ঢাকা ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
শিরোনামঃ
গাজীপুরে সংগীতা আইডিয়াল হাই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান সম্পন্ন  গুদারা খালের বাঁধ অপসারণ: উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা বড়লেখায় উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু এমপি কোম্পানীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অংশ নিচ্ছেন সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী জাতিসংঘ ফোরামে ন্যায্য বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো ও টেকসই এলডিসি উত্তরণের আহ্বান বাংলাদেশের দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি বিপুল পরিমান ভারতীয় মোবাইল ফোন জব্দ বানারীপাড়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ পালিত বড়লেখা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী সুযোগ নিতে পারে জামায়াত

মুন্সিগঞ্জের নদীভাঙন, পাশে নেই প্রশাসন

#
news image

নদীর তীরঘেষে হেটে শম্ভুহালদারকান্দির কয়েকটি বসতি বরাবর পৌছঁতেই অনেকটা হা-হুতাশ করতে করতে ছুটে এলেন চায়না মল্লিক (৬০)। পদ্মায় ঘুর্ণিয়মান স্রোত থেকে তৈরি হওয়া অব্যাহত ভাঙন এসে ঠেকেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী চায়নার বসতভিটার পাশে। আর মাত্র কয়েক হাত, এরপর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে আর কোন চিহ্নই থাকবে না তার বসতভিটার।
গত কয়েকদিনে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে নদীভাঙনে দিশাহারা এলাকার মানুষজন। অনেকটা নিরুপায় দিনযাপন করতে হচ্ছে চায়না মল্লিক, রেখা মল্লিক, মলিন রায়সহ মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের শম্ভুহালদারকান্দি এলাকার ১০-১৫টি হিন্দু পরিবারের। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি রয়েছে দুর্গাপূজার। এই মুহুর্তে পূজার আনন্দে ভাসার কথা থাকলেও নদীভাঙনের কারনে সেই আমেজ নেই কারও মধ্যে।
আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিন এলাকাটিতে গেলে স্থানীয়রা জানান, গত ১ মাস ধরে নদীতে সৃষ্টি হওয়া স্রোতের কারনে এলাকাটি নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১০-১৫টি বসতঘর। ভাঙছে মহেশপুর ও সরদারকান্দি এলাকাতেও। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেলা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এই ব্যবস্থার আওতায় আসেননি শম্ভুহালদারকান্দির বাসিন্দারা। ফলে ভিটেমাটি ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে নদী।
নদীভাঙনের শিকার রেখা মল্লিক গতকাল সকালে বলেন, ‘দ্যাখেন কই যামু? কয়ডা ব্যাগ ফেলানোর ব্যবস্থা করে দেন, কিসের পূজার আনন্দ। ঘরটা বাঁচবো কি না সেইডাই তো কইতে পারি না। সারারাইত আমার স্বামী বাইরে হাটে। কখন ভিটা ভেঙে নদীতে পরে যায় সেই আতঙ্কে থাকি।’
স্থানীয় মলিন রায় বলেন, আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সদর উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এরপরও তারা ভাঙনরোধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সব নদীতে তলিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর যদি তারা আসে তাহলে লাভ কি? কয়দিন পর দুর্গাপূজা। এখানকার মানুষের মধ্যে কোন আনন্দ নাই।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, এলাকাটিতে এই মুহুর্তে কোন প্রকল্পের জন্য ব্যবস্থা নেই। তবে, চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে দ্রুত একটা ব্যবস্থা করে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা যায়। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে কি করা যায় সেটিও দেখা হচ্ছে।

আবুল কাশেম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫,  10:45 PM

news image

নদীর তীরঘেষে হেটে শম্ভুহালদারকান্দির কয়েকটি বসতি বরাবর পৌছঁতেই অনেকটা হা-হুতাশ করতে করতে ছুটে এলেন চায়না মল্লিক (৬০)। পদ্মায় ঘুর্ণিয়মান স্রোত থেকে তৈরি হওয়া অব্যাহত ভাঙন এসে ঠেকেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী চায়নার বসতভিটার পাশে। আর মাত্র কয়েক হাত, এরপর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে আর কোন চিহ্নই থাকবে না তার বসতভিটার।
গত কয়েকদিনে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে নদীভাঙনে দিশাহারা এলাকার মানুষজন। অনেকটা নিরুপায় দিনযাপন করতে হচ্ছে চায়না মল্লিক, রেখা মল্লিক, মলিন রায়সহ মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের শম্ভুহালদারকান্দি এলাকার ১০-১৫টি হিন্দু পরিবারের। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি রয়েছে দুর্গাপূজার। এই মুহুর্তে পূজার আনন্দে ভাসার কথা থাকলেও নদীভাঙনের কারনে সেই আমেজ নেই কারও মধ্যে।
আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিন এলাকাটিতে গেলে স্থানীয়রা জানান, গত ১ মাস ধরে নদীতে সৃষ্টি হওয়া স্রোতের কারনে এলাকাটি নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১০-১৫টি বসতঘর। ভাঙছে মহেশপুর ও সরদারকান্দি এলাকাতেও। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেলা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এই ব্যবস্থার আওতায় আসেননি শম্ভুহালদারকান্দির বাসিন্দারা। ফলে ভিটেমাটি ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে নদী।
নদীভাঙনের শিকার রেখা মল্লিক গতকাল সকালে বলেন, ‘দ্যাখেন কই যামু? কয়ডা ব্যাগ ফেলানোর ব্যবস্থা করে দেন, কিসের পূজার আনন্দ। ঘরটা বাঁচবো কি না সেইডাই তো কইতে পারি না। সারারাইত আমার স্বামী বাইরে হাটে। কখন ভিটা ভেঙে নদীতে পরে যায় সেই আতঙ্কে থাকি।’
স্থানীয় মলিন রায় বলেন, আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সদর উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এরপরও তারা ভাঙনরোধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সব নদীতে তলিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর যদি তারা আসে তাহলে লাভ কি? কয়দিন পর দুর্গাপূজা। এখানকার মানুষের মধ্যে কোন আনন্দ নাই।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, এলাকাটিতে এই মুহুর্তে কোন প্রকল্পের জন্য ব্যবস্থা নেই। তবে, চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে দ্রুত একটা ব্যবস্থা করে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা যায়। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে কি করা যায় সেটিও দেখা হচ্ছে।