ঢাকা ১০ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস কমিটির প্রতিবেদন

#
news image

দেশের কর জিডিপি অনুপাত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্য সহায়ক করনীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে কর কাঠামোর প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাস বিষয়ে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটি।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করে।

এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদন দাখিলের সময় জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি ড. জায়েদী সাত্তারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কমিটির অন্যান্য সদস্য—ড. সুলতান হাফিজ রহমান, প্রফেসরিয়াল ফেলো, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট; ড. সৈয়দ মইনুল আহসান, প্রফেসর এমেরিটাস, কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, মন্ট্রিয়াল, কানাডা; ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক; ড. খুরশীদ আলম, নির্বাহী পরিচালক, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ; মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, এফসিএমএ, প্রেসিডেন্ট, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি); সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, প্রেসিডেন্ট, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি); মুহাম্মদ মেহেদী হাসান, এফসিএ, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি); শাহ মো. আব্দুল খালেক, সিনিয়র অতিরিক্ত মহাসচিব, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই); স্নেহাশীষ বড়ুয়া, এফসিএ, সদস্য, বাজেট এক্সপার্ট কমিটি, এফবিসিসিআই এবং কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি দ্রুত ও টেকসই করতে হলে সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আয় বৃদ্ধি অপরিহার্য। কিন্তু বিদ্যমান কর কাঠামো নানা সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত। এই বাস্তবতায় কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় এবং কর জিডিপি অনুপাত গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।

কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কর ব্যবস্থাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল, অদক্ষ এবং পরোক্ষ করের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, খণ্ডিত সংস্কারের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য কর ব্যবস্থার মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। ‘উন্নয়নের জন্য করনীতি: কর ব্যবস্থার পুনর্গঠনে সংস্কারমূলক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে মোট ৫৫টি নীতিগত বিষয় চিহ্নিত করে সেগুলোর জন্য সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে অগ্রাধিকারভিত্তিক সাতটি নীতিগত বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার রূপরেখা প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের অনুপাত বর্তমান ৩০:৭০ থেকে ৫০:৫০-এ উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া কর ব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, সহজ কর কাঠামো, প্রণোদনা পুনর্গঠন, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট এবং বাণিজ্য করের পরিবর্তে দেশীয় করের দিকে কৌশলগত পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে রপ্তানি ও আমদানির বিকল্প পণ্যের কার্যকর সুরক্ষা সমান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে পণ্য খালাসে আলাদা ভ্যালুয়েশন ডেটাবেজের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে বন্দরের পরিবর্তে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় বহু হারের পরিবর্তে একক হারের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদন গ্রহণের পর কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে সময় খুবই কম। আমরা এসব নীতির বাস্তবায়নের পথচলা শুরু করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব আদায়ের খাত ও পদ্ধতি আরও স্পষ্ট হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আসবে।’

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এই প্রতিবেদন আমাদের জন্য একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

কমিটির প্রধান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, ‘গত এক দশকে আমাদের রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল হয়ে গেছে। এসব পদ্ধতির সংস্কার ছাড়া রাজস্ব আদায়ের পরিসর বাড়ানো কঠিন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘এই প্রতিবেদনে বিদ্যমান সংকটগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো নিরসনের পথনির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক :

২৭ জানুয়ারি, ২০২৬,  11:38 PM

news image

দেশের কর জিডিপি অনুপাত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্য সহায়ক করনীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে কর কাঠামোর প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাস বিষয়ে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটি।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করে।

এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদন দাখিলের সময় জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি ড. জায়েদী সাত্তারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কমিটির অন্যান্য সদস্য—ড. সুলতান হাফিজ রহমান, প্রফেসরিয়াল ফেলো, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট; ড. সৈয়দ মইনুল আহসান, প্রফেসর এমেরিটাস, কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, মন্ট্রিয়াল, কানাডা; ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক; ড. খুরশীদ আলম, নির্বাহী পরিচালক, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ; মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, এফসিএমএ, প্রেসিডেন্ট, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি); সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, প্রেসিডেন্ট, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি); মুহাম্মদ মেহেদী হাসান, এফসিএ, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি); শাহ মো. আব্দুল খালেক, সিনিয়র অতিরিক্ত মহাসচিব, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই); স্নেহাশীষ বড়ুয়া, এফসিএ, সদস্য, বাজেট এক্সপার্ট কমিটি, এফবিসিসিআই এবং কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি দ্রুত ও টেকসই করতে হলে সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আয় বৃদ্ধি অপরিহার্য। কিন্তু বিদ্যমান কর কাঠামো নানা সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত। এই বাস্তবতায় কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় এবং কর জিডিপি অনুপাত গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।

কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কর ব্যবস্থাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল, অদক্ষ এবং পরোক্ষ করের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, খণ্ডিত সংস্কারের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য কর ব্যবস্থার মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। ‘উন্নয়নের জন্য করনীতি: কর ব্যবস্থার পুনর্গঠনে সংস্কারমূলক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে মোট ৫৫টি নীতিগত বিষয় চিহ্নিত করে সেগুলোর জন্য সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে অগ্রাধিকারভিত্তিক সাতটি নীতিগত বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার রূপরেখা প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের অনুপাত বর্তমান ৩০:৭০ থেকে ৫০:৫০-এ উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া কর ব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, সহজ কর কাঠামো, প্রণোদনা পুনর্গঠন, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট এবং বাণিজ্য করের পরিবর্তে দেশীয় করের দিকে কৌশলগত পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে রপ্তানি ও আমদানির বিকল্প পণ্যের কার্যকর সুরক্ষা সমান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে পণ্য খালাসে আলাদা ভ্যালুয়েশন ডেটাবেজের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে বন্দরের পরিবর্তে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় বহু হারের পরিবর্তে একক হারের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদন গ্রহণের পর কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে সময় খুবই কম। আমরা এসব নীতির বাস্তবায়নের পথচলা শুরু করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব আদায়ের খাত ও পদ্ধতি আরও স্পষ্ট হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আসবে।’

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এই প্রতিবেদন আমাদের জন্য একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

কমিটির প্রধান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, ‘গত এক দশকে আমাদের রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল হয়ে গেছে। এসব পদ্ধতির সংস্কার ছাড়া রাজস্ব আদায়ের পরিসর বাড়ানো কঠিন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘এই প্রতিবেদনে বিদ্যমান সংকটগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো নিরসনের পথনির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’