ভোলায় জমি বিরোধের জেরে চাচার হামলায় আহত ৩ ভাতিজী
ভোলা প্রতিনিধি :
২৬ মার্চ, ২০২৬, 11:55 PM
ভোলায় জমি বিরোধের জেরে চাচার হামলায় আহত ৩ ভাতিজী
ভোলার লালমোহনে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় চাচার হামলার শিকার হয়েছেন আপন তিন ভাতিজী। এ ঘটনায় লালমোহন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ মতে-উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ ৪ সন্তান ও স্ত্রী রেখে মারা যান। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়ে। স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি আত্নসাতের জন্য নানান কৌশল শুরু করে মৃত আব্দুল হামিদের আপন বড় ভাই ইসমাইল হাওলাদার। তার অত্যাচার সহ্যকরতে না পেরে এবং উপার্জনের মতো কেউ না থাকায় মৃত আব্দুল হামিদের স্ত্রী ছোট সন্তানদের নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান এবং সন্তানদের নিয়ে সেখানেই বসবাস করেন । এদিকে এ সুযোগে মৃত হামিদের রেখে যাওয়া জমিজমা তার ভাই ইসমাইল হাওলাদার ভোগদখল করতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও হামিদের পরিবার দীর্ঘদিন নিজেদের জমিতে বসবাস করতে পারেনি।
পরবর্তীতে বিগত প্রায় তিন বছর আগে সন্তানরা বড় হলে আব্দুল হামিদের স্ত্রী এলাকায় ফিরে আসে এবংস্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিচার সালিশির মাধ্যমে কিছু জমি পেয়ে সেখানে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন । কিন্তুু ইসমাইল হাওলাদার এটা মেনে নিতে না পারেননি।
ভুক্তভোগী পরিবার জানান, তারা মূলত চট্টগ্রামে বসবাস করলেও মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসে আর তখনই বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন।সম্প্রতি ঈদ পালন করতে মৃত হামিদের কন্যারা গ্রামে আসে। গত মঙ্গলবার সকালে হামিদের বড় কন্যা কুলসুমের ছেলে পুকুরে নেমে মাছ ধরার চেষ্টা করলে ইসমাইল হাওলাদার এসে শিশুটিকে মারধর করেন। এ সময় কুলসুম, তার বোন জিনাদ নুসাইবা ও রাবেয়া প্রতিবাদ করতে এগিয়ে গেলে ইসমাইল হাওলাদার, তার নাতি ইলিয়াস ও শফিকসহ আরও কয়েকজন নারী-পুরুষ তাদের ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাদের আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। হামলাকারীদের হামলায় আহতরা হলেন—মৃত আব্দুল হামিদের তিন মেয়ে জিনাদ নুসাইবা (২৫), রাবেয়া (২২) ও কুলসুম (৩২)। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত কুলসুমকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামিদের মেঝো কন্য জিনাদ নুসাইবা লালমোহন থানায় একটি অভিযোগ করে।( উল্লেখ্য জিনাদ নুসাইবা অনুমোদিত আইপি টেলিভিশন CHDNews24-এর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।)এতে চাচা ইসমাইল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনার পরদিন বুধবার আবারও ইসমাইল হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের বাড়িতে গিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগীরা প্রাণভয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। হামলাকারীরা বাড়ির চারপাশে ভাঙচুর চালায় এবং পুকুরে যাওয়ার পথসহ বাইরে রাস্তায় যাতায়াতের পথেও কাঁটার বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়। নুসাইবা থানায় ফোন দিলেও তার রিসিব না করায় ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্হলে এসে পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক জিনাদ নুসাইবা বলেন, পারিবারিক পুকুরে মাছ ধরা ও জমির ন্যায্য অধিকার নিয়ে কথা বলায় তার চাচা ইসমাইল হাওলাদার ও তার নাতি ইলিয়াস এবং শফিক দা নিয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় তাকে গলায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বড় বোন কুলসুম হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন। ছোট বোন রাবেয়াও হামলায় আহত হন।
তিনি আরও জানান, তারা ঘরের ভেতরে তালাবদ্ধ অবস্থায় থেকে জানালার ফাঁক দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন এবং বিষয়টি থানায় জানান। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইসমাইল হাওলাদার বলেন, তার ভাই আব্দুল হামিদ জীবিত অবস্থায় কিছু জমি বিক্রি করেছিলেন এবং তাদের মধ্যে জমি ভাগাভাগি ছিল। তিনি দাবি করেন, ভাতিজারা তার কাছে কিছু জমি বিক্রি করেছে এবং বর্তমানে তাদের কিছু জমি বিভিন্ন দাগে রয়েছে।
ভোলা প্রতিনিধি :
২৬ মার্চ, ২০২৬, 11:55 PM
ভোলার লালমোহনে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় চাচার হামলার শিকার হয়েছেন আপন তিন ভাতিজী। এ ঘটনায় লালমোহন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ মতে-উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ ৪ সন্তান ও স্ত্রী রেখে মারা যান। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়ে। স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি আত্নসাতের জন্য নানান কৌশল শুরু করে মৃত আব্দুল হামিদের আপন বড় ভাই ইসমাইল হাওলাদার। তার অত্যাচার সহ্যকরতে না পেরে এবং উপার্জনের মতো কেউ না থাকায় মৃত আব্দুল হামিদের স্ত্রী ছোট সন্তানদের নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান এবং সন্তানদের নিয়ে সেখানেই বসবাস করেন । এদিকে এ সুযোগে মৃত হামিদের রেখে যাওয়া জমিজমা তার ভাই ইসমাইল হাওলাদার ভোগদখল করতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও হামিদের পরিবার দীর্ঘদিন নিজেদের জমিতে বসবাস করতে পারেনি।
পরবর্তীতে বিগত প্রায় তিন বছর আগে সন্তানরা বড় হলে আব্দুল হামিদের স্ত্রী এলাকায় ফিরে আসে এবংস্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিচার সালিশির মাধ্যমে কিছু জমি পেয়ে সেখানে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন । কিন্তুু ইসমাইল হাওলাদার এটা মেনে নিতে না পারেননি।
ভুক্তভোগী পরিবার জানান, তারা মূলত চট্টগ্রামে বসবাস করলেও মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসে আর তখনই বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন।সম্প্রতি ঈদ পালন করতে মৃত হামিদের কন্যারা গ্রামে আসে। গত মঙ্গলবার সকালে হামিদের বড় কন্যা কুলসুমের ছেলে পুকুরে নেমে মাছ ধরার চেষ্টা করলে ইসমাইল হাওলাদার এসে শিশুটিকে মারধর করেন। এ সময় কুলসুম, তার বোন জিনাদ নুসাইবা ও রাবেয়া প্রতিবাদ করতে এগিয়ে গেলে ইসমাইল হাওলাদার, তার নাতি ইলিয়াস ও শফিকসহ আরও কয়েকজন নারী-পুরুষ তাদের ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাদের আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। হামলাকারীদের হামলায় আহতরা হলেন—মৃত আব্দুল হামিদের তিন মেয়ে জিনাদ নুসাইবা (২৫), রাবেয়া (২২) ও কুলসুম (৩২)। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত কুলসুমকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামিদের মেঝো কন্য জিনাদ নুসাইবা লালমোহন থানায় একটি অভিযোগ করে।( উল্লেখ্য জিনাদ নুসাইবা অনুমোদিত আইপি টেলিভিশন CHDNews24-এর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।)এতে চাচা ইসমাইল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনার পরদিন বুধবার আবারও ইসমাইল হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের বাড়িতে গিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগীরা প্রাণভয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। হামলাকারীরা বাড়ির চারপাশে ভাঙচুর চালায় এবং পুকুরে যাওয়ার পথসহ বাইরে রাস্তায় যাতায়াতের পথেও কাঁটার বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়। নুসাইবা থানায় ফোন দিলেও তার রিসিব না করায় ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্হলে এসে পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক জিনাদ নুসাইবা বলেন, পারিবারিক পুকুরে মাছ ধরা ও জমির ন্যায্য অধিকার নিয়ে কথা বলায় তার চাচা ইসমাইল হাওলাদার ও তার নাতি ইলিয়াস এবং শফিক দা নিয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় তাকে গলায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বড় বোন কুলসুম হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন। ছোট বোন রাবেয়াও হামলায় আহত হন।
তিনি আরও জানান, তারা ঘরের ভেতরে তালাবদ্ধ অবস্থায় থেকে জানালার ফাঁক দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন এবং বিষয়টি থানায় জানান। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইসমাইল হাওলাদার বলেন, তার ভাই আব্দুল হামিদ জীবিত অবস্থায় কিছু জমি বিক্রি করেছিলেন এবং তাদের মধ্যে জমি ভাগাভাগি ছিল। তিনি দাবি করেন, ভাতিজারা তার কাছে কিছু জমি বিক্রি করেছে এবং বর্তমানে তাদের কিছু জমি বিভিন্ন দাগে রয়েছে।