ঢাকা ০৬ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
শিবগঞ্জ সীমান্তে অভিনব কৌশলে  মাদক পাচার ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে আটক এক বড়লেখায় ঈদ ঘনিয়ে আসায় দর্জিপাড়ায় ব্যস্ততা বগুড়ার উন্নয়নে সকলকে কাঁধেকাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে- বাদশা আবারও জনগণের সেবায় এগিয়ে আসতে চান আছিয়া বেগম কোম্পানীগঞ্জ ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্টস এসোসিয়েশনের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল ফরিদপুরে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড "সুপেয় পানিতে বদলাচ্ছে গ্রামের চিত্র" কথা রেখেছেন এমপির ছেলে সৈয়দ সাফকাত নোয়াখালীতে ১০ বছরের শিশুর ৬ মাসে কুরআন হিফজ বড়লেখায় পানির অভাবে বোরো ধানের মাঠ ফেটে চৌচির, শঙ্কায় কৃষক গাইবান্ধায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল

ফরিদপুরে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

#
news image

ফরিদপুরে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জাকির মোল্লা (৪৬) কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
 
দণ্ডপ্রাপ্ত জাকির মোল্লা ফরিদপুর সদর উপজেলার মঙ্গলকোট এলাকার বাসিন্দা। নিহত রেখা বেগম সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জেলা কারাগারে পাঠায়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে জাকির মোল্লার সঙ্গে রেখা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের কয়েক বছর পর ২০১৫ সালের শুরুতে জাকিরের আচরণ বদলে যায়। তিনি স্ত্রী রেখার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন এবং বাবার বাড়ি থেকে সেই টাকা এনে দিতে চাপ দেন।
 
পরবর্তীতে সংসার টিকিয়ে রাখতে রেখার পরিবার জমি বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা জোগাড় করে জাকিরের হাতে তুলে দেয়। তবে কিছুদিন পর আবারও নতুন করে যৌতুক দাবি করতে থাকেন তিনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন।
 
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে জাকির মোল্লা তার স্ত্রী রেখা বেগমকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন।
 
এ ঘটনায় নিহতের চাচা মো. বাচ্চু খান ২০১৫ সালের ২৬ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় জাকির মোল্লা ও তার মা-বাবাকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিপুল চন্দ্র দে। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর জাকির মোল্লাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ১১(ক) ধারায় এ রায় দেন।
 
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন সাংবাদিকদের বলেন, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে একটি প্রাণ ঝরে গেছে। আদালতের এই রায় সমাজে যৌতুকবিরোধী বার্তা পৌঁছে দেবে এবং এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। তিনি রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিপুল চন্দ, ফরিদপুর প্রতিনিধি :

০৫ মার্চ, ২০২৬,  10:04 PM

news image

ফরিদপুরে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জাকির মোল্লা (৪৬) কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
 
দণ্ডপ্রাপ্ত জাকির মোল্লা ফরিদপুর সদর উপজেলার মঙ্গলকোট এলাকার বাসিন্দা। নিহত রেখা বেগম সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জেলা কারাগারে পাঠায়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে জাকির মোল্লার সঙ্গে রেখা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের কয়েক বছর পর ২০১৫ সালের শুরুতে জাকিরের আচরণ বদলে যায়। তিনি স্ত্রী রেখার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন এবং বাবার বাড়ি থেকে সেই টাকা এনে দিতে চাপ দেন।
 
পরবর্তীতে সংসার টিকিয়ে রাখতে রেখার পরিবার জমি বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা জোগাড় করে জাকিরের হাতে তুলে দেয়। তবে কিছুদিন পর আবারও নতুন করে যৌতুক দাবি করতে থাকেন তিনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন।
 
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে জাকির মোল্লা তার স্ত্রী রেখা বেগমকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন।
 
এ ঘটনায় নিহতের চাচা মো. বাচ্চু খান ২০১৫ সালের ২৬ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় জাকির মোল্লা ও তার মা-বাবাকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিপুল চন্দ্র দে। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর জাকির মোল্লাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ১১(ক) ধারায় এ রায় দেন।
 
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন সাংবাদিকদের বলেন, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে একটি প্রাণ ঝরে গেছে। আদালতের এই রায় সমাজে যৌতুকবিরোধী বার্তা পৌঁছে দেবে এবং এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। তিনি রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের সন্তোষ প্রকাশ করেন।