ঢাকা ০৯ জুন, ২০২৬
শিরোনামঃ
চাখার-মীরেরহাট সড়ক সংস্কারে চরম ধীরগতি: দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ বঙ্গোপসাগর রক্ষার শপথ নিলেন শতাধিক তরুণ পরিবেশকর্মী ইসরাইলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের জয় দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে চায় বাংলাদেশ শিল্পকলায় উদীয়মান নাট্যনির্দেশকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ সিলেট অঞ্চলের প্রতিযোগিতায় হবিগঞ্জ জেলার বিজয়ীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জেলা প্রশাসক  হবিগঞ্জ নওগাঁয় ৪০ লাখ টাকার গাঁজা উদ্ধার, শীর্ষ দুই মাদক সম্রাট গ্রেফতার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বঞ্চিত, তালিকায় স্বজনপ্রীতির, শাল্লায় কৃষকদের প্রতিবাদ মিছিল  নীলফামারীর ডোমার বিএডিসি খামারে  মাটির উর্বরতা ফিরাতে ধইঞ্চা চাষ ফটিকছড়িতে বিষপানে যুবকের আত্নহত্যা

গাছে গাছে দোল খাচ্ছে আমের গুটি

#
news image

ঋতু বৈচিত্রের বাংলায় চৈত্রের শেষ ভাগে নেত্রকোনার গাছে গাছে বাতাসে দোল খাওয়া আমের মুকুল এখন প্রকৃতির হাওয়ায় নতুন সবুজ পাতার গানের তালে গুটি হয়ে দুলছে।

সরেজমিনে জেলা সদরসহ কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখাগেছে, রাস্তার দু’পাশে, বাড়ির আঙিনায়, আমবাগানসহ সবখানেই গাছে গাছে আমের গুটিতে ছেয়ে গেছে পুরো গাছ। নতুন পাতার বিছানায় গুটি গুটি আম যেন হাওয়ায় দুলে মাথা নেড়ে জানান দিচ্ছে চৈত্রের অন্তর্ধানে, ঋতু পরিবর্তনে প্রকৃতির বুকে নতুনের বারতা। মুকুল ঝড়ে আমের গুটিতে ভরে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুল ঝড়ে এখন আমের গুটিতে ভরে গেছে ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছসহ বাগানের ছোট-বড় গাছগুলো। এ যেন গাছে গাছে সবুজের সাথে সবুজের সমারোহ।

জেলা সদরের কাইলাটি গ্রামের বাসিন্দা সাজুল ইসলাম, মৌগাতি গ্রামের নীরেন্দ্র রায়, সিংহের বাংলা গ্রামের অর্জন সাহা, আমতলা গ্রামের নজরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমাদের এলাকার প্রতিটা আম গাছেই অনেক মুকুল আসা দেখে মনটা ভরে উঠেছিল। চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ে এসে মুকুল ঝড়ে বোঁটায় ছোট ছোট গুটি ধরতে শুরু করে। এখন প্রায় সব গাছের বোঁটাতেই গুটি ঝুলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আমের উৎপাদন ভাল হবে বলে আশা করছি।

এলাকার কয়েকজন আম চাষির সাথে কথা বললে তারা বলেন, সব গাছেই মুকুল ঝড়ে এখন পুরোপুরিভাবে আমের গুটি ধরেছে। আমাদের এলাকায় এখনও বানিজ্যিকভাবে ব্যাপক আমের চাষ শুরু হয়নি। তবে আমের জাতের মধ্যে আম্রুপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষিরসাপাসহ অন্যান্য জাতের আম চাষের উপযুক্ত হওয়ায় এলাকার চাষিরা নিজ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে বাগান করেছেন। ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ না হলে এবার কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশা করছেন তারা। আর ধীরে ধীরে উপজেলা জুড়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে আমের বাগান।

তারা আরও বলেন, গত মৌসুমে আমের বাজার ভালো থাকায় লাভবান হয়েছিলেন চাষিরা। গত বছরের চেয়ে এ বছর আম বাগান আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে বলে আশা করছেন চাষিরা।

জেলার সিংহের বাংলা গ্রামের আম চাষি সিরাজ হাসান বলেন, আমি চার বছর আগে শুরু করি ফলের চাষ। এবার কমলা চাষে লাভবান হয়েছি। এখন আমের বাগান করেছি। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে আমার বাগানে লাগানো আম গাছে মুকুল ঝড়ে গুটি আসা শুরু হয়েছে। বেশির ভাগ গাছই গুটিতে ছেয়ে গেছে। আম চাষেও লাভবান হবার আশাকরছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নূরুজ্জামান বলেন, আমাদের উপজেলা উপসহকারীরা আমের গুটি ঝরা রোধ করতে বাগান মালিক ও চাষিদের আমের গাছে বেশি করে পানি দিতে পরামর্শ দিচ্ছেন এবং ছত্রাকনাশক ও বোরন স্প্রে করতে বলা হচ্ছে। গত বছরে তুলনায় আমের গুটিও ভালো রয়েছে। তবে কিছু কিছু জাতের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত আম ঝরানোর জন্য এক ধরণের হরমোন নিঃসরণ করে থাকে ফলে গুটি ঝরে যায়। প্রাকৃতিক কোন বড় ধরণের দুর্যোগ না হলে আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

০৮ এপ্রিল, ২০২৫,  11:40 PM

news image

ঋতু বৈচিত্রের বাংলায় চৈত্রের শেষ ভাগে নেত্রকোনার গাছে গাছে বাতাসে দোল খাওয়া আমের মুকুল এখন প্রকৃতির হাওয়ায় নতুন সবুজ পাতার গানের তালে গুটি হয়ে দুলছে।

সরেজমিনে জেলা সদরসহ কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখাগেছে, রাস্তার দু’পাশে, বাড়ির আঙিনায়, আমবাগানসহ সবখানেই গাছে গাছে আমের গুটিতে ছেয়ে গেছে পুরো গাছ। নতুন পাতার বিছানায় গুটি গুটি আম যেন হাওয়ায় দুলে মাথা নেড়ে জানান দিচ্ছে চৈত্রের অন্তর্ধানে, ঋতু পরিবর্তনে প্রকৃতির বুকে নতুনের বারতা। মুকুল ঝড়ে আমের গুটিতে ভরে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুল ঝড়ে এখন আমের গুটিতে ভরে গেছে ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছসহ বাগানের ছোট-বড় গাছগুলো। এ যেন গাছে গাছে সবুজের সাথে সবুজের সমারোহ।

জেলা সদরের কাইলাটি গ্রামের বাসিন্দা সাজুল ইসলাম, মৌগাতি গ্রামের নীরেন্দ্র রায়, সিংহের বাংলা গ্রামের অর্জন সাহা, আমতলা গ্রামের নজরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমাদের এলাকার প্রতিটা আম গাছেই অনেক মুকুল আসা দেখে মনটা ভরে উঠেছিল। চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ে এসে মুকুল ঝড়ে বোঁটায় ছোট ছোট গুটি ধরতে শুরু করে। এখন প্রায় সব গাছের বোঁটাতেই গুটি ঝুলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আমের উৎপাদন ভাল হবে বলে আশা করছি।

এলাকার কয়েকজন আম চাষির সাথে কথা বললে তারা বলেন, সব গাছেই মুকুল ঝড়ে এখন পুরোপুরিভাবে আমের গুটি ধরেছে। আমাদের এলাকায় এখনও বানিজ্যিকভাবে ব্যাপক আমের চাষ শুরু হয়নি। তবে আমের জাতের মধ্যে আম্রুপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষিরসাপাসহ অন্যান্য জাতের আম চাষের উপযুক্ত হওয়ায় এলাকার চাষিরা নিজ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে বাগান করেছেন। ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ না হলে এবার কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশা করছেন তারা। আর ধীরে ধীরে উপজেলা জুড়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে আমের বাগান।

তারা আরও বলেন, গত মৌসুমে আমের বাজার ভালো থাকায় লাভবান হয়েছিলেন চাষিরা। গত বছরের চেয়ে এ বছর আম বাগান আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে বলে আশা করছেন চাষিরা।

জেলার সিংহের বাংলা গ্রামের আম চাষি সিরাজ হাসান বলেন, আমি চার বছর আগে শুরু করি ফলের চাষ। এবার কমলা চাষে লাভবান হয়েছি। এখন আমের বাগান করেছি। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে আমার বাগানে লাগানো আম গাছে মুকুল ঝড়ে গুটি আসা শুরু হয়েছে। বেশির ভাগ গাছই গুটিতে ছেয়ে গেছে। আম চাষেও লাভবান হবার আশাকরছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নূরুজ্জামান বলেন, আমাদের উপজেলা উপসহকারীরা আমের গুটি ঝরা রোধ করতে বাগান মালিক ও চাষিদের আমের গাছে বেশি করে পানি দিতে পরামর্শ দিচ্ছেন এবং ছত্রাকনাশক ও বোরন স্প্রে করতে বলা হচ্ছে। গত বছরে তুলনায় আমের গুটিও ভালো রয়েছে। তবে কিছু কিছু জাতের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত আম ঝরানোর জন্য এক ধরণের হরমোন নিঃসরণ করে থাকে ফলে গুটি ঝরে যায়। প্রাকৃতিক কোন বড় ধরণের দুর্যোগ না হলে আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।