পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগ ‘পুরুষাঙ্গে আগুন’—নির্মমতার শিকার ইউনুস,
পিরোজপুর প্রতিনিধি :
১৮ এপ্রিল, ২০২৬, 3:14 AM
পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগ ‘পুরুষাঙ্গে আগুন’—নির্মমতার শিকার ইউনুস,
পিরোজপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোঃ ইউনুস (অস্থায়ী কেয়ারটেকার) বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তার পরিবার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) পিরোজপুর পুলিশ অফিসার্স মেসে কর্মরত কেয়ারটেকার ইউনুসকে টাকা চুরির অভিযোগে আটক করে ডিবি পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এমনকি তার পুরুষাঙ্গে মোমবাতি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি পরিবারের।
পরবর্তীতে বিষয়টি গোপন রাখতে ইউনুসকে প্রথমে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তার ইশতিয়াক নামের এক ডাক্তারকে দেখানো হয়। তবে ঘটনা জানাজানি হতে পারে—এই আশঙ্কায় চিকিৎসকদের কাছেও তার প্রকৃত সমস্যার কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরের দিন ১৪ এপ্রিল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে খুলনার একটি সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও তাকে জোরপূর্বক বলতে বাধ্য করা হয় যে, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে সে নিজেই নিজের পুরুষাঙ্গ পুড়িয়ে ফেলেছে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে।
ঘটনার পর থেকে ইউনুস শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার। পুলিশের সঙ্গে পেরে উঠতে না পারার আশঙ্কায় প্রথমদিকে তারা কোনো অভিযোগ করেননি। তবে পরে বিষয়টির সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার মনজুর আহম্মেদ সিদ্দিকী—এমনটাই দাবি ভুক্তভোগীর।
এদিকে ইউনুসের পরিবার অভিযোগ করেছে, ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে একটি কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো প্রকার প্রলোভন নয়, বরং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, “একজন খুনিকেও এভাবে নির্যাতন করা হয় না, যেভাবে আমার ভাইকে বিনা অপরাধে করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ডিবি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন এবং এ বিষয়ে নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং প্রয়োজনে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহম্মেদ সিদ্দিকির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইউনুসের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় শুক্রবার তাকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্বাগত হাওলাদার জানান, “তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং পুরুষাঙ্গে পোড়া দাগ দেখা গেছে। আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পিরোজপুর প্রতিনিধি :
১৮ এপ্রিল, ২০২৬, 3:14 AM
পিরোজপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোঃ ইউনুস (অস্থায়ী কেয়ারটেকার) বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তার পরিবার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) পিরোজপুর পুলিশ অফিসার্স মেসে কর্মরত কেয়ারটেকার ইউনুসকে টাকা চুরির অভিযোগে আটক করে ডিবি পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এমনকি তার পুরুষাঙ্গে মোমবাতি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি পরিবারের।
পরবর্তীতে বিষয়টি গোপন রাখতে ইউনুসকে প্রথমে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তার ইশতিয়াক নামের এক ডাক্তারকে দেখানো হয়। তবে ঘটনা জানাজানি হতে পারে—এই আশঙ্কায় চিকিৎসকদের কাছেও তার প্রকৃত সমস্যার কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরের দিন ১৪ এপ্রিল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে খুলনার একটি সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও তাকে জোরপূর্বক বলতে বাধ্য করা হয় যে, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে সে নিজেই নিজের পুরুষাঙ্গ পুড়িয়ে ফেলেছে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে।
ঘটনার পর থেকে ইউনুস শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার। পুলিশের সঙ্গে পেরে উঠতে না পারার আশঙ্কায় প্রথমদিকে তারা কোনো অভিযোগ করেননি। তবে পরে বিষয়টির সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার মনজুর আহম্মেদ সিদ্দিকী—এমনটাই দাবি ভুক্তভোগীর।
এদিকে ইউনুসের পরিবার অভিযোগ করেছে, ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে একটি কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো প্রকার প্রলোভন নয়, বরং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, “একজন খুনিকেও এভাবে নির্যাতন করা হয় না, যেভাবে আমার ভাইকে বিনা অপরাধে করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ডিবি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন এবং এ বিষয়ে নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং প্রয়োজনে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহম্মেদ সিদ্দিকির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইউনুসের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় শুক্রবার তাকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্বাগত হাওলাদার জানান, “তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং পুরুষাঙ্গে পোড়া দাগ দেখা গেছে। আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।