ঢাকা ১২ এপ্রিল, ২০২৬
শিরোনামঃ
তেঁতুলিয়ায় পুলিশের জুয়া বিরোধী অভিযানে দুই জুয়াড়িকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এক শিক্ষার্থীর আর্তি—“মিথ্যা মামলার বোঝা নিয়ে আর কত ?” বড়লেখায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ  নবাবগঞ্জে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কের উদ্বোধন করলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী পানছড়ি সীমান্তে বিজিবির দুঃসাহসিক অভিযান—১৪০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার নওগাঁয় ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্বোধন কৃষকদের সেচ সংকট নিরসনে এমপি বুলবুলের সরজমিন পরিদর্শন চন্দ্রগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ: ইসমাইলসহ ৩ জনকে কুপিয়ে জখম, অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ বাহুবলে মানবকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়মের মহোৎসব, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ টঙ্গীতে যানজট নিরসন ও উন্নয়ন কাজের  তদারকিতে মাঠে সিটি প্রশাসক

মার্চে সমুদ্রের তাপমাত্রা ছিল রেকর্ডের কাছাকাছি: ইইউ পর্যবেক্ষণ সংস্থা

#
news image

চলতি বছরের মার্চ মাসে সমুদ্রের তাপমাত্রা প্রায় রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’ আজ (শুক্রবার) এই তথ্য জানিয়েছে। 

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

এটি মূলত ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির দিকে মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে আগে থেকেই উত্তপ্ত পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

কোপার্নিকাস জানায়, গত মার্চে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০.৯৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি মার্চের ইতিহাসে এ পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং ২০২৪ সালের পর সবচেয়ে বেশি। 

এর আগে ২০২৪ সালে ‘এল নিনো’র সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়। সেবছর এল নিনোর সময় বৈশ্বিক তাপমাত্রার একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সংস্থাটি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি সম্ভবত ‘এল নিনো’র দিকে পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।

বেশ কিছু আবহাওয়া সংস্থা আগেই এ বছর এল নিনো ফিরে আসার পূর্বাভাস দিয়েছিল। এটি একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র যা প্রশান্ত মহাসাগরের পানিকে উষ্ণ করে তোলে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং চরম আবহাওয়া দেখা দেয়।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) গত মাসে জানায়, তাপমাত্রা কমিয়ে আনা ‘লা নিনা’ চক্রের প্রভাব শেষ হয়ে পরিবেশ এখন একটি নিরপেক্ষ অবস্থায় রয়েছে। তবে বছরের শেষ দিকে এটি ‘এল নিনো’তে রূপ নিতে পারে।

২০২৩-২০২৪ সালের এল নিনো ছিল এ পর্যন্ত পরিমাপ করা পাঁচটি শক্তিশালী চক্রের একটি। এটি ওই দুই বছরকে ইতিহাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ বছরে পরিণত করতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

বিজ্ঞানীদের মতে, লা নিনা ও এল নিনো হল প্রাকৃতিক চক্র যা সাময়িকভাবে তাপমাত্রা পরিবর্তন করে। তবে মানবসৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের যে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ছে, তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে এসব প্রাকৃতিক চক্র বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে এবং দুর্যোগকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত তাপের সিংহভাগই সমুদ্র শুষে নেয়। ফলে বৈশ্বিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে এই জলরাশির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সমুদ্রের পানি অতিরিক্ত উষ্ণ হলে পৃথিবীর ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। এর ফলে শক্তিশালী ঝড় ও বৃষ্টিপাত হয়, প্রবাল প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাপীয় প্রসারণের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যায়।

কোপার্নিকাস আরও জানায়, সামগ্রিকভাবে গত মাসটি ছিল ইতিহাসের চতুর্থ উষ্ণতম মার্চ। এ সময় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ১.৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

মার্চ মাসে ইউরোপের প্রায় সর্বত্র স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল। তবে সবচেয়ে তীব্র গরম পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছিল। আর্কটিকের বেশিরভাগ অংশ এবং রাশিয়া ও অ্যান্টার্কটিকার কিছু অংশেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল।

গত মাসে সুমেরু বা আর্কটিক অঞ্চলে সমুদ্রের বরফের স্তরও ছিল ইতিহসে যেকোনো মার্চের মধ্যে সর্বনিম্ন। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের আরেকটি বড় অশনীসংকেত ।

সংস্থাটির পরিচালক কার্লো বুওনটেম্পো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘২০২৬ সালের মার্চের তথ্যগুলো এক উদ্বেগজনক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি তথ্যই আলাদাভাবে আশঙ্কাজনক। সব মিলিয়ে এটি জলবায়ু ব্যবস্থার ওপর অব্যাহত এবং ক্রমবর্ধমান চাপের একটি চিত্র তুলে ধরছে।’

কোপার্নিকাস মূলত কৃত্রিম উপগ্রহ এবং স্থল ও সমুদ্রের কয়েকশ কোটি আবহাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে। ১৯৪০ সাল থেকে এই সংস্থাটি জলবায়ু বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করে আসছে।

আন্তর্জাতিক ডেক্স :

১০ এপ্রিল, ২০২৬,  4:00 PM

news image

চলতি বছরের মার্চ মাসে সমুদ্রের তাপমাত্রা প্রায় রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’ আজ (শুক্রবার) এই তথ্য জানিয়েছে। 

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

এটি মূলত ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির দিকে মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে আগে থেকেই উত্তপ্ত পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

কোপার্নিকাস জানায়, গত মার্চে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০.৯৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি মার্চের ইতিহাসে এ পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং ২০২৪ সালের পর সবচেয়ে বেশি। 

এর আগে ২০২৪ সালে ‘এল নিনো’র সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়। সেবছর এল নিনোর সময় বৈশ্বিক তাপমাত্রার একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সংস্থাটি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি সম্ভবত ‘এল নিনো’র দিকে পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।

বেশ কিছু আবহাওয়া সংস্থা আগেই এ বছর এল নিনো ফিরে আসার পূর্বাভাস দিয়েছিল। এটি একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র যা প্রশান্ত মহাসাগরের পানিকে উষ্ণ করে তোলে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং চরম আবহাওয়া দেখা দেয়।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) গত মাসে জানায়, তাপমাত্রা কমিয়ে আনা ‘লা নিনা’ চক্রের প্রভাব শেষ হয়ে পরিবেশ এখন একটি নিরপেক্ষ অবস্থায় রয়েছে। তবে বছরের শেষ দিকে এটি ‘এল নিনো’তে রূপ নিতে পারে।

২০২৩-২০২৪ সালের এল নিনো ছিল এ পর্যন্ত পরিমাপ করা পাঁচটি শক্তিশালী চক্রের একটি। এটি ওই দুই বছরকে ইতিহাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ বছরে পরিণত করতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

বিজ্ঞানীদের মতে, লা নিনা ও এল নিনো হল প্রাকৃতিক চক্র যা সাময়িকভাবে তাপমাত্রা পরিবর্তন করে। তবে মানবসৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের যে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ছে, তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে এসব প্রাকৃতিক চক্র বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে এবং দুর্যোগকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত তাপের সিংহভাগই সমুদ্র শুষে নেয়। ফলে বৈশ্বিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে এই জলরাশির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সমুদ্রের পানি অতিরিক্ত উষ্ণ হলে পৃথিবীর ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। এর ফলে শক্তিশালী ঝড় ও বৃষ্টিপাত হয়, প্রবাল প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাপীয় প্রসারণের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যায়।

কোপার্নিকাস আরও জানায়, সামগ্রিকভাবে গত মাসটি ছিল ইতিহাসের চতুর্থ উষ্ণতম মার্চ। এ সময় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ১.৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

মার্চ মাসে ইউরোপের প্রায় সর্বত্র স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল। তবে সবচেয়ে তীব্র গরম পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছিল। আর্কটিকের বেশিরভাগ অংশ এবং রাশিয়া ও অ্যান্টার্কটিকার কিছু অংশেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল।

গত মাসে সুমেরু বা আর্কটিক অঞ্চলে সমুদ্রের বরফের স্তরও ছিল ইতিহসে যেকোনো মার্চের মধ্যে সর্বনিম্ন। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের আরেকটি বড় অশনীসংকেত ।

সংস্থাটির পরিচালক কার্লো বুওনটেম্পো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘২০২৬ সালের মার্চের তথ্যগুলো এক উদ্বেগজনক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি তথ্যই আলাদাভাবে আশঙ্কাজনক। সব মিলিয়ে এটি জলবায়ু ব্যবস্থার ওপর অব্যাহত এবং ক্রমবর্ধমান চাপের একটি চিত্র তুলে ধরছে।’

কোপার্নিকাস মূলত কৃত্রিম উপগ্রহ এবং স্থল ও সমুদ্রের কয়েকশ কোটি আবহাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে। ১৯৪০ সাল থেকে এই সংস্থাটি জলবায়ু বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করে আসছে।