নারীর প্রতি সহিংসতা ‘বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা’: জাতিসংঘ
আন্তর্জাতিক ডেক্স :
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 9:24 PM
নারীর প্রতি সহিংসতা ‘বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা’: জাতিসংঘ
বিশ্বজুড়ে নারীর অধিকার ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে পড়েছে এবং নারীর প্রতি সহিংসতা এখন ‘বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা’ বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বলেন, এমন সামাজিক ব্যবস্থা এখনও বিদ্যমান যা নারী ও কন্যাশিশুদের কণ্ঠরোধ করে এবং ক্ষমতাবান পুরুষদের দায়মুক্তি দেয়।
তিনি বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা, যার মধ্যে নারীহত্যা (ফেমিসাইড) অন্তর্ভুক্ত, একটি বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা।’
তুর্ক আফগানিস্তানের পরিস্থিতিকে চরম উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেন, সেখানে নারীদের ওপর আরোপিত পৃথকীকরণ ব্যবস্থা বর্ণবাদের বদলে লিঙ্গভিত্তিক ‘বিদ্বেষ’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে আলোচিত দুটি ঘটনার উল্লেখ করেন—মার্কিন দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন এবং ফরাসি ধর্ষণ থেকে বেঁচে যাওয়া জিজেল পেলিকোর মামলা।
তুর্ক বলেন, ‘এই দুই ঘটনা নারী ও কন্যাশিশুদের শোষণ ও নির্যাতনের ব্যাপকতা তুলে ধরে।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ডমিনিক পেলিকো বা জেফ্রি এপস্টেইনের মতো আরও কত পুরুষ রয়েছে বলে কেউ কি মনে করেন না?’
এপস্টেইন ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ককে পতিতাবৃত্তিতে প্ররোচিত করার দায়ে দণ্ডিত হন এবং ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচার চলাকালে আত্মহত্যা করেন বলে ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে, জিজেল পেলিকো ২০২৪ সালে ফ্রান্সে তার সাবেক স্বামী ডমিনিক পেলিকো ও তার সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বিচারের সময় নিজের পরিচয় গোপন রাখার অধিকার ত্যাগ করে জনসমক্ষে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্বামী অচেতন অবস্থায় তাকে ধর্ষণের জন্য অপরিচিতদের নিয়ে আসতেন।
তুর্ক বলেন, ‘এ ধরনের ভয়াবহ নির্যাতন সম্ভব হয় সেই সামাজিক কাঠামোর কারণে, যা নারী ও কন্যাশিশুদের চুপ করিয়ে রাখে এবং ক্ষমতাবান পুরুষদের জবাবদিহিতা থেকে রক্ষা করে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রগুলোকে সব অভিযোগের তদন্ত করতে হবে, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া প্রকাশ্যে সক্রিয় নারীদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে অনলাইনে, বাড়তে থাকা হামলা ও বিদ্বেষ নিয়েও গভীর উদ্বেগ জানান তিনি।
তুর্ক উল্লেখ করেন, শুধু ২০২৪ সালেই বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫০ হাজার নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
তনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘নারীহত্যাসহ নারীর প্রতি সহিংসতা একটি বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা।’
আন্তর্জাতিক ডেক্স :
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 9:24 PM
বিশ্বজুড়ে নারীর অধিকার ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে পড়েছে এবং নারীর প্রতি সহিংসতা এখন ‘বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা’ বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বলেন, এমন সামাজিক ব্যবস্থা এখনও বিদ্যমান যা নারী ও কন্যাশিশুদের কণ্ঠরোধ করে এবং ক্ষমতাবান পুরুষদের দায়মুক্তি দেয়।
তিনি বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা, যার মধ্যে নারীহত্যা (ফেমিসাইড) অন্তর্ভুক্ত, একটি বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা।’
তুর্ক আফগানিস্তানের পরিস্থিতিকে চরম উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেন, সেখানে নারীদের ওপর আরোপিত পৃথকীকরণ ব্যবস্থা বর্ণবাদের বদলে লিঙ্গভিত্তিক ‘বিদ্বেষ’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে আলোচিত দুটি ঘটনার উল্লেখ করেন—মার্কিন দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন এবং ফরাসি ধর্ষণ থেকে বেঁচে যাওয়া জিজেল পেলিকোর মামলা।
তুর্ক বলেন, ‘এই দুই ঘটনা নারী ও কন্যাশিশুদের শোষণ ও নির্যাতনের ব্যাপকতা তুলে ধরে।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ডমিনিক পেলিকো বা জেফ্রি এপস্টেইনের মতো আরও কত পুরুষ রয়েছে বলে কেউ কি মনে করেন না?’
এপস্টেইন ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ককে পতিতাবৃত্তিতে প্ররোচিত করার দায়ে দণ্ডিত হন এবং ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচার চলাকালে আত্মহত্যা করেন বলে ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে, জিজেল পেলিকো ২০২৪ সালে ফ্রান্সে তার সাবেক স্বামী ডমিনিক পেলিকো ও তার সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বিচারের সময় নিজের পরিচয় গোপন রাখার অধিকার ত্যাগ করে জনসমক্ষে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্বামী অচেতন অবস্থায় তাকে ধর্ষণের জন্য অপরিচিতদের নিয়ে আসতেন।
তুর্ক বলেন, ‘এ ধরনের ভয়াবহ নির্যাতন সম্ভব হয় সেই সামাজিক কাঠামোর কারণে, যা নারী ও কন্যাশিশুদের চুপ করিয়ে রাখে এবং ক্ষমতাবান পুরুষদের জবাবদিহিতা থেকে রক্ষা করে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রগুলোকে সব অভিযোগের তদন্ত করতে হবে, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া প্রকাশ্যে সক্রিয় নারীদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে অনলাইনে, বাড়তে থাকা হামলা ও বিদ্বেষ নিয়েও গভীর উদ্বেগ জানান তিনি।
তুর্ক উল্লেখ করেন, শুধু ২০২৪ সালেই বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫০ হাজার নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
তনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘নারীহত্যাসহ নারীর প্রতি সহিংসতা একটি বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা।’