ঢাকা ১০ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

মুন্সিগঞ্জের নদীভাঙন, পাশে নেই প্রশাসন

#
news image

নদীর তীরঘেষে হেটে শম্ভুহালদারকান্দির কয়েকটি বসতি বরাবর পৌছঁতেই অনেকটা হা-হুতাশ করতে করতে ছুটে এলেন চায়না মল্লিক (৬০)। পদ্মায় ঘুর্ণিয়মান স্রোত থেকে তৈরি হওয়া অব্যাহত ভাঙন এসে ঠেকেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী চায়নার বসতভিটার পাশে। আর মাত্র কয়েক হাত, এরপর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে আর কোন চিহ্নই থাকবে না তার বসতভিটার।
গত কয়েকদিনে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে নদীভাঙনে দিশাহারা এলাকার মানুষজন। অনেকটা নিরুপায় দিনযাপন করতে হচ্ছে চায়না মল্লিক, রেখা মল্লিক, মলিন রায়সহ মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের শম্ভুহালদারকান্দি এলাকার ১০-১৫টি হিন্দু পরিবারের। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি রয়েছে দুর্গাপূজার। এই মুহুর্তে পূজার আনন্দে ভাসার কথা থাকলেও নদীভাঙনের কারনে সেই আমেজ নেই কারও মধ্যে।
আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিন এলাকাটিতে গেলে স্থানীয়রা জানান, গত ১ মাস ধরে নদীতে সৃষ্টি হওয়া স্রোতের কারনে এলাকাটি নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১০-১৫টি বসতঘর। ভাঙছে মহেশপুর ও সরদারকান্দি এলাকাতেও। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেলা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এই ব্যবস্থার আওতায় আসেননি শম্ভুহালদারকান্দির বাসিন্দারা। ফলে ভিটেমাটি ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে নদী।
নদীভাঙনের শিকার রেখা মল্লিক গতকাল সকালে বলেন, ‘দ্যাখেন কই যামু? কয়ডা ব্যাগ ফেলানোর ব্যবস্থা করে দেন, কিসের পূজার আনন্দ। ঘরটা বাঁচবো কি না সেইডাই তো কইতে পারি না। সারারাইত আমার স্বামী বাইরে হাটে। কখন ভিটা ভেঙে নদীতে পরে যায় সেই আতঙ্কে থাকি।’
স্থানীয় মলিন রায় বলেন, আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সদর উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এরপরও তারা ভাঙনরোধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সব নদীতে তলিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর যদি তারা আসে তাহলে লাভ কি? কয়দিন পর দুর্গাপূজা। এখানকার মানুষের মধ্যে কোন আনন্দ নাই।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, এলাকাটিতে এই মুহুর্তে কোন প্রকল্পের জন্য ব্যবস্থা নেই। তবে, চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে দ্রুত একটা ব্যবস্থা করে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা যায়। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে কি করা যায় সেটিও দেখা হচ্ছে।

আবুল কাশেম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫,  10:45 PM

news image

নদীর তীরঘেষে হেটে শম্ভুহালদারকান্দির কয়েকটি বসতি বরাবর পৌছঁতেই অনেকটা হা-হুতাশ করতে করতে ছুটে এলেন চায়না মল্লিক (৬০)। পদ্মায় ঘুর্ণিয়মান স্রোত থেকে তৈরি হওয়া অব্যাহত ভাঙন এসে ঠেকেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী চায়নার বসতভিটার পাশে। আর মাত্র কয়েক হাত, এরপর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে আর কোন চিহ্নই থাকবে না তার বসতভিটার।
গত কয়েকদিনে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে নদীভাঙনে দিশাহারা এলাকার মানুষজন। অনেকটা নিরুপায় দিনযাপন করতে হচ্ছে চায়না মল্লিক, রেখা মল্লিক, মলিন রায়সহ মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের শম্ভুহালদারকান্দি এলাকার ১০-১৫টি হিন্দু পরিবারের। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি রয়েছে দুর্গাপূজার। এই মুহুর্তে পূজার আনন্দে ভাসার কথা থাকলেও নদীভাঙনের কারনে সেই আমেজ নেই কারও মধ্যে।
আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিন এলাকাটিতে গেলে স্থানীয়রা জানান, গত ১ মাস ধরে নদীতে সৃষ্টি হওয়া স্রোতের কারনে এলাকাটি নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১০-১৫টি বসতঘর। ভাঙছে মহেশপুর ও সরদারকান্দি এলাকাতেও। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেলা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এই ব্যবস্থার আওতায় আসেননি শম্ভুহালদারকান্দির বাসিন্দারা। ফলে ভিটেমাটি ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে নদী।
নদীভাঙনের শিকার রেখা মল্লিক গতকাল সকালে বলেন, ‘দ্যাখেন কই যামু? কয়ডা ব্যাগ ফেলানোর ব্যবস্থা করে দেন, কিসের পূজার আনন্দ। ঘরটা বাঁচবো কি না সেইডাই তো কইতে পারি না। সারারাইত আমার স্বামী বাইরে হাটে। কখন ভিটা ভেঙে নদীতে পরে যায় সেই আতঙ্কে থাকি।’
স্থানীয় মলিন রায় বলেন, আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সদর উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এরপরও তারা ভাঙনরোধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সব নদীতে তলিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর যদি তারা আসে তাহলে লাভ কি? কয়দিন পর দুর্গাপূজা। এখানকার মানুষের মধ্যে কোন আনন্দ নাই।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, এলাকাটিতে এই মুহুর্তে কোন প্রকল্পের জন্য ব্যবস্থা নেই। তবে, চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে দ্রুত একটা ব্যবস্থা করে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা যায়। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে কি করা যায় সেটিও দেখা হচ্ছে।