ঢাকা ০২ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
জনগণের সমস্যা সমাধানের কার্যকর ফোরাম হওয়া উচিত সংসদ: বিরোধীদলীয় নেতা গ্রামীণ এলাকায় আইসিইউ সেবা সম্প্রসারণের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের অধস্তন আদালতে বিচারক-আইনজীবীদের পোশাকবিধিতে নতুন নির্দেশনা জারি ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে : ট্রাম্প বাণিজ্যিক নথিপত্র ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণের পাইলট কর্মসূচি চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ফি মওকুফ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কাল শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা: অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থী হালান্দের জাদুতে কোয়ার্টারে চোখ নরওয়ের, এমবাপ্পের জোড়া গোলে বিধ্বস্ত সুইডেন, আজটেকায় মেক্সিকোর ইতিহাস ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৩ বসুরহাট পৌরসভার ১১৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা

গাজীপুরের গাছায় আ.লীগ সন্দেহে বিএনপি নেতাকে আটক, পরিচয় মেলায় মুক্তি !

#
news image

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় মো. আব্দুর রহিম নামে এক ব্যবসায়ীকে ‘আওয়ামী লীগ কর্মী’ সন্দেহে আটক এবং পরবর্তীতে গভীর তদন্তে তাঁর প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয় মেলায় সসম্মানে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে গাছা থানার সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম রাব্বানীসহ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে ও পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, পুরো বিষয়টি ছিল একটি পরিকল্পিত ব্যক্তিগত ষড়যন্ত্র এবং পুলিশ সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সাথে সঠিক তদন্ত করেই ওই নির্দোষ ব্যক্তিকে অন্যায় হয়রানি থেকে মুক্তি দিয়েছে।
থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৯ জুন রাতে বাসন থানার আওতাধীন মালেকের বাড়ি ছয়দানা এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ‘অনিতা ডেকোরেটর’ থেকে একটি মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে মো. আব্দুর রহিমকে আটক করে পুলিশ। সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের সাথে তোলা কয়েকটি পুরোনো ছবিকে পুঁজি করে তাকে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে মিথ্যা প্রচার করা হয়। এমনকি ৫ আগস্ট-পরবর্তী একটি বৈষম্যবিরোধী মামলাতেও তাঁর নাম অন্যায়ভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তবে ঘটনাটি জানার পর গাছা থানার চৌকস পুলিশ দল ও নতুন ওসি মো. গোলাম রাব্বানী দ্রুত এর গভীরে যান। ওসির নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তা ও দুজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হন যে, মো. আব্দুর রহিম প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের কেউ নন; বরং তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। তিনি ২০০৯ সালে বিএনপির সাধারণ সদস্য হন এবং ২০২৫ সালেও তাঁর সদস্যপদ নবায়ন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবির বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম জানান, মালেকের বাড়ি মার্কেট কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সৌজন্য সাক্ষাতের খাতিরে এবং ব্যবসায়ী হিসেবে দোকানে ভোট চাইতে আসা নেতাদের অনুরোধে ছবিগুলো তোলা হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ সামাজিক বিষয়, রাজনৈতিক নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তাঁর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী মামলা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালত থেকে আইনগতভাবে জামিনে রয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ফায়দা লুটতে এবং এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুর রহিমকে হয়রানি করতে এই নোংরা নাটক সাজিয়েছে। একই সাথে তারা গাছা থানার বর্তমান ওসির সততা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার অপচেষ্টা করছে। এর আগে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় একজন বিতর্কিত এসআই-এর প্রত্যাহার এবং সাবেক ওসির বদলির ঘটনা ঘটলেও, বর্তমান ওসির টিম অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও সাহসিকতার সাথে কাজ করছে।
এ বিষয়ে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম রাব্বানী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “মো. আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। আমাদের তদন্ত দল বিষয়টি নিখুঁতভাবে মাঠপর্যায়ে যাচাই করেছে। স্থানীয় বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও এলাকার বাসিন্দাদের মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত নন, বরং বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী। উপরন্তু তিনি আদালত থেকে জামিনে আছেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পুরো বিষয়টি অবহিত করেই তাকে সসম্মানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, কোনো অপরাধ বা বেআইনি তদবিরের কাছে মাথা নত না করে, গাছা থানা পুলিশ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে একজন নিরপরাধ মানুষকে অন্যায় হয়রানি থেকে বাঁচিয়েছে। কুচক্রী মহলের ছড়ানো গুজবে কান না দিয়ে গাছা থানা পুলিশের এমন দায়িত্বশীল ও সত্যনিষ্ঠ ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সর্বস্তরের সর্বসাধারণ।

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি :

০১ জুলাই, ২০২৬,  8:04 PM

news image

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় মো. আব্দুর রহিম নামে এক ব্যবসায়ীকে ‘আওয়ামী লীগ কর্মী’ সন্দেহে আটক এবং পরবর্তীতে গভীর তদন্তে তাঁর প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয় মেলায় সসম্মানে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে গাছা থানার সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম রাব্বানীসহ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে ও পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, পুরো বিষয়টি ছিল একটি পরিকল্পিত ব্যক্তিগত ষড়যন্ত্র এবং পুলিশ সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সাথে সঠিক তদন্ত করেই ওই নির্দোষ ব্যক্তিকে অন্যায় হয়রানি থেকে মুক্তি দিয়েছে।
থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৯ জুন রাতে বাসন থানার আওতাধীন মালেকের বাড়ি ছয়দানা এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ‘অনিতা ডেকোরেটর’ থেকে একটি মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে মো. আব্দুর রহিমকে আটক করে পুলিশ। সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের সাথে তোলা কয়েকটি পুরোনো ছবিকে পুঁজি করে তাকে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে মিথ্যা প্রচার করা হয়। এমনকি ৫ আগস্ট-পরবর্তী একটি বৈষম্যবিরোধী মামলাতেও তাঁর নাম অন্যায়ভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তবে ঘটনাটি জানার পর গাছা থানার চৌকস পুলিশ দল ও নতুন ওসি মো. গোলাম রাব্বানী দ্রুত এর গভীরে যান। ওসির নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তা ও দুজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হন যে, মো. আব্দুর রহিম প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের কেউ নন; বরং তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। তিনি ২০০৯ সালে বিএনপির সাধারণ সদস্য হন এবং ২০২৫ সালেও তাঁর সদস্যপদ নবায়ন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবির বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম জানান, মালেকের বাড়ি মার্কেট কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সৌজন্য সাক্ষাতের খাতিরে এবং ব্যবসায়ী হিসেবে দোকানে ভোট চাইতে আসা নেতাদের অনুরোধে ছবিগুলো তোলা হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ সামাজিক বিষয়, রাজনৈতিক নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তাঁর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী মামলা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালত থেকে আইনগতভাবে জামিনে রয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ফায়দা লুটতে এবং এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুর রহিমকে হয়রানি করতে এই নোংরা নাটক সাজিয়েছে। একই সাথে তারা গাছা থানার বর্তমান ওসির সততা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার অপচেষ্টা করছে। এর আগে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় একজন বিতর্কিত এসআই-এর প্রত্যাহার এবং সাবেক ওসির বদলির ঘটনা ঘটলেও, বর্তমান ওসির টিম অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও সাহসিকতার সাথে কাজ করছে।
এ বিষয়ে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম রাব্বানী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “মো. আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। আমাদের তদন্ত দল বিষয়টি নিখুঁতভাবে মাঠপর্যায়ে যাচাই করেছে। স্থানীয় বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও এলাকার বাসিন্দাদের মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত নন, বরং বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী। উপরন্তু তিনি আদালত থেকে জামিনে আছেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পুরো বিষয়টি অবহিত করেই তাকে সসম্মানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, কোনো অপরাধ বা বেআইনি তদবিরের কাছে মাথা নত না করে, গাছা থানা পুলিশ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে একজন নিরপরাধ মানুষকে অন্যায় হয়রানি থেকে বাঁচিয়েছে। কুচক্রী মহলের ছড়ানো গুজবে কান না দিয়ে গাছা থানা পুলিশের এমন দায়িত্বশীল ও সত্যনিষ্ঠ ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সর্বস্তরের সর্বসাধারণ।