'চরপার্বতীতে পানের বরজ ভাঙচুরের অভিযোগ প্রশ্নবিদ্ধ'
মোহাম্মদ উল্যা, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :
০৩ মার্চ, ২০২৬, 4:59 AM
'চরপার্বতীতে পানের বরজ ভাঙচুরের অভিযোগ প্রশ্নবিদ্ধ'
নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ২নং চরপার্বতী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে একটি তর্কিত জমিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পানের বরজ ভাঙচুরের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
গত শুক্রবার রাতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা বিরোধপূর্ন একটি ফসলি পানের বরজে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে এমন অভিযোগ উঠে আসে।
২৮ শে ফেব্রুয়ারী সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে একটি অনলাইন পোর্টালে ২৮শে ফেব্রুয়ারী প্রকাশিত সংবাদে ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, জমি বিরোধের জের ধরেই এই নাশকতা ঘটানো হয়েছে।
সংবাদে স্থানীয় বাসিন্দা মো. নুর আলমগংদের অভিযুক্ত করা হয় এবং বলা হয়, প্রায় ৩০ শতাংশ জমির পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।
তবে সরেজমিনে অনুসন্ধানে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় সূত্র ও বাস্তব পরিমাপ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের জমির পরিমাণ বাস্তবে ১৮ থেকে ২০ শতাংশের বেশি নয়। পাশাপাশি সংবাদে উল্লিখিত ৮-১০ লাখ টাকার ক্ষতির হিসাবটি অনুমাননির্ভর বলে প্রতীয়মান হয়।
কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব বা প্রামাণ্য নথি সংবাদে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে শুরু থেকেই ক্ষতির পরিমাণ ও তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি অন্যপক্ষ জোরপূর্বক ভোগ করে আসছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই তারা থানার মাধ্যমে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছেন। তাদের বক্তব্য,আমরা যদি আইন না মানতাম , তাহলে থানায় গিয়ে বিচারের জন্য অভিযোগ কেন দিলাম?
অনুসন্ধানী সাংবাদিক টিম কোম্পানিগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে। সেখানে দেখা যায়, থানায় একটি ভূমি বিরোধ সংক্রান্ত অভিযোগ বিদ্যমান।
নথি অনুযায়ী,বাদী: মো. নুরুল ইসলাম (পিতা: মৃত নুরুল ইসলাম) বিবাদী: মো. আলা উদ্দিন (পিতা: মৃত ইউসুফ) উভয় পক্ষই চরপার্বতী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পাশাপাশি বাড়ির প্রতিবেশী।
রাষ্ট্রপক্ষের বিচারক মো. জসিম উদ্দিন আলমগীরের ৪/১২/ ২০২৫ ইং তারিখের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চরপার্বতী ১৩ নম্বরের মৌজার অন্তর্গত ৮৮২ নম্বর সিএস খতিয়ানের ১১৫১৭ দাগে মোট ১৫৮ শতাংশ ভুমি।এই দাগের কতেক জমি নিয়ে উভয় পক্ষের দাবি রয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ উভয় পক্ষের কাগজপত্র ও মালিকানা যাচাই করে মো. নুর আলমকে ১৮.৪৪ শতাংশ জমির মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিবাদীর প্রতিনিধি মুর্শিদ আমিনের মাধ্যমে মাপজোক করে দেখা গেছে, উক্ত ১৮.৪৪ শতাংশ জমি বর্তমানে বাদীর বায়া দখলের হিসেবে চিহ্নিত ছিলো।বর্তমান বাদীর দখলে না হলেও তা বিবাদীর দখলে রয়েছে, যা বিবাদীর দলিল অনুযায়ী বৈধ নয়।
এছাড়া বিবাদীর দখলে থাকা আরও ২৫ শতাংশ জমি বাদীকে বুঝিয়ে দেওয়ার যৌক্তিক দাবি রয়েছে এমন মতও প্রতিবেদনে দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ বিবাদীকে ১০ দিনের মধ্যে আপত্তি বা সংশোধনী আবেদন করার সুযোগ দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আবেদন করা হয়নি।
জমির পাশের এক স্থানীয় বাসিন্দা (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, এই জমি নিয়ে বহুদিন ধরে বিরোধ চলছে। শুনেছি থানায় মামলা আছে এবং বাদীর প্রায় ১৮ শতাংশ জমির প্রাপ্যতা রয়েছে, যা এখনো বিবাদীর দখলে। বিবাদীর কাগজপত্রও তেমন শক্ত নয়।
পানের বরজ ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, কে বা কারা করেছে, আমি নিজে দেখি নাই। তবে উভয় পক্ষের সন্দেহ আর ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এমন অভিযোগ উঠতে পারে। ফসলি জমি নষ্ট করা আইনত অপরাধ,আবার যার জমি, ভোগের অধিকার তারই।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) পুনরায় সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। থানায় এ সংক্রান্ত নথি ও অভিযোগ আগেই সংরক্ষিত আছে বলে জানা গেছে।পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাদীপক্ষ দাবি করেছে, একটি ভিডিও ফুটেজে বিবাদীদের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বাদীর অভিযোগ তাকে প্রকাশ্যে হুমকি, আঘাত ও হত্যার ভয় দেখানো হচ্ছে, ও পানের বরজ ভাঙ্গচুরের তার নাম বলে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্র করছে। যা তার জন্য মানহানিকর।বিবাদীর হুমকি তার নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চরপার্বতীর এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয়, ভূমি বিরোধ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তা সামাজিক অস্থিরতা ও সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করে। একদিকে সংবাদে প্রকাশিত অভিযোগ, অন্যদিকে থানার নথি ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে বিষয়টি এখনো গভীর অনুসন্ধানের দাবি রাখে। নিরপেক্ষ তদন্ত, সঠিক তথ্য যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাই পারে এই বিরোধের টেকসই ও ন্যায়সংগত সমাধান দিতে।
মোহাম্মদ উল্যা, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :
০৩ মার্চ, ২০২৬, 4:59 AM
নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ২নং চরপার্বতী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে একটি তর্কিত জমিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পানের বরজ ভাঙচুরের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
গত শুক্রবার রাতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা বিরোধপূর্ন একটি ফসলি পানের বরজে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে এমন অভিযোগ উঠে আসে।
২৮ শে ফেব্রুয়ারী সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে একটি অনলাইন পোর্টালে ২৮শে ফেব্রুয়ারী প্রকাশিত সংবাদে ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, জমি বিরোধের জের ধরেই এই নাশকতা ঘটানো হয়েছে।
সংবাদে স্থানীয় বাসিন্দা মো. নুর আলমগংদের অভিযুক্ত করা হয় এবং বলা হয়, প্রায় ৩০ শতাংশ জমির পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।
তবে সরেজমিনে অনুসন্ধানে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় সূত্র ও বাস্তব পরিমাপ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের জমির পরিমাণ বাস্তবে ১৮ থেকে ২০ শতাংশের বেশি নয়। পাশাপাশি সংবাদে উল্লিখিত ৮-১০ লাখ টাকার ক্ষতির হিসাবটি অনুমাননির্ভর বলে প্রতীয়মান হয়।
কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব বা প্রামাণ্য নথি সংবাদে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে শুরু থেকেই ক্ষতির পরিমাণ ও তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি অন্যপক্ষ জোরপূর্বক ভোগ করে আসছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই তারা থানার মাধ্যমে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছেন। তাদের বক্তব্য,আমরা যদি আইন না মানতাম , তাহলে থানায় গিয়ে বিচারের জন্য অভিযোগ কেন দিলাম?
অনুসন্ধানী সাংবাদিক টিম কোম্পানিগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে। সেখানে দেখা যায়, থানায় একটি ভূমি বিরোধ সংক্রান্ত অভিযোগ বিদ্যমান।
নথি অনুযায়ী,বাদী: মো. নুরুল ইসলাম (পিতা: মৃত নুরুল ইসলাম) বিবাদী: মো. আলা উদ্দিন (পিতা: মৃত ইউসুফ) উভয় পক্ষই চরপার্বতী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পাশাপাশি বাড়ির প্রতিবেশী।
রাষ্ট্রপক্ষের বিচারক মো. জসিম উদ্দিন আলমগীরের ৪/১২/ ২০২৫ ইং তারিখের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চরপার্বতী ১৩ নম্বরের মৌজার অন্তর্গত ৮৮২ নম্বর সিএস খতিয়ানের ১১৫১৭ দাগে মোট ১৫৮ শতাংশ ভুমি।এই দাগের কতেক জমি নিয়ে উভয় পক্ষের দাবি রয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ উভয় পক্ষের কাগজপত্র ও মালিকানা যাচাই করে মো. নুর আলমকে ১৮.৪৪ শতাংশ জমির মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিবাদীর প্রতিনিধি মুর্শিদ আমিনের মাধ্যমে মাপজোক করে দেখা গেছে, উক্ত ১৮.৪৪ শতাংশ জমি বর্তমানে বাদীর বায়া দখলের হিসেবে চিহ্নিত ছিলো।বর্তমান বাদীর দখলে না হলেও তা বিবাদীর দখলে রয়েছে, যা বিবাদীর দলিল অনুযায়ী বৈধ নয়।
এছাড়া বিবাদীর দখলে থাকা আরও ২৫ শতাংশ জমি বাদীকে বুঝিয়ে দেওয়ার যৌক্তিক দাবি রয়েছে এমন মতও প্রতিবেদনে দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ বিবাদীকে ১০ দিনের মধ্যে আপত্তি বা সংশোধনী আবেদন করার সুযোগ দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আবেদন করা হয়নি।
জমির পাশের এক স্থানীয় বাসিন্দা (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, এই জমি নিয়ে বহুদিন ধরে বিরোধ চলছে। শুনেছি থানায় মামলা আছে এবং বাদীর প্রায় ১৮ শতাংশ জমির প্রাপ্যতা রয়েছে, যা এখনো বিবাদীর দখলে। বিবাদীর কাগজপত্রও তেমন শক্ত নয়।
পানের বরজ ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, কে বা কারা করেছে, আমি নিজে দেখি নাই। তবে উভয় পক্ষের সন্দেহ আর ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এমন অভিযোগ উঠতে পারে। ফসলি জমি নষ্ট করা আইনত অপরাধ,আবার যার জমি, ভোগের অধিকার তারই।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) পুনরায় সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। থানায় এ সংক্রান্ত নথি ও অভিযোগ আগেই সংরক্ষিত আছে বলে জানা গেছে।পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাদীপক্ষ দাবি করেছে, একটি ভিডিও ফুটেজে বিবাদীদের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বাদীর অভিযোগ তাকে প্রকাশ্যে হুমকি, আঘাত ও হত্যার ভয় দেখানো হচ্ছে, ও পানের বরজ ভাঙ্গচুরের তার নাম বলে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্র করছে। যা তার জন্য মানহানিকর।বিবাদীর হুমকি তার নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চরপার্বতীর এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয়, ভূমি বিরোধ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তা সামাজিক অস্থিরতা ও সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করে। একদিকে সংবাদে প্রকাশিত অভিযোগ, অন্যদিকে থানার নথি ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে বিষয়টি এখনো গভীর অনুসন্ধানের দাবি রাখে। নিরপেক্ষ তদন্ত, সঠিক তথ্য যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাই পারে এই বিরোধের টেকসই ও ন্যায়সংগত সমাধান দিতে।
সম্পর্কিত