ঢাকা ১০ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
বড়লেখায় পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা লন্ডনে ‘সি ফর চাটগাঁ মিডিয়া’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসারদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বৈষম্য নিরসন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য বিল দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি বাগেরহাটে নানা অব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ কুষ্টিয়া শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত থানার সামনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি নেশা জাতীয় কফ সিরাপ স্কফের নাম পরিবর্ত করে নতুন নামে ব্রোনকস পি 'চোক প্লাস পুলিশ '"ম্যানেজ" নেতাদের অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে সেতু, সড়ক ও বাঁধ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল পালিত

সমুদ্র থেকে শৃঙ্গে: এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন ইকরামুল হাসান শাকিল

#
news image

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ালেন পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। আজ, ১৯ মে দুপুরে তিনি সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখেন। অভিযানের সমন্বয়কেরা জানান, শাকিল বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং ক্যাম্প–৪–এ অবস্থান করছেন। তবে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইকরামুল তাঁর এই অভিযানটির নাম দিয়েছেন ‘সি টু সামিট’—অর্থাৎ সমুদ্র থেকে শৃঙ্গে। এই ব্যতিক্রমধর্মী যাত্রার শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত থেকে। সেখান থেকে তিনি হেঁটে হেঁটে পাড়ি দেন প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার পথ। চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ হয়ে পৌঁছান পঞ্চগড়ে। এরপর প্রবেশ করেন ভারতে এবং জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং হয়ে ৩১ মার্চ পৌঁছান নেপালে। অবশেষে ২৯ এপ্রিল পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে।

বেজক্যাম্পে অবস্থানের পর ৬ মে থেকে শুরু হয় অভিযানের রোটেশন পর্ব। একে একে তিনি পৌঁছান ক্যাম্প-৩ পর্যন্ত এবং ১০ মে আবার ফিরে আসেন বেজক্যাম্পে। এরপর মূল অভিযান শুরু করেন ১৬ মে ক্যাম্প-২ এ পৌঁছে। ১৭ মে যান ক্যাম্প-৩ এবং ১৮ মে পৌঁছান ক্যাম্প-৪ এ। সেখান থেকেই ১৯ মে শুরু করেন সামিট পুশ এবং পৌঁছান এভারেস্টের চূড়ায়।

‘সি টু সামিট’ ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন অস্ট্রেলীয় পর্বতারোহী টিম ম্যাকার্টনি-স্নেপ, যিনি ১৯৯০ সালে ভারতের গঙ্গাসাগর থেকে হেঁটে ৯৬ দিনে এভারেস্ট জয় করেন। তাঁর সেই কৃতিত্ব থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ইকরামুল হাসান গ্রহণ করেন একই পথচলা।

ইকরামুল হাসান ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে পর্বতারোহণের প্রাথমিক ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এর আগেও তিনি হিমালয়ের ‘কেয়াজো-রি’, ‘দ্রৌপদী কা ডান্ডা-২’, ‘হিমলুং’ ও ‘ডোলমা খাং’ পর্বতশৃঙ্গ সফলভাবে আরোহণ করেছেন। ২০২৩ সালে ‘গ্রেট হিমালয়া ট্রেইল’ নামে পরিচিত ১,৭০০ কিমি দীর্ঘ দুর্গম পথ হেঁটে পাড়ি দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে এর আগে ২০১০ সালে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহীম। এরপর একে একে এম এ মুহিত, নিশাত মজুমদার, ওয়াসফিয়া নাজরীন, সজল খালেদ, বাবর আলীরা দেশকে গর্বিত করেছেন। ১১ বছর পর ২০২৪ সালের ১৯ মে বাবর আলীর মাধ্যমে যে নতুন ধারার সূচনা হয়েছিল, এবার সেটির গৌরবময় ধারাবাহিকতা রক্ষা করলেন ইকরামুল হাসান শাকিল।

এই অনন্য অর্জনের মাধ্যমে আবারও বিশ্ব মানচিত্রে নতুন করে উদিত হলো বাংলাদেশের পতাকা। ইকরামুলের এই সাহসী ও অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে এবং লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেবে নিঃসন্দেহে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি :

২০ মে, ২০২৫,  5:48 AM

news image

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ালেন পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। আজ, ১৯ মে দুপুরে তিনি সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখেন। অভিযানের সমন্বয়কেরা জানান, শাকিল বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং ক্যাম্প–৪–এ অবস্থান করছেন। তবে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইকরামুল তাঁর এই অভিযানটির নাম দিয়েছেন ‘সি টু সামিট’—অর্থাৎ সমুদ্র থেকে শৃঙ্গে। এই ব্যতিক্রমধর্মী যাত্রার শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত থেকে। সেখান থেকে তিনি হেঁটে হেঁটে পাড়ি দেন প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার পথ। চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ হয়ে পৌঁছান পঞ্চগড়ে। এরপর প্রবেশ করেন ভারতে এবং জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং হয়ে ৩১ মার্চ পৌঁছান নেপালে। অবশেষে ২৯ এপ্রিল পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে।

বেজক্যাম্পে অবস্থানের পর ৬ মে থেকে শুরু হয় অভিযানের রোটেশন পর্ব। একে একে তিনি পৌঁছান ক্যাম্প-৩ পর্যন্ত এবং ১০ মে আবার ফিরে আসেন বেজক্যাম্পে। এরপর মূল অভিযান শুরু করেন ১৬ মে ক্যাম্প-২ এ পৌঁছে। ১৭ মে যান ক্যাম্প-৩ এবং ১৮ মে পৌঁছান ক্যাম্প-৪ এ। সেখান থেকেই ১৯ মে শুরু করেন সামিট পুশ এবং পৌঁছান এভারেস্টের চূড়ায়।

‘সি টু সামিট’ ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন অস্ট্রেলীয় পর্বতারোহী টিম ম্যাকার্টনি-স্নেপ, যিনি ১৯৯০ সালে ভারতের গঙ্গাসাগর থেকে হেঁটে ৯৬ দিনে এভারেস্ট জয় করেন। তাঁর সেই কৃতিত্ব থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ইকরামুল হাসান গ্রহণ করেন একই পথচলা।

ইকরামুল হাসান ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে পর্বতারোহণের প্রাথমিক ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এর আগেও তিনি হিমালয়ের ‘কেয়াজো-রি’, ‘দ্রৌপদী কা ডান্ডা-২’, ‘হিমলুং’ ও ‘ডোলমা খাং’ পর্বতশৃঙ্গ সফলভাবে আরোহণ করেছেন। ২০২৩ সালে ‘গ্রেট হিমালয়া ট্রেইল’ নামে পরিচিত ১,৭০০ কিমি দীর্ঘ দুর্গম পথ হেঁটে পাড়ি দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে এর আগে ২০১০ সালে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহীম। এরপর একে একে এম এ মুহিত, নিশাত মজুমদার, ওয়াসফিয়া নাজরীন, সজল খালেদ, বাবর আলীরা দেশকে গর্বিত করেছেন। ১১ বছর পর ২০২৪ সালের ১৯ মে বাবর আলীর মাধ্যমে যে নতুন ধারার সূচনা হয়েছিল, এবার সেটির গৌরবময় ধারাবাহিকতা রক্ষা করলেন ইকরামুল হাসান শাকিল।

এই অনন্য অর্জনের মাধ্যমে আবারও বিশ্ব মানচিত্রে নতুন করে উদিত হলো বাংলাদেশের পতাকা। ইকরামুলের এই সাহসী ও অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে এবং লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেবে নিঃসন্দেহে।