ঢাকা ২২ এপ্রিল, ২০২৬
শিরোনামঃ
ফরিদপুরে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা-২০২৬ উদ্বোধন বড়লেখায় এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত অবৈধ বালু মাটি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে - জেলা প্রশাসক হবিগঞ্জ গাজীপুরে ঝুট বাণিজ্য নিয়ে দ্বন্দ্বে ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি কুষ্টিয়ায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২৯৯ শিক্ষার্থী গলাচিপায় খোলা আকাশের নিচে দুই অসহায় পরিবার পদ্মার চরে পুলিশের ওপর হামলা, আসামি ছিনতাই নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কটে হত্যা অব্যবহৃত মোবাইল ডাটার মেয়াদ আনলিমিটেডে রূপান্তরে উদ্যোগ নেওয়া হবে বর্তমান সরকার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে ৯০.৬৬ মিলিয়ন ডলার : অর্থমন্ত্রী

গলাচিপায় খোলা আকাশের নিচে দুই অসহায় পরিবার

#
news image

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বড় গাবুয়া গ্রামে ফুটে উঠেছে হৃদয়বিদারক এক মানবিক চিত্র। প্রকৃতির নির্মম আঘাতে বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন দুইটি অসহায় পরিবার। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, নেই ন্যূনতম নিরাপত্তা—তবুও জীবনসংগ্রাম থেমে নেই তাদের।

গোলখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বড় গাবুয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত কালাম হাওলাদারের মেয়ে মোসাঃ চাম্পা বেগম জানান, গত চৈত্র মাসে আকস্মিক ঝড়ে তার সরকারি আবাসন ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়। এরপর থেকে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটছে তার।

আবেগে ভেঙে পড়ে চাম্পা বেগম বলেন, “বৃষ্টি এলে ভিজে যাই, রোদে পুড়ে যাই। সন্তানদের নিয়ে কীভাবে বেঁচে আছি—তা শুধু আল্লাহই জানেন। রাতে ঘুমানোরও জায়গা নেই, ভয় নিয়ে থাকতে হয়।”

একই রকম অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন নলুয়াভাগি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমেনা বেগম (৫৫)। মৃত আদম আলী প্যাদার মেয়ে ও মৃত হাকিম আলীর স্ত্রী এই নারী জানান, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় তার বসতঘর সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এখন তিনিও খোলা আকাশের নিচেই দিনযাপন করছেন।

চোখের পানি মুছতে মুছতে আমেনা বেগম বলেন, “আমি খুব গরিব মানুষ। একটা ঘর আর কিছু টিন পেলে অন্তত বাঁচতে পারতাম। এখন বৃষ্টি-রোদ সব সহ্য করতে হয়।”

স্থানীয়দের দাবি, এই দুই পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। দুর্যোগের পর তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো তেমন কেউ নেই। 

দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা না পেলে তাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে গোলখালী ইউনিয়নের প্যানেল-১ চেয়ারম্যান আকন মোঃ আবু সাইদ বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তারা অত্যন্ত অসহায় ও দরিদ্র। ইতোমধ্যে তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “তারা যদি লিখিত আবেদন করেন, তাহলে সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি জরুরি সহায়তার বিষয়টিও দেখা হবে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এই দুই পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

একটি ছোট্ট ঘর—যেখানে থাকবে নিরাপত্তা, শান্তি আর স্বস্তি—এই স্বপ্ন নিয়েই প্রতিটি দিন পার করছেন চাম্পা ও আমেনা। এখন প্রশ্ন একটাই—তাদের এই আর্তনাদ কত দ্রুত সংশ্লিষ্টদের হৃদয়ে পৌঁছাবে?

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

২১ এপ্রিল, ২০২৬,  8:05 PM

news image

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বড় গাবুয়া গ্রামে ফুটে উঠেছে হৃদয়বিদারক এক মানবিক চিত্র। প্রকৃতির নির্মম আঘাতে বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন দুইটি অসহায় পরিবার। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, নেই ন্যূনতম নিরাপত্তা—তবুও জীবনসংগ্রাম থেমে নেই তাদের।

গোলখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বড় গাবুয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত কালাম হাওলাদারের মেয়ে মোসাঃ চাম্পা বেগম জানান, গত চৈত্র মাসে আকস্মিক ঝড়ে তার সরকারি আবাসন ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়। এরপর থেকে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটছে তার।

আবেগে ভেঙে পড়ে চাম্পা বেগম বলেন, “বৃষ্টি এলে ভিজে যাই, রোদে পুড়ে যাই। সন্তানদের নিয়ে কীভাবে বেঁচে আছি—তা শুধু আল্লাহই জানেন। রাতে ঘুমানোরও জায়গা নেই, ভয় নিয়ে থাকতে হয়।”

একই রকম অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন নলুয়াভাগি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমেনা বেগম (৫৫)। মৃত আদম আলী প্যাদার মেয়ে ও মৃত হাকিম আলীর স্ত্রী এই নারী জানান, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় তার বসতঘর সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এখন তিনিও খোলা আকাশের নিচেই দিনযাপন করছেন।

চোখের পানি মুছতে মুছতে আমেনা বেগম বলেন, “আমি খুব গরিব মানুষ। একটা ঘর আর কিছু টিন পেলে অন্তত বাঁচতে পারতাম। এখন বৃষ্টি-রোদ সব সহ্য করতে হয়।”

স্থানীয়দের দাবি, এই দুই পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। দুর্যোগের পর তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো তেমন কেউ নেই। 

দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা না পেলে তাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে গোলখালী ইউনিয়নের প্যানেল-১ চেয়ারম্যান আকন মোঃ আবু সাইদ বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তারা অত্যন্ত অসহায় ও দরিদ্র। ইতোমধ্যে তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “তারা যদি লিখিত আবেদন করেন, তাহলে সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি জরুরি সহায়তার বিষয়টিও দেখা হবে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এই দুই পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

একটি ছোট্ট ঘর—যেখানে থাকবে নিরাপত্তা, শান্তি আর স্বস্তি—এই স্বপ্ন নিয়েই প্রতিটি দিন পার করছেন চাম্পা ও আমেনা। এখন প্রশ্ন একটাই—তাদের এই আর্তনাদ কত দ্রুত সংশ্লিষ্টদের হৃদয়ে পৌঁছাবে?