শরণখোলায় প্রতিপক্ষের হামলায় প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩
সৈয়দ ওবায়দুল হোসেন, খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো চিফ :
০৩ মার্চ, ২০২৬, 2:47 AM
শরণখোলায় প্রতিপক্ষের হামলায় প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় আরিফুল ইসলাম মাসুম (২৬) নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (০২ মার্চ) বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে রবিবার (০১ মার্চ) রাত পৌনে ৯টার দিকে খুড়িয়াখালী গ্রামে হামলার ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মাসুম উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। প্রায় দুই মাস আগে তিনি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। স্থানীয়ভাবে তিনি বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, সুন্দরবনে মাছ আহরণের ব্যবসা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতা এবং নির্বাচনকালীন বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের একটি ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে আফজাল বয়াতি ও তার লোকজন এ হামলা চালায়। নিহতের ভাইয়ের ছেলে মো. রিয়াদ মাহমুদ জানান, শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে ফোন পেয়ে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে মাসুমকে আনতে যান। সেখানে পৌঁছালে আফজাল বয়াতি চিৎকার শুরু করলে ১৫-২০ জন তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি পালাতে সক্ষম হলেও মাসুমকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
নিহতের শ্বশুর ডালিম খান বলেন, রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে খাবার খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন মাসুম। পথিমধ্যে হামলার শিকার হন তারা। খবর পেয়ে সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম লিটনসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরে মাসুম স্ত্রীকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে বাড়ির অদূরে একটি দোকানের সামনে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে শরণখোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. নাইম জানান, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার হার্ট অ্যাটাক হয় এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন অভিযোগ করেন, জামায়াতের কর্মীদের মারধরের কারণেই মাসুমের মৃত্যু হয়েছে এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শরণখোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা জামায়াতের নেতারা। উপজেলা জামায়াতের আমীর রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা নেই; প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামিনুল হক বলেন, নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সৈয়দ ওবায়দুল হোসেন, খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো চিফ :
০৩ মার্চ, ২০২৬, 2:47 AM
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় আরিফুল ইসলাম মাসুম (২৬) নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (০২ মার্চ) বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে রবিবার (০১ মার্চ) রাত পৌনে ৯টার দিকে খুড়িয়াখালী গ্রামে হামলার ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মাসুম উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। প্রায় দুই মাস আগে তিনি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। স্থানীয়ভাবে তিনি বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, সুন্দরবনে মাছ আহরণের ব্যবসা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতা এবং নির্বাচনকালীন বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের একটি ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে আফজাল বয়াতি ও তার লোকজন এ হামলা চালায়। নিহতের ভাইয়ের ছেলে মো. রিয়াদ মাহমুদ জানান, শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে ফোন পেয়ে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে মাসুমকে আনতে যান। সেখানে পৌঁছালে আফজাল বয়াতি চিৎকার শুরু করলে ১৫-২০ জন তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি পালাতে সক্ষম হলেও মাসুমকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
নিহতের শ্বশুর ডালিম খান বলেন, রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে খাবার খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন মাসুম। পথিমধ্যে হামলার শিকার হন তারা। খবর পেয়ে সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম লিটনসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরে মাসুম স্ত্রীকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে বাড়ির অদূরে একটি দোকানের সামনে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে শরণখোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. নাইম জানান, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার হার্ট অ্যাটাক হয় এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন অভিযোগ করেন, জামায়াতের কর্মীদের মারধরের কারণেই মাসুমের মৃত্যু হয়েছে এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শরণখোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা জামায়াতের নেতারা। উপজেলা জামায়াতের আমীর রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা নেই; প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামিনুল হক বলেন, নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।