ঢাকা ১৩ জুন, ২০২৬
শিরোনামঃ
খান জাহান আলীর মাজারে কুমির ফিরিয়ে না দিলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সাত দিনের মধ্যেই উঠে গেল ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কের কার্পেটিং, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী জমি বিরোধের জেরে উজিরপুরে মানববন্ধনে সংঘর্ষ, আহত ৩০, থানায় পৃথক অভিযোগ মংলায় কোস্টগার্ড-এলাকাবাসী সংঘর্ষ: কোস্টগার্ডের জাহাজে হামলার অভিযোগ ছাত্র আন্দোলনে ককটেল হামলার মামলায় কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা শেখ রাসেল গ্রেফতার কোম্পানীগঞ্জের জন্য তিন সংসদ সদস্য: গর্ব, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত হবিগঞ্জে কলেজছাত্রীকে উত্যক্ত ও ধ/র্ষ/ণের হুমকির অভিযোগে জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ হাটহাজারীতে শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাই গ্রেফতার ভাঙ্গায় অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চাল, টিন ও মানবিক সহায়তা বিতরণ সুনামগঞ্জে খুনের জেরে ৩ প্রবাসীসহ ৬ বাড়িতে তাণ্ডব ও লুটপাট, এক প্রবাসী মায়ের আর্তনাদ !

সমুদ্র থেকে শৃঙ্গে: এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন ইকরামুল হাসান শাকিল

#
news image

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ালেন পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। আজ, ১৯ মে দুপুরে তিনি সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখেন। অভিযানের সমন্বয়কেরা জানান, শাকিল বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং ক্যাম্প–৪–এ অবস্থান করছেন। তবে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইকরামুল তাঁর এই অভিযানটির নাম দিয়েছেন ‘সি টু সামিট’—অর্থাৎ সমুদ্র থেকে শৃঙ্গে। এই ব্যতিক্রমধর্মী যাত্রার শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত থেকে। সেখান থেকে তিনি হেঁটে হেঁটে পাড়ি দেন প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার পথ। চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ হয়ে পৌঁছান পঞ্চগড়ে। এরপর প্রবেশ করেন ভারতে এবং জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং হয়ে ৩১ মার্চ পৌঁছান নেপালে। অবশেষে ২৯ এপ্রিল পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে।

বেজক্যাম্পে অবস্থানের পর ৬ মে থেকে শুরু হয় অভিযানের রোটেশন পর্ব। একে একে তিনি পৌঁছান ক্যাম্প-৩ পর্যন্ত এবং ১০ মে আবার ফিরে আসেন বেজক্যাম্পে। এরপর মূল অভিযান শুরু করেন ১৬ মে ক্যাম্প-২ এ পৌঁছে। ১৭ মে যান ক্যাম্প-৩ এবং ১৮ মে পৌঁছান ক্যাম্প-৪ এ। সেখান থেকেই ১৯ মে শুরু করেন সামিট পুশ এবং পৌঁছান এভারেস্টের চূড়ায়।

‘সি টু সামিট’ ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন অস্ট্রেলীয় পর্বতারোহী টিম ম্যাকার্টনি-স্নেপ, যিনি ১৯৯০ সালে ভারতের গঙ্গাসাগর থেকে হেঁটে ৯৬ দিনে এভারেস্ট জয় করেন। তাঁর সেই কৃতিত্ব থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ইকরামুল হাসান গ্রহণ করেন একই পথচলা।

ইকরামুল হাসান ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে পর্বতারোহণের প্রাথমিক ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এর আগেও তিনি হিমালয়ের ‘কেয়াজো-রি’, ‘দ্রৌপদী কা ডান্ডা-২’, ‘হিমলুং’ ও ‘ডোলমা খাং’ পর্বতশৃঙ্গ সফলভাবে আরোহণ করেছেন। ২০২৩ সালে ‘গ্রেট হিমালয়া ট্রেইল’ নামে পরিচিত ১,৭০০ কিমি দীর্ঘ দুর্গম পথ হেঁটে পাড়ি দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে এর আগে ২০১০ সালে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহীম। এরপর একে একে এম এ মুহিত, নিশাত মজুমদার, ওয়াসফিয়া নাজরীন, সজল খালেদ, বাবর আলীরা দেশকে গর্বিত করেছেন। ১১ বছর পর ২০২৪ সালের ১৯ মে বাবর আলীর মাধ্যমে যে নতুন ধারার সূচনা হয়েছিল, এবার সেটির গৌরবময় ধারাবাহিকতা রক্ষা করলেন ইকরামুল হাসান শাকিল।

এই অনন্য অর্জনের মাধ্যমে আবারও বিশ্ব মানচিত্রে নতুন করে উদিত হলো বাংলাদেশের পতাকা। ইকরামুলের এই সাহসী ও অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে এবং লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেবে নিঃসন্দেহে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি :

২০ মে, ২০২৫,  5:48 AM

news image

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ালেন পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। আজ, ১৯ মে দুপুরে তিনি সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখেন। অভিযানের সমন্বয়কেরা জানান, শাকিল বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং ক্যাম্প–৪–এ অবস্থান করছেন। তবে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইকরামুল তাঁর এই অভিযানটির নাম দিয়েছেন ‘সি টু সামিট’—অর্থাৎ সমুদ্র থেকে শৃঙ্গে। এই ব্যতিক্রমধর্মী যাত্রার শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত থেকে। সেখান থেকে তিনি হেঁটে হেঁটে পাড়ি দেন প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার পথ। চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ হয়ে পৌঁছান পঞ্চগড়ে। এরপর প্রবেশ করেন ভারতে এবং জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং হয়ে ৩১ মার্চ পৌঁছান নেপালে। অবশেষে ২৯ এপ্রিল পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে।

বেজক্যাম্পে অবস্থানের পর ৬ মে থেকে শুরু হয় অভিযানের রোটেশন পর্ব। একে একে তিনি পৌঁছান ক্যাম্প-৩ পর্যন্ত এবং ১০ মে আবার ফিরে আসেন বেজক্যাম্পে। এরপর মূল অভিযান শুরু করেন ১৬ মে ক্যাম্প-২ এ পৌঁছে। ১৭ মে যান ক্যাম্প-৩ এবং ১৮ মে পৌঁছান ক্যাম্প-৪ এ। সেখান থেকেই ১৯ মে শুরু করেন সামিট পুশ এবং পৌঁছান এভারেস্টের চূড়ায়।

‘সি টু সামিট’ ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন অস্ট্রেলীয় পর্বতারোহী টিম ম্যাকার্টনি-স্নেপ, যিনি ১৯৯০ সালে ভারতের গঙ্গাসাগর থেকে হেঁটে ৯৬ দিনে এভারেস্ট জয় করেন। তাঁর সেই কৃতিত্ব থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ইকরামুল হাসান গ্রহণ করেন একই পথচলা।

ইকরামুল হাসান ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে পর্বতারোহণের প্রাথমিক ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এর আগেও তিনি হিমালয়ের ‘কেয়াজো-রি’, ‘দ্রৌপদী কা ডান্ডা-২’, ‘হিমলুং’ ও ‘ডোলমা খাং’ পর্বতশৃঙ্গ সফলভাবে আরোহণ করেছেন। ২০২৩ সালে ‘গ্রেট হিমালয়া ট্রেইল’ নামে পরিচিত ১,৭০০ কিমি দীর্ঘ দুর্গম পথ হেঁটে পাড়ি দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে এর আগে ২০১০ সালে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহীম। এরপর একে একে এম এ মুহিত, নিশাত মজুমদার, ওয়াসফিয়া নাজরীন, সজল খালেদ, বাবর আলীরা দেশকে গর্বিত করেছেন। ১১ বছর পর ২০২৪ সালের ১৯ মে বাবর আলীর মাধ্যমে যে নতুন ধারার সূচনা হয়েছিল, এবার সেটির গৌরবময় ধারাবাহিকতা রক্ষা করলেন ইকরামুল হাসান শাকিল।

এই অনন্য অর্জনের মাধ্যমে আবারও বিশ্ব মানচিত্রে নতুন করে উদিত হলো বাংলাদেশের পতাকা। ইকরামুলের এই সাহসী ও অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে এবং লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেবে নিঃসন্দেহে।