুর পৌরবাসী।
দেশের পুরাতন পৌরসভাগুলোর মধ্যে পিরোজপুর অন্যতম হলেও পরিকল্পিতভাবে হয়নি এর নগরায়ন। দীর্ঘ দিন ধরে ড্রেন ও খাল দখল এবং ময়লা-আবর্জনায় সেগুলোর প্রবাহ বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পর পানি জমে থাকছে, যা এডিস মশার আদর্শ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এ পৌরসভার ৪২টি খালের মূল শহরের মধ্যের অধিকাংশ খাল দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে যত্রতত্র স্থাপনা হওয়ায় একদিকে যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানি চলাচলের স্বাভাবিক গতি, অন্যদিকে পানির গতি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে খাল। ফলে পৌরসভা পড়েছে জলাবদ্ধতায়। অন্যদিকে ড্রেনগুলোকে ময়লার ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করায় শহরের অধিকাংশ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে পৌরসভার খাল ও ড্রেনগুলো পরিনত হয়েছে মশা আর রোগ জীবাণুর কারখানায়।
পৌরসভায় প্রায় ৪২টি খাল ও ৬০ কিলোমিটার ড্রেন দখল ও ময়লা-আবর্জনার কারণে কোনো নির্ভরযোগ্য নিকাশি ব্যবস্থা নেই। সম্প্রতি 'ভাড়ানি' নামে একটি খাল স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে খনন ও দখলমুক্ত করার কাজ শুরু হলেও বাকি খালগুলো এখনো বেদখল। ফলে খালগুলোতে নদীর পানি প্রবেশ বন্ধ হয়ে সেগুলো ছোট ড্রেন বা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে।
পিরোজপুর শহরের মাতৃসদন সড়ক, উকিলপাড়া, মধ্য রাস্তা, শিক্ষা অফিস সড়ক, কালিবাড়ি সড়কসহ বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকার ড্রেনগুলো ডাস্টবিনে পরিনত হয়েছে, সঠিক সময়ে পরিষ্কার না করা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় বৃষ্টির পানি ড্রেনগুলোতে জমে থাকছে, এতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এই জমে থাকা পানিই এখন ডেঙ্গু রোগের মারাত্মক বার্তা বহন করছে।
বর্তমানে মশা খুব বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টি হলেই ড্রেনগুলো ভরে যায়, ড্রেনের ময়লা গুলো উপরে চলে আসে। কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় ড্রেনগুলো এখন ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। যে যেমন পারছে ড্রেনে ময়লা ফেলছে, ফলে ড্রেনগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এই জলাবদ্ধতায় প্রচুর মশা তৈরি হচ্ছে, যেখান থেকে এডিস মশা বংশ বিস্তার করছে। দ্রুত কর্তৃপক্ষ যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে পৌরবাসী।
মাদ্রাসা শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমানে মশা অনেক বেড়ে গিয়েছে। একটু বৃষ্টি পড়লেই শহরে ড্রেনগুলোতে পানি জমে থাকে এবং সেই পানি থেকেই মশার সৃষ্টি হয় এবং জোয়ারের পানিতেও ড্রেনগুলো তলিয়ে যায়। শহরের অসচেতন নাগরিকদের ময়লা ফেলার কারণে ড্রেনগুলো ভরে গিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি না থাকায় এগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে না। এ কারণেই মশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণেবাসী নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছ। কর্তৃপক্ষ যদি ড্রেনগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে তাহলে পিরোজপুর বাসি ডেঙ্গু থেকে মুক্তি পাবে।
পৌর শহরের বাসিন্দা লোকমান শেখ বলেন, পিরোজপুর পৌরসভার ট্রেনগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। প্রতিটা ড্রেনে ময়লা আবর্জনা ভরে রয়েছে। ড্রেনে জমে থাকা পানির দিকে তাকালে মশা দেখতে পাওয়া যায়। আমরা চাই পৌরসভার ভেতরের ড্রেনগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুক। মশা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে দিনের বেলায় মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হয়।
গৃহিনী শারমিন আক্তার বলেন, সন্ধ্যা হলে মশার যন্ত্রণায় ঘরে থাকা যায় না। সব সময় বিছানায় মশারি টাঙিয়ে রাখতে হয়। কর্তৃপক্ষের সঠিক উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন মশা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ডেঙ্গু রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত ড্রেনগুলো অতি দ্রুত পরিষ্কার করা।
জেলা উদীচী শিল্প গোষ্ঠীর সভাপতি খালেদ আবু বলেন, পিরোজপুরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থা। ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে না ময়লা আবর্জনা ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলে ই ড্রেনগুলো ভরে যায়। বরিশাল বিভাগে যে হারে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে পিরোজপুরের সাধারণ মানুষের ভেতরে আতঙ্ক দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো অতি দ্রুত যেন ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হয়।
পিরোজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত বনিক বলেন, পিরোজপুর পৌরসভা জনবহুল এবং প্রাচীন পৌরসভা। বর্তমানে এ জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দেখা দিয়েছে। ডেঙ্গু নিধনের জন্য আমরা প্রতিকার হিসেবে মশা নিধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি। বিভিন্ন জায়গায় স্প্রে সহ ড্রেনগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্ষাকাল হওয়ার কারণে বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে এবং সেখান থেকেই মশার উৎপত্তি হয়। আমরা সেসব জায়গায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং এ ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে।