ঢাকা ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
শিরোনামঃ
উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বিধাহীন চিত্তে দেশবাসীর প্রতি প্রধান উপদেষ্টার ভোট দেয়ার আহ্বান উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বিধাহীন চিত্তে ভোট দিন : দেশবাসীর প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান ভোটের গাড়ির ‘জনমত বাক্সে’ প্রধান উপদেষ্টাকে ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মনের কথা বড়লেখা-জুড়ি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে গাজীপুর-২ আসনে এনসিপি প্রার্থীর হলফনামা নিয়ে বিতর্ক, তথ্য গোপনের অভিযোগে আবেদন নীলফামারীতে হামলা ও হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন নোয়াখালী-৫ আসনে নির্বাচন কমিশনের নিরবতা নিয়ে জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ পিরোজপুর -১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় নেতাকর্মীদের ঢল কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়রসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা বানারীপাড়ায় সেনাবাহিনীর তল্লাশিতে বিএনপি নেতার বাসা থেকে অস্ত্র উদ্ধার

উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বিধাহীন চিত্তে দেশবাসীর প্রতি প্রধান উপদেষ্টার ভোট দেয়ার আহ্বান

#
news image

আগামী জাতীয় নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বিধাহীন চিত্তে ভোট প্রদানের জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আপনারা দলে দলে, সপরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দ্বিধাহীন চিত্তে আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন। দেশের চাবি আপনার হাতে। সে চাবিটি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট বিষয়ে আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার প্রধান উপদেষ্টার ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করে।

এবারের ভোটের দিন নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন হবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আসুন, উৎসবমুখর নির্বাচন বাস্তবে রূপায়িত করে এই দিনটিকে ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি।’

তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষ আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না; এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে, জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে এবং প্রমাণ করবে, এই দেশ তার তরুণ, নারী ও সংগ্রামী জনতার কণ্ঠ আর কোনোদিন হারাতে দেবে না।’

তিনি বলেন, আমাদের তরুণরা, যাদের স্বপ্ন, মেধা ও শক্তিই আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি, এই ভোট আপনাদের প্রথম সত্যিকারের রাজনৈতিক উচ্চারণ।

তরুণদের উদ্দেশে অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ‘আপনারাই সেই প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। আপনারা বড় হয়েছেন এমন এক বাস্তবতায়, যেখানে ভোটের মুখোশ ছিল কিন্তু ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল কিন্তু ভোটার ছিল না। এই দীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা ও অবদমনের সবচেয়ে বড় মূল্য জাতিকে প্রতিদিন দিতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তবু আপনারা আশা ছাড়েননি, অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। আন্দোলনে, প্রতিবাদে, চিন্তায় ও স্বপ্নে আপনারা একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছেন। আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর সেই দিনটি এসেছে।’

নারীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের নারীরা মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সব গণআন্দোলনে, পরিবার থেকে রাষ্ট্র, সবখানেই শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নারীরাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা। নারীরাই এ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শক্ত ভিত।’

তিনি বলেন, ক্ষুদ্রঋণ, কুটির শিল্প ও নারী উদ্যোক্তার পেছনে রয়েছে পরিবর্তনের গল্প, পরিবার ও সমাজে সাবলম্বী হওয়ার গল্প।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আপনারা ঘরে ও রাজপথে সমানভাবে সংগ্রাম করেছেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ আগলে রেখেছেন, সমাজকে টিকিয়ে রেখেছেন। অথচ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন। এই নির্বাচন আপনাদের জন্য এক নতুন সূচনা।’

শেখ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  10:29 PM

news image
জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সিএ প্রেস উইং

আগামী জাতীয় নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বিধাহীন চিত্তে ভোট প্রদানের জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আপনারা দলে দলে, সপরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দ্বিধাহীন চিত্তে আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন। দেশের চাবি আপনার হাতে। সে চাবিটি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট বিষয়ে আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার প্রধান উপদেষ্টার ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করে।

এবারের ভোটের দিন নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন হবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আসুন, উৎসবমুখর নির্বাচন বাস্তবে রূপায়িত করে এই দিনটিকে ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি।’

তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষ আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না; এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে, জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে এবং প্রমাণ করবে, এই দেশ তার তরুণ, নারী ও সংগ্রামী জনতার কণ্ঠ আর কোনোদিন হারাতে দেবে না।’

তিনি বলেন, আমাদের তরুণরা, যাদের স্বপ্ন, মেধা ও শক্তিই আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি, এই ভোট আপনাদের প্রথম সত্যিকারের রাজনৈতিক উচ্চারণ।

তরুণদের উদ্দেশে অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ‘আপনারাই সেই প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। আপনারা বড় হয়েছেন এমন এক বাস্তবতায়, যেখানে ভোটের মুখোশ ছিল কিন্তু ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল কিন্তু ভোটার ছিল না। এই দীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা ও অবদমনের সবচেয়ে বড় মূল্য জাতিকে প্রতিদিন দিতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তবু আপনারা আশা ছাড়েননি, অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। আন্দোলনে, প্রতিবাদে, চিন্তায় ও স্বপ্নে আপনারা একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছেন। আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর সেই দিনটি এসেছে।’

নারীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের নারীরা মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সব গণআন্দোলনে, পরিবার থেকে রাষ্ট্র, সবখানেই শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নারীরাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা। নারীরাই এ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শক্ত ভিত।’

তিনি বলেন, ক্ষুদ্রঋণ, কুটির শিল্প ও নারী উদ্যোক্তার পেছনে রয়েছে পরিবর্তনের গল্প, পরিবার ও সমাজে সাবলম্বী হওয়ার গল্প।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আপনারা ঘরে ও রাজপথে সমানভাবে সংগ্রাম করেছেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ আগলে রেখেছেন, সমাজকে টিকিয়ে রেখেছেন। অথচ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন। এই নির্বাচন আপনাদের জন্য এক নতুন সূচনা।’