ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করলে চার-পাঁচ বছরে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০১ আগস্ট, ২০২৬, 7:37 PM
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করলে চার-পাঁচ বছরে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চার ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা থাকলেও তা একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সরকার যেমন অনুধাবন করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তা অনুভব করছেন। এসব সংকট কাটাতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের আলোচনা ও পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।”
সরকারের বর্তমান মেয়াদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের সরকারের বয়স এখনো ছয় মাস হয়নি। কিন্তু এর মধ্যেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমে এককভাবে এবং পরবর্তীতে ফোরামের মাধ্যমে খাতভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়েও সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে।” আগের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উদ্যোক্তারা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, তার অনেকগুলোরই সমাধান ইতিমধ্যে হয়েছে। আজকের আলোচনায় যে নতুন বিষয়গুলো এসেছে, তা নিয়েও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের একই ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “আমরা যত বেশি খোলামেলা আলোচনা করতে পারব, তত দ্রুত ব্যবসায়িক খাতের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব হবে।” এ ধরনের ধারাবাহিক সংলাপ অব্যাহত থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি একটি ইতিবাচক ও স্থিতিশীল রূপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় ব্যবসা সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন শিল্পায়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপস্থিত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে অর্থায়ন, দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত সহায়তা এবং নিশ্চিদ্র ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ার জোর দাবি জানান। পাশাপাশি, সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে এর অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।
সভায় জানানো হয়, পূর্ববর্তী বৈঠকে উত্থাপিত ২৮টি প্রধান সমস্যার মধ্যে ইতিমধ্যে ২১টির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাকি সাতটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার একটি কৌশলগত রূপরেখা উপস্থাপন করেন ব্যবসায়ী নেতারা। এতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জনে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার।
গুরুত্বপূর্ণ এই মতবিনিময় সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০১ আগস্ট, ২০২৬, 7:37 PM
সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চার ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা থাকলেও তা একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সরকার যেমন অনুধাবন করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তা অনুভব করছেন। এসব সংকট কাটাতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের আলোচনা ও পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।”
সরকারের বর্তমান মেয়াদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের সরকারের বয়স এখনো ছয় মাস হয়নি। কিন্তু এর মধ্যেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমে এককভাবে এবং পরবর্তীতে ফোরামের মাধ্যমে খাতভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়েও সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে।” আগের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উদ্যোক্তারা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, তার অনেকগুলোরই সমাধান ইতিমধ্যে হয়েছে। আজকের আলোচনায় যে নতুন বিষয়গুলো এসেছে, তা নিয়েও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের একই ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “আমরা যত বেশি খোলামেলা আলোচনা করতে পারব, তত দ্রুত ব্যবসায়িক খাতের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব হবে।” এ ধরনের ধারাবাহিক সংলাপ অব্যাহত থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি একটি ইতিবাচক ও স্থিতিশীল রূপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় ব্যবসা সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন শিল্পায়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপস্থিত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে অর্থায়ন, দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত সহায়তা এবং নিশ্চিদ্র ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ার জোর দাবি জানান। পাশাপাশি, সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে এর অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।
সভায় জানানো হয়, পূর্ববর্তী বৈঠকে উত্থাপিত ২৮টি প্রধান সমস্যার মধ্যে ইতিমধ্যে ২১টির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাকি সাতটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার একটি কৌশলগত রূপরেখা উপস্থাপন করেন ব্যবসায়ী নেতারা। এতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জনে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার।
গুরুত্বপূর্ণ এই মতবিনিময় সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।