সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২১ মে, ২০২৬, 10:09 PM
সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি
সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ অনুযায়ী, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের নির্বাচিত ১৫ জন কর্মকর্তাকে পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্তে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৩ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব একরামুল কবির জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাওয়ায়, এখানে কর্মরত জুডিশিয়াল সার্ভিস-এর কর্মকর্তারা বেতন পাচ্ছিলেন না।
তাদের অফিসেও গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। এজন্য তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা রক্ষায়, তাদেরকে আইন মন্ত্রণালয়ের সংযুক্তি প্রদান করা হয়েছে।
পরবর্তীতে যোগ্যতা অনুযায়ী তাদেরকে অন্য কোথাও প্রদায়ন করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংযুক্তিকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার বিচারিক কর্মকর্তারা।
তারা বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— শেখ আশফাকুর রহমান, বেগম শারমিন নিগার, মোহাম্মদ হালিম উল্লাহ চৌধুরী, রুহুল আমিন ও মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন।
তারা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে সিনিয়র সচিব ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তাকেও সংযুক্ত করা হয়েছে।
এদের মধ্যে রয়েছেন— মুনসী আব্দুল মজিদ, মোহা. ইমদাদুল হক, বি.এম. তারিকুল কবির ও মনজুর কাদের।
তারা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তাদেরও আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে মো. হারুন রেজা ও মো. হাফিজুল ইসলামকে উপসচিব পদ থেকে সংযুক্ত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
একইভাবে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে মুহসিনা হোসেন তুষি ও সাদিয়া আফরিনকে সিনিয়র সহকারী সচিব পদ থেকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া সিনিয়র সিভিল জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তা মো. আরমান হোসেনকেও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পদ থেকে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সিভিল জজ) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে এবং এটি গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, বিচারিক প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা ও অভিজ্ঞ বিচারিক কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কাজে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এ ধরনের সংযুক্তি কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব মো. একরামুল কবির বাসসকে জানান, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাওয়ার পর, সেখানে কর্মরত বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের চাকরিগত অবস্থান ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে সচিবালয়ের কার্যক্রম সীমিত হয়ে আসে এবং ধাপে ধাপে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহও গুটিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা, আর্থিক সুবিধা ও প্রশাসনিক অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে সরকার তাদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সংযুক্তির ফলে বিচারিক কর্মকর্তাদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পদায়নের ক্ষেত্রেও একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সম্ভব হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২১ মে, ২০২৬, 10:09 PM
সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ অনুযায়ী, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের নির্বাচিত ১৫ জন কর্মকর্তাকে পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্তে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৩ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব একরামুল কবির জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাওয়ায়, এখানে কর্মরত জুডিশিয়াল সার্ভিস-এর কর্মকর্তারা বেতন পাচ্ছিলেন না।
তাদের অফিসেও গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। এজন্য তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা রক্ষায়, তাদেরকে আইন মন্ত্রণালয়ের সংযুক্তি প্রদান করা হয়েছে।
পরবর্তীতে যোগ্যতা অনুযায়ী তাদেরকে অন্য কোথাও প্রদায়ন করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংযুক্তিকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার বিচারিক কর্মকর্তারা।
তারা বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— শেখ আশফাকুর রহমান, বেগম শারমিন নিগার, মোহাম্মদ হালিম উল্লাহ চৌধুরী, রুহুল আমিন ও মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন।
তারা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে সিনিয়র সচিব ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তাকেও সংযুক্ত করা হয়েছে।
এদের মধ্যে রয়েছেন— মুনসী আব্দুল মজিদ, মোহা. ইমদাদুল হক, বি.এম. তারিকুল কবির ও মনজুর কাদের।
তারা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তাদেরও আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে মো. হারুন রেজা ও মো. হাফিজুল ইসলামকে উপসচিব পদ থেকে সংযুক্ত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
একইভাবে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে মুহসিনা হোসেন তুষি ও সাদিয়া আফরিনকে সিনিয়র সহকারী সচিব পদ থেকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া সিনিয়র সিভিল জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তা মো. আরমান হোসেনকেও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পদ থেকে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সিভিল জজ) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে এবং এটি গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, বিচারিক প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা ও অভিজ্ঞ বিচারিক কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কাজে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এ ধরনের সংযুক্তি কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব মো. একরামুল কবির বাসসকে জানান, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাওয়ার পর, সেখানে কর্মরত বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের চাকরিগত অবস্থান ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে সচিবালয়ের কার্যক্রম সীমিত হয়ে আসে এবং ধাপে ধাপে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহও গুটিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা, আর্থিক সুবিধা ও প্রশাসনিক অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে সরকার তাদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সংযুক্তির ফলে বিচারিক কর্মকর্তাদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পদায়নের ক্ষেত্রেও একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সম্ভব হবে।