গাজীপুরে পুলিশের পোশাক ও বিআরটিএর জাল সিলসহ ভুয়া সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
মাজনুন মাসুদ :
০১ জুলাই, ২০২৬, 8:13 PM
গাজীপুরে পুলিশের পোশাক ও বিআরটিএর জাল সিলসহ ভুয়া সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
গাজীপুর মহানগরীতে সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে জালিয়াতি, ভুয়া দাপ্তরিক দলিল তৈরি এবং চোরাইমাল কেনাবেচায় জড়িত মো. রুবেল খাঁ (২৮) নামের এক দুর্ধর্ষ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) মহানগর গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগ এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় তার হেফাজত থেকে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেল, ৫টি ল্যাপটপ, পুলিশের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং বিআরটিএ’র জাল সিলমোহরসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়। আজ বুধবার (১ জুলাই) জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মহানগর গোয়েন্দা-দক্ষিণ বিভাগ) স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মো. রুবেল খাঁ ঝিনাইদহ জেলা সদরের টিকারী (টিকারী বাজার ফোরসান্দি) এলাকার মো. আবু বকর খাঁর ছেলে। সে বর্তমানে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন দক্ষিণ খাইলকুর পেয়ারাবাগান রোডের আবুল কালাম আজাদের বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে এই আন্তর্জাতিক কায়দার অপরাধ চক্র পরিচালনা করে আসছিল।
প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, গতকাল ৩০ জুন (মঙ্গলবার) জিএমপির গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগের একটি চৌকস টিম এসআই মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহানগর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে এই গোপন সংবাদ পায়। সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ দক্ষিণ খাইলকুর পেয়ারাবাগান রোডের ওই বাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে রুবেল খাঁকে আটক করে। পরে তার কক্ষ তল্লাশি করে জালিয়াতি ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়।
তল্লাশিকালে তার কক্ষ থেকে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেল, ১টি মাস্টার কি (মোটরসাইকেল চুরির বিশেষ চাবি), ৫টি ল্যাপটপ এবং ৩টি প্রিন্টার জব্দ করা হয়। এছাড়া পুলিশের ছদ্মবেশ ধারণের জন্য ব্যবহৃত ১টি পুলিশ ভেস্ট, ১ জোড়া পুলিশের বুটজুতা, ১টি পুলিশের বেল্ট, ২টি পুলিশের ফিল্ডক্যাপ, ১টি পুলিশের পিস্তল কভার, ১টি পুলিশের শোল্ডার লাইট, ১টি ওয়াকিটকি সেট, ১টি হ্যান্ডকাফ (কভারসহ), ১টি হেলমেট এবং বাংলাদেশ পুলিশের 'স্পেশাল ব্রাঞ্চের' (এসবি) ছবিযুক্ত ২টি ভুয়া আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়।
একই সাথে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের ৫টি জাল সিলমোহর (যার একটিতে 'মো: মফিজুর রহমান, উচ্চমান সহকারী/কম্পিউটার অপারেটর, বিআরটিএ ঝিনাইদহ সার্কেল' লেখা), বিআরটিএ’র ১১টি জাল ই-রেজিস্ট্রেশন কার্ড, ৮টি ভুয়া মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করা পরিশোধের জাল সনদপত্র, ১টি জাল একনলেজমেন্ট স্লিপ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জব্দ করা হয়। এছাড়াও ডিএমপি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের ২৭টি স্টিকার, ‘এসআই/রুবেল খাঁ’ লেখা ১২টি ভিজিটিং কার্ড, 'রিয়ালিটিভি অনলাইন নিউজ মিডিয়া'র ১টি আইডি কার্ড, ১টি প্রেস মাইক্রোফোন এবং ৯টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছে যে সে মূলত কোনো সরকারি কর্মচারী বা পুলিশ কর্মকর্তা নয়। সে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পুলিশ ও বিআরটিএ’র সরঞ্জাম ও সিলমোহর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণা করে আসছিল। পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল সদর ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গাছা থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মাজনুন মাসুদ :
০১ জুলাই, ২০২৬, 8:13 PM
গাজীপুর মহানগরীতে সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে জালিয়াতি, ভুয়া দাপ্তরিক দলিল তৈরি এবং চোরাইমাল কেনাবেচায় জড়িত মো. রুবেল খাঁ (২৮) নামের এক দুর্ধর্ষ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) মহানগর গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগ এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় তার হেফাজত থেকে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেল, ৫টি ল্যাপটপ, পুলিশের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং বিআরটিএ’র জাল সিলমোহরসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়। আজ বুধবার (১ জুলাই) জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মহানগর গোয়েন্দা-দক্ষিণ বিভাগ) স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মো. রুবেল খাঁ ঝিনাইদহ জেলা সদরের টিকারী (টিকারী বাজার ফোরসান্দি) এলাকার মো. আবু বকর খাঁর ছেলে। সে বর্তমানে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন দক্ষিণ খাইলকুর পেয়ারাবাগান রোডের আবুল কালাম আজাদের বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে এই আন্তর্জাতিক কায়দার অপরাধ চক্র পরিচালনা করে আসছিল।
প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, গতকাল ৩০ জুন (মঙ্গলবার) জিএমপির গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগের একটি চৌকস টিম এসআই মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহানগর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে এই গোপন সংবাদ পায়। সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ দক্ষিণ খাইলকুর পেয়ারাবাগান রোডের ওই বাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে রুবেল খাঁকে আটক করে। পরে তার কক্ষ তল্লাশি করে জালিয়াতি ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়।
তল্লাশিকালে তার কক্ষ থেকে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেল, ১টি মাস্টার কি (মোটরসাইকেল চুরির বিশেষ চাবি), ৫টি ল্যাপটপ এবং ৩টি প্রিন্টার জব্দ করা হয়। এছাড়া পুলিশের ছদ্মবেশ ধারণের জন্য ব্যবহৃত ১টি পুলিশ ভেস্ট, ১ জোড়া পুলিশের বুটজুতা, ১টি পুলিশের বেল্ট, ২টি পুলিশের ফিল্ডক্যাপ, ১টি পুলিশের পিস্তল কভার, ১টি পুলিশের শোল্ডার লাইট, ১টি ওয়াকিটকি সেট, ১টি হ্যান্ডকাফ (কভারসহ), ১টি হেলমেট এবং বাংলাদেশ পুলিশের 'স্পেশাল ব্রাঞ্চের' (এসবি) ছবিযুক্ত ২টি ভুয়া আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়।
একই সাথে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের ৫টি জাল সিলমোহর (যার একটিতে 'মো: মফিজুর রহমান, উচ্চমান সহকারী/কম্পিউটার অপারেটর, বিআরটিএ ঝিনাইদহ সার্কেল' লেখা), বিআরটিএ’র ১১টি জাল ই-রেজিস্ট্রেশন কার্ড, ৮টি ভুয়া মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করা পরিশোধের জাল সনদপত্র, ১টি জাল একনলেজমেন্ট স্লিপ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জব্দ করা হয়। এছাড়াও ডিএমপি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের ২৭টি স্টিকার, ‘এসআই/রুবেল খাঁ’ লেখা ১২টি ভিজিটিং কার্ড, 'রিয়ালিটিভি অনলাইন নিউজ মিডিয়া'র ১টি আইডি কার্ড, ১টি প্রেস মাইক্রোফোন এবং ৯টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছে যে সে মূলত কোনো সরকারি কর্মচারী বা পুলিশ কর্মকর্তা নয়। সে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পুলিশ ও বিআরটিএ’র সরঞ্জাম ও সিলমোহর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণা করে আসছিল। পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল সদর ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গাছা থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।