ঢাকা ১২ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
পাঁচবিবিতে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত গাজীপুরে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ঈদ উপহার দিলেন বিএনপির নেতা ছবদের হাসান আশুগঞ্জে পুলিশের অভিযানে চোরাচালানকৃত জিরার (৬৮৪০ কেজি) ট্রাকসহ ০৪ জন গ্রেপ্তার ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন মাদক ও সন্ত্রাসের গডফাদার রব বেপারীর হাত থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন কোম্পানীগঞ্জে সৌদি আরব থেকে প্রাপ্ত খেজুর মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ কোনাবাড়িতে পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপির নেতা জাহাঙ্গীর আলমের উপর সন্ত্রাসী হামলা পঞ্চগড়ের দেবনগড় ইউনিয়নে টিআর কাবিটা-কাবিখা কাজে ব্যবহার হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের সংসদ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ও বিরোধী দল গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে, আশা স্পিকারের

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ও বিরোধী দল গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে, আশা স্পিকারের

#
news image

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম আশা প্রকাশ করে বলেছেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষ জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে এবং গঠনমূলক সংসদীয় চর্চার মাধ্যমে জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। 

আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্পিকার বলেন, সংসদ গণতন্ত্রের চেতনাকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং বাংলাদেশের জনগণ সবসময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, জনগণের অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়, যা পুরো জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

তিনি বলেন, ছাত্র ও শ্রমিকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করে।

স্পিকার মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার ভিত্তি রচনা করেছে।

সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশের কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সময়ের পরিক্রমায় দেশে গণতান্ত্রিক বিকাশের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে কার্যত কবর দেওয়া হয়েছিল। তবে বারবার প্রতিবন্ধকতা ও স্বৈরশাসনের উত্থান সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনগণ কখনোই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ থামায়নি। ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাতি বারবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে।

তিনি ওই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

স্পিকার বলেন, এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, তার রাজনৈতিক জীবনে দেখা দশটি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

তিনি বলেন, জনগণ এখন আগ্রহ নিয়ে এই সংসদের কার্যক্রম দেখতে অপেক্ষা করছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা প্রতিটি সংসদ সদস্যের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য- সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার সংসদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার মূল দিকনির্দেশনা হওয়া উচিত।

স্পিকার বলেন, এই ভূখণ্ডের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম সংগ্রাম করে এসব আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সংসদ সদস্যদের ওপর ন্যস্ত।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি ব্যবস্থা হলেও জাতীয় স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংসদে উভয় পক্ষ জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করবে। 

তিনি আশ্বস্ত করেন, সংসদে বিরোধী দলকে অর্থবহ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে।

স্পিকার বলেন, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় সব সদস্যের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সংসদকে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সব সংসদ সদস্যকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমরা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’- এটাই আমাদের পথনির্দেশক হওয়া উচিত।

বক্তৃতার শেষে স্পিকার সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত একটি প্রাণবন্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

১২ মার্চ, ২০২৬,  7:21 PM

news image

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম আশা প্রকাশ করে বলেছেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষ জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে এবং গঠনমূলক সংসদীয় চর্চার মাধ্যমে জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। 

আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্পিকার বলেন, সংসদ গণতন্ত্রের চেতনাকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং বাংলাদেশের জনগণ সবসময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, জনগণের অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়, যা পুরো জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

তিনি বলেন, ছাত্র ও শ্রমিকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করে।

স্পিকার মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার ভিত্তি রচনা করেছে।

সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশের কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সময়ের পরিক্রমায় দেশে গণতান্ত্রিক বিকাশের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে কার্যত কবর দেওয়া হয়েছিল। তবে বারবার প্রতিবন্ধকতা ও স্বৈরশাসনের উত্থান সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনগণ কখনোই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ থামায়নি। ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাতি বারবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে।

তিনি ওই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

স্পিকার বলেন, এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, তার রাজনৈতিক জীবনে দেখা দশটি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

তিনি বলেন, জনগণ এখন আগ্রহ নিয়ে এই সংসদের কার্যক্রম দেখতে অপেক্ষা করছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা প্রতিটি সংসদ সদস্যের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য- সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার সংসদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার মূল দিকনির্দেশনা হওয়া উচিত।

স্পিকার বলেন, এই ভূখণ্ডের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম সংগ্রাম করে এসব আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সংসদ সদস্যদের ওপর ন্যস্ত।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি ব্যবস্থা হলেও জাতীয় স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংসদে উভয় পক্ষ জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করবে। 

তিনি আশ্বস্ত করেন, সংসদে বিরোধী দলকে অর্থবহ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে।

স্পিকার বলেন, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় সব সদস্যের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সংসদকে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সব সংসদ সদস্যকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমরা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’- এটাই আমাদের পথনির্দেশক হওয়া উচিত।

বক্তৃতার শেষে স্পিকার সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত একটি প্রাণবন্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।