চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের নেতৃত্বে আসছেন কারা!
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
০৪ জুন, ২০২৫, 8:04 AM
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের নেতৃত্বে আসছেন কারা!
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কমিটি ঘিরে সরগরম হয়ে উটেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা। চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা যুবদলের নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ইতিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন পদপ্রত্যাশীরা। তদবির নিয়ে কড়া নাড়ছেন শীর্ষ নেতাদের দরজায়। স্বচ্ছ ইমেজের নেতাদের পাশাপাশি নেতৃত্ব পেতে ছুটোছুটি করছেন বিতর্কিতরাও।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি থেকে সরকার পতনের আন্দোলন, চট্টগ্রামের মাঠের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে নগর বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে সবসময়ই সরব ছিল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদল। সংগঠনের পাশাপাশি এককভাবেও সবখানে ভূমিকা রেখেছেন নেতাকর্মীরা। নতুন কমিটি ঘিরে সম্প্রতি পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। সংগঠনের দায়িত্বশীলদের কাছে তদবির করতে অনেকে ছুটছেন রাজধানী ঢাকায়। বাদ নেই স্থানীয় নেতাদের কাছে ধরনা দেওয়াও। সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে কেউ কেউ হাল ধরতে চান দক্ষিণ জেলা যুবদলের। সংগঠনটির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে। সভাপতি কিংবা আহবায়ক প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন এডভোকেট শওকত ওসমান, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, বর্তমান জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজগর, ইঞ্জিনিয়ার শাহনেওয়াজ চৌধুরী, সাবেক এমপি পুত্র মোহাম্মদ শাহিন এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান। সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব পদের আলোচনায় রয়েছেন এম হান্নান রহিম তালুকদার, মোজাম্মেল হক, গাজী মোহাম্মদ মনির, কে এম আব্বাস, সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ, বাঁশখালী উপজেলার আবু আহমেদ, হামিদুর রহমান পেয়ারু, এস এম সুমন, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন প্রমুখ। ইতিমধ্যে কমিটির বিভিন্ন পদে প্রায় ৩৫ জন নেতা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে রাজনৈতিক বায়োডাটা জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, নতুন কমিটি যে কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। তবে আমি সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী কিনা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অন্যদিকে বাঁশখালী উপজেলার আবু আহমেদ জানান, আমি সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দেয়, আমি সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তা পালন করব। অপর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হান্নান রহিম বলেন, আমি দলের দু:সময়ের কর্মী। আমি দীর্ঘ ১৬ বছর দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচিতে সরব অংশগ্রহণ ছিল আমার। এছাড়াও নিজ উদ্যোগে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে দলের প্রতিটি কর্মসুচিতে বহদ্দারহাট মোড় থেকে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকায় ছাত্রদল যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী সহ নিয়ে হরতাল, অবরোধ, পিকেটিংয়ে সক্রিয় ছিলাম। পুলিশের হামলা- নির্যাতনের শিকার হয়েছি বারবার। এখন নতুন কমিটি হবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যদি আমার অতীতের ত্যাগের মূল্যায়ন করেন-তাহলে জেলা যুবদলকে তৃণমূল থেকে সুসংগঠিত করবো। অপর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী গাজী মোহাম্মদ মনির জানান, বিগত ১৭ বছর রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকেছি। বহু মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দল যদি ত্যাগী ও দক্ষদের মূল্যায়ন করে, তাহলে সেটি দলের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
অপর দিকে অপর পদপ্রত্যাশী মোজাম্মেল হক জানান, সভাপতি-সম্পাদক পদে যারা সিভি দিয়েছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত আমি। আমার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকারের দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা দক্ষিণ জেলায় সবচেয়ে বেশি। দল আমাকে যেখানে যোগ্য মনে করবে, আমি সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে প্রস্তুুত। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজগর জানান, কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। আমি বর্তমান সাধারণ সম্পাদক, তাই সভাপতি পদ ছাড়া অন্য কোনো পদে আগ্রহী নই।
এ বিষয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, যেসব ইউনিটের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলো ভেঙে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলেও দ্রুত কমিটি ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের স্বাক্ষরিত ২০১ সদস্যের দক্ষিণ জেলা যুবদল কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ শাহজাহান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ আজগর।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
০৪ জুন, ২০২৫, 8:04 AM
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কমিটি ঘিরে সরগরম হয়ে উটেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা। চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা যুবদলের নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ইতিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন পদপ্রত্যাশীরা। তদবির নিয়ে কড়া নাড়ছেন শীর্ষ নেতাদের দরজায়। স্বচ্ছ ইমেজের নেতাদের পাশাপাশি নেতৃত্ব পেতে ছুটোছুটি করছেন বিতর্কিতরাও।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি থেকে সরকার পতনের আন্দোলন, চট্টগ্রামের মাঠের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে নগর বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে সবসময়ই সরব ছিল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদল। সংগঠনের পাশাপাশি এককভাবেও সবখানে ভূমিকা রেখেছেন নেতাকর্মীরা। নতুন কমিটি ঘিরে সম্প্রতি পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। সংগঠনের দায়িত্বশীলদের কাছে তদবির করতে অনেকে ছুটছেন রাজধানী ঢাকায়। বাদ নেই স্থানীয় নেতাদের কাছে ধরনা দেওয়াও। সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে কেউ কেউ হাল ধরতে চান দক্ষিণ জেলা যুবদলের। সংগঠনটির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে। সভাপতি কিংবা আহবায়ক প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন এডভোকেট শওকত ওসমান, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, বর্তমান জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজগর, ইঞ্জিনিয়ার শাহনেওয়াজ চৌধুরী, সাবেক এমপি পুত্র মোহাম্মদ শাহিন এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান। সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব পদের আলোচনায় রয়েছেন এম হান্নান রহিম তালুকদার, মোজাম্মেল হক, গাজী মোহাম্মদ মনির, কে এম আব্বাস, সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ, বাঁশখালী উপজেলার আবু আহমেদ, হামিদুর রহমান পেয়ারু, এস এম সুমন, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন প্রমুখ। ইতিমধ্যে কমিটির বিভিন্ন পদে প্রায় ৩৫ জন নেতা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে রাজনৈতিক বায়োডাটা জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, নতুন কমিটি যে কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। তবে আমি সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী কিনা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অন্যদিকে বাঁশখালী উপজেলার আবু আহমেদ জানান, আমি সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দেয়, আমি সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তা পালন করব। অপর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হান্নান রহিম বলেন, আমি দলের দু:সময়ের কর্মী। আমি দীর্ঘ ১৬ বছর দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচিতে সরব অংশগ্রহণ ছিল আমার। এছাড়াও নিজ উদ্যোগে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে দলের প্রতিটি কর্মসুচিতে বহদ্দারহাট মোড় থেকে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকায় ছাত্রদল যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী সহ নিয়ে হরতাল, অবরোধ, পিকেটিংয়ে সক্রিয় ছিলাম। পুলিশের হামলা- নির্যাতনের শিকার হয়েছি বারবার। এখন নতুন কমিটি হবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যদি আমার অতীতের ত্যাগের মূল্যায়ন করেন-তাহলে জেলা যুবদলকে তৃণমূল থেকে সুসংগঠিত করবো। অপর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী গাজী মোহাম্মদ মনির জানান, বিগত ১৭ বছর রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকেছি। বহু মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দল যদি ত্যাগী ও দক্ষদের মূল্যায়ন করে, তাহলে সেটি দলের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
অপর দিকে অপর পদপ্রত্যাশী মোজাম্মেল হক জানান, সভাপতি-সম্পাদক পদে যারা সিভি দিয়েছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত আমি। আমার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকারের দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা দক্ষিণ জেলায় সবচেয়ে বেশি। দল আমাকে যেখানে যোগ্য মনে করবে, আমি সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে প্রস্তুুত। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজগর জানান, কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। আমি বর্তমান সাধারণ সম্পাদক, তাই সভাপতি পদ ছাড়া অন্য কোনো পদে আগ্রহী নই।
এ বিষয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, যেসব ইউনিটের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলো ভেঙে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলেও দ্রুত কমিটি ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের স্বাক্ষরিত ২০১ সদস্যের দক্ষিণ জেলা যুবদল কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ শাহজাহান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ আজগর।