কোনো কায়েমী স্বার্থ যেন আপনাদের তাদের দলদাসে রূপান্তরিত করতে না পারে - স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
রাজশাহী থেকে বাবুল ঃ
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, 1:12 PM
কোনো কায়েমী স্বার্থ যেন আপনাদের তাদের দলদাসে রূপান্তরিত করতে না পারে - স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রশিক্ষণ সমাপনকারী সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে বলেছেন, কোনো কায়েমী স্বার্থ যেন আপনাদের তাদের দলদাসে রূপান্তরিত করতে না পারে সেজন্য সর্বদা সতর্ক থাকবেন। আপনারা কর্মক্ষেত্রে রাগ-অনুরাগের বশবর্তী না হয়ে দায়িত্বশীল হিসেবে কাজ করবেন। দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এদেশের সকল মানুষ যে আইনের দৃষ্টিতে সমান, সেই সত্যটি সর্বদা ধারণ করবেন, লালন করবেন এবং চর্চা করবেন।
গতকাল রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সারদা পুলিশ একাডেমিতে ৪০তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারগণের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ বাহিনী কোনো শক্তির প্রতীক নয়, এটা জনগণের সুরক্ষা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক- এমন মন্তব্য করে উপদেষ্টা প্রশিক্ষণ সমাপনকারীদেরকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন,জনগণকে হৃদয়ে স্থান দিয়ে তাদের আস্থা ও ভরসার প্রতীক হয়ে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিতপূর্বক সেবা প্রদান করতে হবে। আপনারা সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দিয়ে জনসেবার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।আপনারা হবেন জনবান্ধব পুলিশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
পুলিশের সেবা নিতে এসে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখার নির্দেশনা দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাধারণ মানুষকে সম্মান করতে শিখুন। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে আপনাদের আত্মনিয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাদের ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। তথ্য-প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে তেমনি পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে তিনি সহকারী পুলিশ সুপারদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
শৈশবের পর কৈশোর-তারুণ্য-যৌবনে নাগরিকাদের লালন-পালনে রাষ্ট্র যে বিনিয়োগ করে সে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আপনি সরকারের এখন প্রশিক্ষিত কর্মী। এখন আপনার দেশকে দেওয়ার পালা। সুতরাং সেভাবে নিজেকে ভাবুন।
এসময় পুলিশকে একটি প্রশিক্ষিত, যুগোপযোগী ও সেবাধর্মী মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
উল্লেখ্য যে, এ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ৩৮তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৩ জন ও ৪০ তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৫৭ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। এবারের প্রশিক্ষণে সেরা প্রবেশনার, সেরা একাডেমিক ও সেরা স্যুটার হয়েছেন এএসপি মোঃ রুহুল আমিন লাবু এবং সেরা ইন ফিল্ড এ্যাক্টিভিটিস ও সেরা ঘোড়সওয়ার হয়েছেন এএসপি এম. সায়েলিন।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান মঞ্চে আইজিপি বাহারুল আলম ও সারদা পুলিশ একাডেমীর প্রিন্সিপাল মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা উপস্থিত ছিলেন।
বর্নাঢ্য এ প্যারেড অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বগুড়া ১১ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাওয়াদুল হক, বিভাগীয় কমিশনার(অতিরিক্ত সচিব) খোন্দকার আজিম আহমেদ এনডিসি, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি আবু নাছের মোহাম্মদ খালেদ, আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী থেকে বাবুল ঃ
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, 1:12 PM
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রশিক্ষণ সমাপনকারী সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে বলেছেন, কোনো কায়েমী স্বার্থ যেন আপনাদের তাদের দলদাসে রূপান্তরিত করতে না পারে সেজন্য সর্বদা সতর্ক থাকবেন। আপনারা কর্মক্ষেত্রে রাগ-অনুরাগের বশবর্তী না হয়ে দায়িত্বশীল হিসেবে কাজ করবেন। দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এদেশের সকল মানুষ যে আইনের দৃষ্টিতে সমান, সেই সত্যটি সর্বদা ধারণ করবেন, লালন করবেন এবং চর্চা করবেন।
গতকাল রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সারদা পুলিশ একাডেমিতে ৪০তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারগণের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ বাহিনী কোনো শক্তির প্রতীক নয়, এটা জনগণের সুরক্ষা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক- এমন মন্তব্য করে উপদেষ্টা প্রশিক্ষণ সমাপনকারীদেরকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন,জনগণকে হৃদয়ে স্থান দিয়ে তাদের আস্থা ও ভরসার প্রতীক হয়ে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিতপূর্বক সেবা প্রদান করতে হবে। আপনারা সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দিয়ে জনসেবার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।আপনারা হবেন জনবান্ধব পুলিশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
পুলিশের সেবা নিতে এসে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখার নির্দেশনা দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাধারণ মানুষকে সম্মান করতে শিখুন। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে আপনাদের আত্মনিয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাদের ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। তথ্য-প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে তেমনি পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে তিনি সহকারী পুলিশ সুপারদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
শৈশবের পর কৈশোর-তারুণ্য-যৌবনে নাগরিকাদের লালন-পালনে রাষ্ট্র যে বিনিয়োগ করে সে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আপনি সরকারের এখন প্রশিক্ষিত কর্মী। এখন আপনার দেশকে দেওয়ার পালা। সুতরাং সেভাবে নিজেকে ভাবুন।
এসময় পুলিশকে একটি প্রশিক্ষিত, যুগোপযোগী ও সেবাধর্মী মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
উল্লেখ্য যে, এ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ৩৮তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৩ জন ও ৪০ তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৫৭ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। এবারের প্রশিক্ষণে সেরা প্রবেশনার, সেরা একাডেমিক ও সেরা স্যুটার হয়েছেন এএসপি মোঃ রুহুল আমিন লাবু এবং সেরা ইন ফিল্ড এ্যাক্টিভিটিস ও সেরা ঘোড়সওয়ার হয়েছেন এএসপি এম. সায়েলিন।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান মঞ্চে আইজিপি বাহারুল আলম ও সারদা পুলিশ একাডেমীর প্রিন্সিপাল মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা উপস্থিত ছিলেন।
বর্নাঢ্য এ প্যারেড অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বগুড়া ১১ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাওয়াদুল হক, বিভাগীয় কমিশনার(অতিরিক্ত সচিব) খোন্দকার আজিম আহমেদ এনডিসি, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি আবু নাছের মোহাম্মদ খালেদ, আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পর্কিত