বাহুবলে মানবকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়মের মহোৎসব, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ
এম এ হান্নান, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো চিফ :
১২ এপ্রিল, ২০২৬, 12:16 AM
বাহুবলে মানবকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়মের মহোৎসব, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় অবস্থিত মানবকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয় যেন এখন অনিয়ম, জালিয়াতি ও অর্থ লুটপাটের এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে—এমনই অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় সম্প্রতি অডিট পরিচালিত এক বিশেষ তদন্তে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে তৃণমূল পর্যায়ে ভুয়া নিয়োগ ও জাল সনদের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ যেন এক নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জাল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে আয়া ও অন্যান্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—প্রধান শিক্ষক প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সরকারি বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ, স্কুল উন্নয়ন তহবিল, উপবৃত্তির অর্থ এবং বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে নানা কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নম্বরপত্র, সনদ বিতরণ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে ভর্তি এবং পরীক্ষার ফি’র নামে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও চরম অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে। ম্যানেজিং কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ‘পকেট কমিটি’ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কমিটির মাধ্যমেই বিভিন্ন অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দুর্ব্যবহার ও অশালীন আচরণের অভিযোগও কম নয়। অনেককে অকারণে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এমনকি নিয়মিত অফিস সহকারীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে খণ্ডকালীন কর্মচারীর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হিসাব-নিকাশ ও নথিপত্র পরিচালনা করা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলারই বহিঃপ্রকাশ।
গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে নবনির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির উদ্যোগে ২০১৯-২০২৪ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সেই তদন্ত প্রতিবেদন সভাপতির কাছে জমা দেওয়া হলে তাতে এক নজিরবিহীন দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে। সরকারি বই পরিবহনের অর্থ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বিভিন্ন ফি, পুনঃভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন ফি—সব ক্ষেত্রেই অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতিমুক্ত করা হোক। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এম এ হান্নান, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো চিফ :
১২ এপ্রিল, ২০২৬, 12:16 AM
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় অবস্থিত মানবকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয় যেন এখন অনিয়ম, জালিয়াতি ও অর্থ লুটপাটের এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে—এমনই অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় সম্প্রতি অডিট পরিচালিত এক বিশেষ তদন্তে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে তৃণমূল পর্যায়ে ভুয়া নিয়োগ ও জাল সনদের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ যেন এক নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জাল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে আয়া ও অন্যান্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—প্রধান শিক্ষক প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সরকারি বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ, স্কুল উন্নয়ন তহবিল, উপবৃত্তির অর্থ এবং বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে নানা কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নম্বরপত্র, সনদ বিতরণ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে ভর্তি এবং পরীক্ষার ফি’র নামে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও চরম অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে। ম্যানেজিং কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ‘পকেট কমিটি’ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কমিটির মাধ্যমেই বিভিন্ন অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দুর্ব্যবহার ও অশালীন আচরণের অভিযোগও কম নয়। অনেককে অকারণে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এমনকি নিয়মিত অফিস সহকারীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে খণ্ডকালীন কর্মচারীর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হিসাব-নিকাশ ও নথিপত্র পরিচালনা করা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলারই বহিঃপ্রকাশ।
গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে নবনির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির উদ্যোগে ২০১৯-২০২৪ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সেই তদন্ত প্রতিবেদন সভাপতির কাছে জমা দেওয়া হলে তাতে এক নজিরবিহীন দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে। সরকারি বই পরিবহনের অর্থ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বিভিন্ন ফি, পুনঃভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন ফি—সব ক্ষেত্রেই অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতিমুক্ত করা হোক। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।