ফটিকছড়িতে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে ইট ভাটায় বিক্রির হিড়িক !
কামাল উদ্দীন চৌধুরী, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম):
২২ জানুয়ারি, ২০২৫, 3:39 PM
ফটিকছড়িতে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে ইট ভাটায় বিক্রির হিড়িক !
ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির মাটি (টপ সয়েল) কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে মাটি খেকোরা।
অবৈধ মুনাফার জন্য এসব কাজে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি ও কতিপয় রাজনৈতিক নেতা।
মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও মাটি ব্যবসায়ীদের থামানো যাচ্ছেনা কোনভাবেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায়, স্থানীয় প্রশাসন মাটি কাটার বিষয়টি জানার পরও রহস্যজনক কারণে নীরবতা পালন করছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলার নাজিরহাট, পাইন্দং, নারায়ণহাট, দাঁতমারা,ভূজপুর, সুন্দরপুর, সুয়াবিল, নানুপুর, বক্তপুর, সমিতিরহাট, আব্দুল্লাহপুর সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, যান্ত্রিক এক্সকাভেটর ও শ্রমিক দিয়ে আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে শতাধিক ড্রাম ট্রাক, জীপ দিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়।
ইটভাটা ছাড়াও ফসলি জমির এসব মাটি ব্যবহার হচ্ছে বসত বাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণেও।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির মাটি কাটার ফলে আবাদি জমির উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে মাটির জৈব গুণাগুণ। নিচু হয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি। ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।
এক শ্রেণির মাটি ব্যবসায়ীরা, জমির মালিকদের অর্থের লোভে ফেলে কেটে নিচ্ছেন এসব আবাদি জমির মাটি। অবাধে মাটি কাটার ফলে এসব ইউনিয়নের আবাদি জমি নিচু হয়ে গেছে।
এলাকার সচেতন মহল বলেন, এভাবে জমির মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে একসময় কৃষিতে বিপর্যয় দেখা দেবে এবং কমে যাবে আবাদি জমির পরিমাণ।
এছাড়াও জমি থেকে কেটে নেওয়া মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার জায়গা, সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়।
এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা যায়, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১২-এর ৬ ধারায়) অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট টিলা ও পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অন্যদিকে ১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত ২০০১) অনুযায়ী, কৃষিজমির টপসয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে।
দুই আইনে শাস্তির বিধান একই রকম। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের দুই লাখ টাকা জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে দায়ী ব্যক্তির ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদণ্ড হবে। এ ক্ষেত্রে এ কাজের সঙ্গে জড়িত জমি ও ইটভাটার মালিক উভয়ের জন্যই সমান শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতের আঁধারে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটছে।
জড়িতদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে এবং ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কামাল উদ্দীন চৌধুরী, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম):
২২ জানুয়ারি, ২০২৫, 3:39 PM
ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির মাটি (টপ সয়েল) কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে মাটি খেকোরা।
অবৈধ মুনাফার জন্য এসব কাজে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি ও কতিপয় রাজনৈতিক নেতা।
মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও মাটি ব্যবসায়ীদের থামানো যাচ্ছেনা কোনভাবেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায়, স্থানীয় প্রশাসন মাটি কাটার বিষয়টি জানার পরও রহস্যজনক কারণে নীরবতা পালন করছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলার নাজিরহাট, পাইন্দং, নারায়ণহাট, দাঁতমারা,ভূজপুর, সুন্দরপুর, সুয়াবিল, নানুপুর, বক্তপুর, সমিতিরহাট, আব্দুল্লাহপুর সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, যান্ত্রিক এক্সকাভেটর ও শ্রমিক দিয়ে আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে শতাধিক ড্রাম ট্রাক, জীপ দিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়।
ইটভাটা ছাড়াও ফসলি জমির এসব মাটি ব্যবহার হচ্ছে বসত বাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণেও।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির মাটি কাটার ফলে আবাদি জমির উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে মাটির জৈব গুণাগুণ। নিচু হয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি। ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।
এক শ্রেণির মাটি ব্যবসায়ীরা, জমির মালিকদের অর্থের লোভে ফেলে কেটে নিচ্ছেন এসব আবাদি জমির মাটি। অবাধে মাটি কাটার ফলে এসব ইউনিয়নের আবাদি জমি নিচু হয়ে গেছে।
এলাকার সচেতন মহল বলেন, এভাবে জমির মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে একসময় কৃষিতে বিপর্যয় দেখা দেবে এবং কমে যাবে আবাদি জমির পরিমাণ।
এছাড়াও জমি থেকে কেটে নেওয়া মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার জায়গা, সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়।
এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা যায়, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১২-এর ৬ ধারায়) অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট টিলা ও পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অন্যদিকে ১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত ২০০১) অনুযায়ী, কৃষিজমির টপসয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে।
দুই আইনে শাস্তির বিধান একই রকম। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের দুই লাখ টাকা জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে দায়ী ব্যক্তির ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদণ্ড হবে। এ ক্ষেত্রে এ কাজের সঙ্গে জড়িত জমি ও ইটভাটার মালিক উভয়ের জন্যই সমান শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতের আঁধারে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটছে।
জড়িতদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে এবং ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সম্পর্কিত