ঢাকা ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
শিরোনামঃ
গুদারা খালের বাঁধ অপসারণ: উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা বড়লেখায় উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু এমপি কোম্পানীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অংশ নিচ্ছেন সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী জাতিসংঘ ফোরামে ন্যায্য বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো ও টেকসই এলডিসি উত্তরণের আহ্বান বাংলাদেশের দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি বিপুল পরিমান ভারতীয় মোবাইল ফোন জব্দ বানারীপাড়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ পালিত বড়লেখা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী সুযোগ নিতে পারে জামায়াত নরসিংদীতে হানিট্র্যাপের  নারী পুরুষ সদস্যসহ গ্রেফতার ৪

বসুরহাটে বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা: আগাম প্রস্তুতির দাবি পৌরবাসীর

#
news image

চলতি শুষ্ক মৌসুম শেষ হয়ে ধীরে ধীরে শুরু হতে যাচ্ছে বর্ষা মৌসুম। আর বর্ষা এলেই নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভায় দেখা দেয় জলাবদ্ধতার চিরচেনা দুর্ভোগ। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়, কখনো কখনো তা কোমর সমান পর্যন্ত পৌঁছে জনজীবনকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে। গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে এমন চিত্রই নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে পৌরবাসীর জন্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক, বাজার এলাকা ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে যায়। এতে পথচারী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় দোকানপাট ও বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন অনেকেই।
তবে এবার যেন সেই দুর্ভোগ থেকে কিছুটা হলেও রেহাই মেলে, সে প্রত্যাশায় পৌর প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছেন স্থানীয়রা। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বসুরহাট পৌরসভার বিভিন্ন খাল অবৈধ দখলে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। অনেক স্থানে খালকে খাল মনে না হয়ে ড্রেনের মতো মনে হয়। কোথাও কোথাও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে খালগুলো কার্যত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে শংকর বংশী খাল পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাজারসহ আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে এই খালের বিকল্প নেই। কিন্তু খালটির বিভিন্ন অংশ দখল ও ময়লায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না এবং সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার আগে খালগুলো দখলমুক্ত করা এবং জমে থাকা ময়লা অপসারণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত না হলে ড্রেনেজ ব্যবস্থাও অকার্যকর হয়ে পড়বে।
প্রায় ২.৫ বর্গমাইল আয়তনের বসুরহাট পৌরসভায় বসবাস করছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। দিন দিন বাড়ছে বহুতল ভবনের সংখ্যা। এসব ভবনের পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি নির্ভর করছে ড্রেন ব্যবস্থার ওপর। কিন্তু খালগুলোতে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলেই ড্রেনের পানি উপচে পড়ে রাস্তায় উঠে আসে। ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র দুর্গন্ধ, আর জনজীবন হয়ে পড়ে দুর্বিষহ। এর সঙ্গে বাড়ে বিভিন্ন রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও।
সচেতন মহলের মতে, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পৌর কর্তৃপক্ষকে আগাম পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ড্রেন ও খালের অবস্থা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি ড্রেন থেকে খাল এবং খাল থেকে নদীতে পানি প্রবাহ ঠিক আছে কিনা, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, খাল দখলমুক্ত করা, নিয়মিত খাল ও ড্রেন পরিষ্কার রাখা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বর্ষা আসার আগেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে এবার অন্তত বসুরহাট পৌরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন দেখার বিষয়, পৌর কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

মোহাম্মদ উল্যা, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :

২৬ মার্চ, ২০২৬,  6:54 AM

news image

চলতি শুষ্ক মৌসুম শেষ হয়ে ধীরে ধীরে শুরু হতে যাচ্ছে বর্ষা মৌসুম। আর বর্ষা এলেই নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভায় দেখা দেয় জলাবদ্ধতার চিরচেনা দুর্ভোগ। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়, কখনো কখনো তা কোমর সমান পর্যন্ত পৌঁছে জনজীবনকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে। গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে এমন চিত্রই নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে পৌরবাসীর জন্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক, বাজার এলাকা ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে যায়। এতে পথচারী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় দোকানপাট ও বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন অনেকেই।
তবে এবার যেন সেই দুর্ভোগ থেকে কিছুটা হলেও রেহাই মেলে, সে প্রত্যাশায় পৌর প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছেন স্থানীয়রা। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বসুরহাট পৌরসভার বিভিন্ন খাল অবৈধ দখলে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। অনেক স্থানে খালকে খাল মনে না হয়ে ড্রেনের মতো মনে হয়। কোথাও কোথাও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে খালগুলো কার্যত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে শংকর বংশী খাল পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাজারসহ আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে এই খালের বিকল্প নেই। কিন্তু খালটির বিভিন্ন অংশ দখল ও ময়লায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না এবং সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার আগে খালগুলো দখলমুক্ত করা এবং জমে থাকা ময়লা অপসারণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত না হলে ড্রেনেজ ব্যবস্থাও অকার্যকর হয়ে পড়বে।
প্রায় ২.৫ বর্গমাইল আয়তনের বসুরহাট পৌরসভায় বসবাস করছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। দিন দিন বাড়ছে বহুতল ভবনের সংখ্যা। এসব ভবনের পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি নির্ভর করছে ড্রেন ব্যবস্থার ওপর। কিন্তু খালগুলোতে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলেই ড্রেনের পানি উপচে পড়ে রাস্তায় উঠে আসে। ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র দুর্গন্ধ, আর জনজীবন হয়ে পড়ে দুর্বিষহ। এর সঙ্গে বাড়ে বিভিন্ন রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও।
সচেতন মহলের মতে, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পৌর কর্তৃপক্ষকে আগাম পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ড্রেন ও খালের অবস্থা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি ড্রেন থেকে খাল এবং খাল থেকে নদীতে পানি প্রবাহ ঠিক আছে কিনা, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, খাল দখলমুক্ত করা, নিয়মিত খাল ও ড্রেন পরিষ্কার রাখা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বর্ষা আসার আগেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে এবার অন্তত বসুরহাট পৌরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন দেখার বিষয়, পৌর কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।