ঢাকা ১৬ জুন, ২০২৬
শিরোনামঃ
মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনায় ভারতীয় দূতকে তলব ঢাকার দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পর্যন্ত আয়কর অব্যাহতি হাম ও উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার হরমুজ পুনরায় চালু করতে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য ‘প্রস্তুত’: মাখোঁ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ঘোষণায় কমেছে তেলের দাম ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সব স্কুলে পরিমার্জিত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে জার্মানী, নেদারল্যান্ডসের সাথে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু জাপানের ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি আরও ১৩৫

কোম্পানীগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাতি:আতঙ্কিত এলাকাবাসী, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

#
news image

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এক রাতের ব্যবধানে দুটি পৃথক বাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সশস্ত্র ডাকাতদল পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। থানা থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে একই রাতে পরপর দুটি ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। একই সঙ্গে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পণ্ডিত বাড়িতে প্রথম ডাকাতির ঘটনা ঘটে। একদল মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত গভীর রাতে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কয়েকজনকে মারধর করে। ডাকাতরা ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পৌরসভা এলাকার জামাইর টেক সংলগ্ন মাসুদ মিয়ার বাড়িতে দ্বিতীয় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতদল একই কৌশলে বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে তারা ঘরের মূল্যবান মালামাল, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

দুই পরিবারের সদস্যরা জানান, ডাকাতদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল এবং তারা অত্যন্ত সংঘবদ্ধভাবে অভিযান চালিয়েছে। আকস্মিক এ ঘটনায় পরিবারগুলোর সদস্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

একই রাতে থানা সংলগ্ন এলাকায় পরপর দুটি ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, নিয়মিত রাত্রীকালীন টহল ও কার্যকর নজরদারির অভাবেই অপরাধীরা এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পেয়েছে।

"দৈনিক পল্লীবাংলা"  সঙ্গে আলাপকালে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “থানা থেকে অল্প দূরত্বের মধ্যে যদি এক রাতে দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়? এমন পরিস্থিতিতে মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।”

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ডাকাত চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি রাত্রীকালীন পুলিশি টহল বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার এবং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ঘটনাদ্বয়ের বিষয়ে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনাগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়তে পারে। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ উল্যা, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :

১৫ জুন, ২০২৬,  8:55 PM

news image

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এক রাতের ব্যবধানে দুটি পৃথক বাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সশস্ত্র ডাকাতদল পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। থানা থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে একই রাতে পরপর দুটি ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। একই সঙ্গে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পণ্ডিত বাড়িতে প্রথম ডাকাতির ঘটনা ঘটে। একদল মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত গভীর রাতে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কয়েকজনকে মারধর করে। ডাকাতরা ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পৌরসভা এলাকার জামাইর টেক সংলগ্ন মাসুদ মিয়ার বাড়িতে দ্বিতীয় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতদল একই কৌশলে বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে তারা ঘরের মূল্যবান মালামাল, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

দুই পরিবারের সদস্যরা জানান, ডাকাতদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল এবং তারা অত্যন্ত সংঘবদ্ধভাবে অভিযান চালিয়েছে। আকস্মিক এ ঘটনায় পরিবারগুলোর সদস্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

একই রাতে থানা সংলগ্ন এলাকায় পরপর দুটি ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, নিয়মিত রাত্রীকালীন টহল ও কার্যকর নজরদারির অভাবেই অপরাধীরা এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পেয়েছে।

"দৈনিক পল্লীবাংলা"  সঙ্গে আলাপকালে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “থানা থেকে অল্প দূরত্বের মধ্যে যদি এক রাতে দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়? এমন পরিস্থিতিতে মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।”

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ডাকাত চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি রাত্রীকালীন পুলিশি টহল বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার এবং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ঘটনাদ্বয়ের বিষয়ে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনাগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়তে পারে। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।