ঢাকা ১০ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

অসহায়দের ভরসা, শিশুদের শিক্ষালয়-ইয়াং মুসলিম সোসাইটি

#
news image

খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার একটি অজ পল্লীতে গড়ে ওঠা একটি সামাজিক সংগঠন আজ এলাকার মানুষের আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাম- ইয়াং মুসলিম সোসাইটি,  এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজকেন্দ্রিক সংগঠন, যা মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে নিরলসভাবে। গড়ে তোলার পর থেকে সংগঠনটি ধাপে ধাপে স্থানীয় সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও অসহায় মানুষের কল্যাণে।

ইয়াং মুসলিম সোসাইটির অন্যতম বড় অবদান হচ্ছে শিশু-কিশোরদের জন্য গড়ে তোলা কোরআন শিক্ষা কার্যক্রম। এখানকার শিক্ষকরা  এলাকার শিশুদেরকে কোরআন শিক্ষা ও নৈতিকতা বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। শুধু পঠন-পাঠন নয়, বরং একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও নৈতিক মানুষ হিসেবে কিশোরদের গড়ে তোলাই তাদের উদ্দেশ্য। অভাবী পরিবারগুলো এই শিক্ষার সুযোগ পেয়ে অনেকটাই উপকৃত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ সমাজ গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই সবার আশা।

সংগঠনটির সবচেয়ে মানবিক দিক হলো অসুস্থ, দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। হঠাৎ কোনো বিপদে কারও ওষুধ লাগলে, হাসপাতালের খরচ বহনে সমস্যা হলে কিংবা চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়লে সংগঠনের সদস্যরা নিজ উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এইভাবে বহু পরিবার আজ আশার আলো দেখতে পেয়েছে।

মাদক, জুয়া ও বখাটেপনার মতো সমাজবিরোধী কার্যকলাপ থেকে শিশু-কিশোরদের দূরে রাখতে সংগঠনটি নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করে। ক্রিকেট, ফুটবল টুর্নামেন্ট, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কুইজ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মতো কার্যক্রম তরুণদের ব্যস্ত ও সৃজনশীল রাখছে। এতে করে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে উঠছে যেখানে শিক্ষার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও নেতৃত্ব গুণ তৈরি হচ্ছে।

সংগঠনটি প্রতিবছর বিভিন্ন গ্রামে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে, যেখানে শত শত মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, রক্তচাপ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়ে থাকেন। স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত প্রান্তিক জনগণের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সচেতনতা, নারীর সম্মান রক্ষা, মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনার মাধ্যমেও সংগঠনটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এই জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে ইয়াং মুসলিম সোসাইটি ‘কয়রা উপজেলার দ্বিতীয় সেরা সামাজিক সংগঠন’ হিসেবে সম্মাননা পায় কয়রা সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে। এটি শুধু একটি পদক নয়, বরং সংগঠনের প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবীর কাজের মূল্যায়ন ও অনুপ্রেরণার প্রতীক।সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, সামাজিক পরিবর্তন আসে নীরব কিন্তু ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে। আমরা চাই সমাজে এমন একটি সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে, যেখানে প্রত্যেকেই নিজের দায়িত্ববোধ থেকে মানুষ ও সমাজের পাশে দাঁড়াবে।”

সংগঠ‌নের সা‌বেক সভাপ‌তি মীম বদরুজ্জামান বলেন,ইয়াং মুসলিম সোসাইটির এই কর্মতৎপরতা প্রমাণ করে, কোনো বড় শহর বা অর্থবহুল পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াও একটি সংগঠন মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে, যদি সেখানে থাকে আন্তরিকতা, ঐক্য ও নিষ্ঠা।

এই সংগঠনের গল্প একটি নতুন সমাজ গড়ার গল্প-যেখানে স্বেচ্ছাসেবা, ভালোবাসা ও মানবিকতা মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ইয়াং মুসলিম সোসাইটি শুধুই একটি সংগঠনের নাম নয়, এটি এখন কয়রাবাসীর হৃদয়ে বেঁচে থাকা একটি আশা, একটি আন্দোলন।

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি :

০৫ অক্টোবর, ২০২৫,  3:25 PM

news image

খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার একটি অজ পল্লীতে গড়ে ওঠা একটি সামাজিক সংগঠন আজ এলাকার মানুষের আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাম- ইয়াং মুসলিম সোসাইটি,  এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজকেন্দ্রিক সংগঠন, যা মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে নিরলসভাবে। গড়ে তোলার পর থেকে সংগঠনটি ধাপে ধাপে স্থানীয় সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও অসহায় মানুষের কল্যাণে।

ইয়াং মুসলিম সোসাইটির অন্যতম বড় অবদান হচ্ছে শিশু-কিশোরদের জন্য গড়ে তোলা কোরআন শিক্ষা কার্যক্রম। এখানকার শিক্ষকরা  এলাকার শিশুদেরকে কোরআন শিক্ষা ও নৈতিকতা বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। শুধু পঠন-পাঠন নয়, বরং একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও নৈতিক মানুষ হিসেবে কিশোরদের গড়ে তোলাই তাদের উদ্দেশ্য। অভাবী পরিবারগুলো এই শিক্ষার সুযোগ পেয়ে অনেকটাই উপকৃত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ সমাজ গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই সবার আশা।

সংগঠনটির সবচেয়ে মানবিক দিক হলো অসুস্থ, দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। হঠাৎ কোনো বিপদে কারও ওষুধ লাগলে, হাসপাতালের খরচ বহনে সমস্যা হলে কিংবা চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়লে সংগঠনের সদস্যরা নিজ উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এইভাবে বহু পরিবার আজ আশার আলো দেখতে পেয়েছে।

মাদক, জুয়া ও বখাটেপনার মতো সমাজবিরোধী কার্যকলাপ থেকে শিশু-কিশোরদের দূরে রাখতে সংগঠনটি নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করে। ক্রিকেট, ফুটবল টুর্নামেন্ট, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কুইজ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মতো কার্যক্রম তরুণদের ব্যস্ত ও সৃজনশীল রাখছে। এতে করে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে উঠছে যেখানে শিক্ষার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও নেতৃত্ব গুণ তৈরি হচ্ছে।

সংগঠনটি প্রতিবছর বিভিন্ন গ্রামে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে, যেখানে শত শত মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, রক্তচাপ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়ে থাকেন। স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত প্রান্তিক জনগণের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সচেতনতা, নারীর সম্মান রক্ষা, মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনার মাধ্যমেও সংগঠনটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এই জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে ইয়াং মুসলিম সোসাইটি ‘কয়রা উপজেলার দ্বিতীয় সেরা সামাজিক সংগঠন’ হিসেবে সম্মাননা পায় কয়রা সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে। এটি শুধু একটি পদক নয়, বরং সংগঠনের প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবীর কাজের মূল্যায়ন ও অনুপ্রেরণার প্রতীক।সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, সামাজিক পরিবর্তন আসে নীরব কিন্তু ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে। আমরা চাই সমাজে এমন একটি সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে, যেখানে প্রত্যেকেই নিজের দায়িত্ববোধ থেকে মানুষ ও সমাজের পাশে দাঁড়াবে।”

সংগঠ‌নের সা‌বেক সভাপ‌তি মীম বদরুজ্জামান বলেন,ইয়াং মুসলিম সোসাইটির এই কর্মতৎপরতা প্রমাণ করে, কোনো বড় শহর বা অর্থবহুল পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াও একটি সংগঠন মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে, যদি সেখানে থাকে আন্তরিকতা, ঐক্য ও নিষ্ঠা।

এই সংগঠনের গল্প একটি নতুন সমাজ গড়ার গল্প-যেখানে স্বেচ্ছাসেবা, ভালোবাসা ও মানবিকতা মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ইয়াং মুসলিম সোসাইটি শুধুই একটি সংগঠনের নাম নয়, এটি এখন কয়রাবাসীর হৃদয়ে বেঁচে থাকা একটি আশা, একটি আন্দোলন।