ঢাকা ১৭ জুন, ২০২৬
শিরোনামঃ
গাজীপুরে ৬৪ বোতল ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বড়লেখার খাল-বিল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ফুল শাপলা বারহাট্টায় আড়াই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার ক্যাবের চরভদ্রাসন উপজেলা শাখার পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত শাল্লায় মা, নবজাতক ও কিশোর-কিশোরীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপজেলা পর্যায়ে পরামর্শ সভা এমবাপ্পের জোড়া গোলে সেনেগালকে হারিয়ে ফ্রান্স’র শুভ সূচনা মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী ক্রিয়েটিভ হাবের পরিকল্পনা সরকারের সারাদেশে ‘নিরবিচ্ছিন্ন সময় সাশ্রয়ী’ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

বড়লেখার খাল-বিল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ফুল শাপলা

#
news image

এক সময় মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের খালবিল ফুল দেখা যেত। লাল কিংবা সাদা শাপলা ফুলের সৌন্দর্যের দৃশ্য কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে। 
 
সময়ের বিবর্তনে হাওর খালবিলে পলিজমে হাওর খালবিল শুকিয়ে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে এই চিরচেনা জাতীয় শাপলা ফুল।
 
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সৃষ্টিতে ফুলের অবদান রয়েছে। অন্যান্য ফুলের মতো শাপলাও সে সৌন্দর্যের অংশীদার। 
 
শাপলা ফুলের সৌন্দর্য বাংলাদেশের সর্বত্রই ছড়িয়ে আছে। শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। সাদামাটা সবার প্রিয় এ ফুল। যেকোন ডোবা-নালায় জন্ম নিয়ে সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট করে। কিন্তু আফসোস প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবে শাপলা ফুলের সেই সমারোহ আর চোখে পড়ে না। দিনে দিনে শাপলা-শালুক যেন একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে। 
 
অথচ আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগেও বড় বড় দিঘীতে ও বিলের বুক জুড়ে শাপলা ফুলের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য ছিলো চোখে পড়ার মতো। শরৎকালে দিঘীতে ও বিলের বুক জুড়ে প্রকৃতি অন্যরকম সাজে সেজে উঠত। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখা যেত চারদিকে ফুটন্ত সাদা শাপলার সমারোহ। মনে হতো এ যেন শাপলা ফুলের জগৎ।
 
শাপলা ফুল শুধু পরিবেশ ও প্রকৃতির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে তা নয় এর রয়েছে অনেক পুষ্টি গুণ। এছাড়া এ ফুলের গাছ শিকড় ও মাথা কিছুই ফেলে দেওয়ার মতো নয়। শাপলার নরম ডাঁটা, মাথা ও গোড়ায় জন্ম নেওয়া ড্যাপ এবং শালুক সবই মুখরোচক পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান। রান্নায় উৎকৃষ্ট তরকারি হিসেবে এর ডাঁটা বেশ জনপ্রিয়। শালুক আগুনে পুড়িয়ে কিংবা সেদ্ধ করে খাওয়া হয়। আগের দিনে শরতের শেষে বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিল জুড়ে শালুক তোলার ধুম পড়ে যেত। শালুক পোড়া গন্ধ এখনো প্রবীণদের শৈশবের কথা মনে করিয়ে দেয়। শাপলা, পদ্ম সাধারণত দিঘী বা বিলে ফুটে থাকে। তখন গ্রামের ছেলে-মেয়েরা সাঁতার কেটে এই ফুল তুলে আনত। 
 
এখন আর আগের মত এই ফুল চোখে পড়ে না। কারণ হিসেবে দেখা গেছে, আগের সব পুকুর, নদী, খাল ভরাট করে মানুষের নানামুখী কর্মকান্ড ও কৃষিতে অতিমাত্রায় আগাছানাশক ওষুধ প্রয়োগের কারণে শাপলার জন্মস্থলগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।
বর্তমানে নিচু জমিগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ফসল চাষ হচ্ছে। ফলে শাপলা জন্মানোর সুযোগ পাচ্ছে না। আর পুকুর জলাশয়গুলো পরিষ্কার করে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ হচ্ছে। সে কারণে পুকুরগুলোতেও শাপলা বংশবিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে না। তাই আগের মত আর শাপলা দেখা যায় না। পতিত জমি ও গর্ত জমিতে মাছ চাষ করার কারণে জাতীয় ফুল শাপলা এখন হারিয়ে যাচ্ছে। মাছের ঘের হওয়ায়, অতিরিক্ত ফসল ও জমি পতিত না থাকার ফলে শাপলা জন্মানোর সুযোগ পাচ্ছে না।
 
 এছাড়া আবাদি জমিতে অপরিমিত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগে অনেক শাপলা বীজ বা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা মা শালুক বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে শাপলার গাছ জন্ম হচ্ছে না।

হানিফ পারভেজ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :

১৭ জুন, ২০২৬,  7:15 PM

news image

এক সময় মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের খালবিল ফুল দেখা যেত। লাল কিংবা সাদা শাপলা ফুলের সৌন্দর্যের দৃশ্য কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে। 
 
সময়ের বিবর্তনে হাওর খালবিলে পলিজমে হাওর খালবিল শুকিয়ে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে এই চিরচেনা জাতীয় শাপলা ফুল।
 
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সৃষ্টিতে ফুলের অবদান রয়েছে। অন্যান্য ফুলের মতো শাপলাও সে সৌন্দর্যের অংশীদার। 
 
শাপলা ফুলের সৌন্দর্য বাংলাদেশের সর্বত্রই ছড়িয়ে আছে। শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। সাদামাটা সবার প্রিয় এ ফুল। যেকোন ডোবা-নালায় জন্ম নিয়ে সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট করে। কিন্তু আফসোস প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবে শাপলা ফুলের সেই সমারোহ আর চোখে পড়ে না। দিনে দিনে শাপলা-শালুক যেন একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে। 
 
অথচ আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগেও বড় বড় দিঘীতে ও বিলের বুক জুড়ে শাপলা ফুলের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য ছিলো চোখে পড়ার মতো। শরৎকালে দিঘীতে ও বিলের বুক জুড়ে প্রকৃতি অন্যরকম সাজে সেজে উঠত। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখা যেত চারদিকে ফুটন্ত সাদা শাপলার সমারোহ। মনে হতো এ যেন শাপলা ফুলের জগৎ।
 
শাপলা ফুল শুধু পরিবেশ ও প্রকৃতির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে তা নয় এর রয়েছে অনেক পুষ্টি গুণ। এছাড়া এ ফুলের গাছ শিকড় ও মাথা কিছুই ফেলে দেওয়ার মতো নয়। শাপলার নরম ডাঁটা, মাথা ও গোড়ায় জন্ম নেওয়া ড্যাপ এবং শালুক সবই মুখরোচক পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান। রান্নায় উৎকৃষ্ট তরকারি হিসেবে এর ডাঁটা বেশ জনপ্রিয়। শালুক আগুনে পুড়িয়ে কিংবা সেদ্ধ করে খাওয়া হয়। আগের দিনে শরতের শেষে বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিল জুড়ে শালুক তোলার ধুম পড়ে যেত। শালুক পোড়া গন্ধ এখনো প্রবীণদের শৈশবের কথা মনে করিয়ে দেয়। শাপলা, পদ্ম সাধারণত দিঘী বা বিলে ফুটে থাকে। তখন গ্রামের ছেলে-মেয়েরা সাঁতার কেটে এই ফুল তুলে আনত। 
 
এখন আর আগের মত এই ফুল চোখে পড়ে না। কারণ হিসেবে দেখা গেছে, আগের সব পুকুর, নদী, খাল ভরাট করে মানুষের নানামুখী কর্মকান্ড ও কৃষিতে অতিমাত্রায় আগাছানাশক ওষুধ প্রয়োগের কারণে শাপলার জন্মস্থলগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।
বর্তমানে নিচু জমিগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ফসল চাষ হচ্ছে। ফলে শাপলা জন্মানোর সুযোগ পাচ্ছে না। আর পুকুর জলাশয়গুলো পরিষ্কার করে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ হচ্ছে। সে কারণে পুকুরগুলোতেও শাপলা বংশবিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে না। তাই আগের মত আর শাপলা দেখা যায় না। পতিত জমি ও গর্ত জমিতে মাছ চাষ করার কারণে জাতীয় ফুল শাপলা এখন হারিয়ে যাচ্ছে। মাছের ঘের হওয়ায়, অতিরিক্ত ফসল ও জমি পতিত না থাকার ফলে শাপলা জন্মানোর সুযোগ পাচ্ছে না।
 
 এছাড়া আবাদি জমিতে অপরিমিত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগে অনেক শাপলা বীজ বা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা মা শালুক বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে শাপলার গাছ জন্ম হচ্ছে না।