ঢাকা ১৩ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সহনশীল নগর পরিকল্পনা ও জলপথ পুনরুদ্ধারের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগের সার্বিক বিষয়ে নিজেই মনিটরিং করছেন : ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের জানাজা অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে জেলে যেতে হবে : চিফ প্রসিকিউটর শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ইইউ চট্টগ্রাম ছাড়া অন্য ১০ বোর্ডে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা যথারীতি চলবে : আন্তঃশিক্ষা বোর্ড প্রথমবার বিশ্বকাপে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৫০ পিরোজপুরে সিও অফিস সংলগ্ন দোকানে দুঃসাহসিক চুরি, ৩ লাখ টাকা লুট গলায় কাঁচি ধরে শিশুকে ধর্ষণ, ভিডিও করল সহযোগী: গ্রেপ্তার ১

বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সহনশীল নগর পরিকল্পনা ও জলপথ পুনরুদ্ধারের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

#
news image

ভবিষ্যতে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সহনশীল (রেজিলিয়েন্ট) নগর পরিকল্পনা, প্রাকৃতিক জলপথ পুনরুদ্ধার এবং পানি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিজ্ঞানভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর প্রস্তুতির মাধ্যমে বাংলাদেশ মৌসুমি বন্যা ও বর্ষাকালের চ্যালেঞ্জগুলো আরও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিশিষ্ট পানি সম্পদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, উন্নত পরিকল্পনা, কার্যকর নিষ্কাশন অবকাঠামো এবং স্থানীয় জনগণের প্রস্তুতি জোরদার করা হলে দেশের দুর্যোগ-সহনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, বাংলা মাস আষাঢ়ে ভারী বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের মৌসুমি জলবায়ুর একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য এবং এটি আমাদের কৃষি ও পানি সম্পদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘এ সময়ই তো বৃষ্টি হওয়ার কথা। এখন যদি বৃষ্টি না হয়, তাহলে কখন হবে?’ সমস্যার মূল কারণ বৃষ্টিপাত নয়; বরং বৃষ্টির পানি যেন খাল, জলাভূমি ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে, সেটিই নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি উল্লেখ করেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে অনেক প্রাকৃতিক খাল ও পানি নিষ্কাশনের পথ বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বহু সড়ক, বাঁধ ও অন্যান্য অবকাঠামো পর্যাপ্ত পানি চলাচলের ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মিত হয়েছে। খাল পুনরুদ্ধার, জলাভূমি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতের অবকাঠামো প্রকল্পে কার্যকর নিষ্কাশন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা গেলে বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল ত্রাণ বিতরণের ওপর নির্ভর না করে উন্নত অবকাঠামো, প্রস্তুতি এবং অভিযোজনভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ত্রাণের ওপর নির্ভরশীলতা নয়, দুর্যোগ মোকাবিলায় মানুষকে প্রস্তুত করাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য।’

বুয়েটের অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়েই ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা বাড়ছে, কারণ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডল আরও বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে সক্ষম হচ্ছে। চলমান ভারী বর্ষণের কারণ ছিল একটি মৌসুমি নিম্নচাপ, যা বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা দেশের পূর্বাঞ্চলে নিয়ে আসে এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে সেখানে বৃষ্টিপাত আরও তীব্র হয়।

তিনি বলেন, দ্রুত নগরায়ণের ফলে জলাভূমি, খাল ও উন্মুক্ত স্থান কমে গেছে, যা একসময় বৃষ্টির পানি ধারণ করত। কার্যকরভাবে ভবন নির্মাণবিধি বাস্তবায়ন, পুকুর ও খাল সংরক্ষণ এবং সবুজ এলাকা রক্ষা করা গেলে শহরগুলো আরও দুর্যোগ-সহনশীল হয়ে উঠবে। এছাড়া কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং আধুনিক রাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়োপযোগী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু করা গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। নদী ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বাঁধের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বলেছেন, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার প্রয়োজনীয় সময় পর্যন্ত থাকবে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বিক দুর্যোগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গত ৭ জুলাই থেকে দেশের ৬৪ জেলার বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় সরকার ইতোমধ্যে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

১২ জুলাই, ২০২৬,  9:26 PM

news image

ভবিষ্যতে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সহনশীল (রেজিলিয়েন্ট) নগর পরিকল্পনা, প্রাকৃতিক জলপথ পুনরুদ্ধার এবং পানি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিজ্ঞানভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর প্রস্তুতির মাধ্যমে বাংলাদেশ মৌসুমি বন্যা ও বর্ষাকালের চ্যালেঞ্জগুলো আরও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিশিষ্ট পানি সম্পদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, উন্নত পরিকল্পনা, কার্যকর নিষ্কাশন অবকাঠামো এবং স্থানীয় জনগণের প্রস্তুতি জোরদার করা হলে দেশের দুর্যোগ-সহনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, বাংলা মাস আষাঢ়ে ভারী বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের মৌসুমি জলবায়ুর একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য এবং এটি আমাদের কৃষি ও পানি সম্পদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘এ সময়ই তো বৃষ্টি হওয়ার কথা। এখন যদি বৃষ্টি না হয়, তাহলে কখন হবে?’ সমস্যার মূল কারণ বৃষ্টিপাত নয়; বরং বৃষ্টির পানি যেন খাল, জলাভূমি ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে, সেটিই নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি উল্লেখ করেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে অনেক প্রাকৃতিক খাল ও পানি নিষ্কাশনের পথ বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বহু সড়ক, বাঁধ ও অন্যান্য অবকাঠামো পর্যাপ্ত পানি চলাচলের ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মিত হয়েছে। খাল পুনরুদ্ধার, জলাভূমি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতের অবকাঠামো প্রকল্পে কার্যকর নিষ্কাশন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা গেলে বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল ত্রাণ বিতরণের ওপর নির্ভর না করে উন্নত অবকাঠামো, প্রস্তুতি এবং অভিযোজনভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ত্রাণের ওপর নির্ভরশীলতা নয়, দুর্যোগ মোকাবিলায় মানুষকে প্রস্তুত করাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য।’

বুয়েটের অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়েই ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা বাড়ছে, কারণ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডল আরও বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে সক্ষম হচ্ছে। চলমান ভারী বর্ষণের কারণ ছিল একটি মৌসুমি নিম্নচাপ, যা বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা দেশের পূর্বাঞ্চলে নিয়ে আসে এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে সেখানে বৃষ্টিপাত আরও তীব্র হয়।

তিনি বলেন, দ্রুত নগরায়ণের ফলে জলাভূমি, খাল ও উন্মুক্ত স্থান কমে গেছে, যা একসময় বৃষ্টির পানি ধারণ করত। কার্যকরভাবে ভবন নির্মাণবিধি বাস্তবায়ন, পুকুর ও খাল সংরক্ষণ এবং সবুজ এলাকা রক্ষা করা গেলে শহরগুলো আরও দুর্যোগ-সহনশীল হয়ে উঠবে। এছাড়া কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং আধুনিক রাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়োপযোগী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু করা গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। নদী ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বাঁধের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বলেছেন, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার প্রয়োজনীয় সময় পর্যন্ত থাকবে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বিক দুর্যোগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গত ৭ জুলাই থেকে দেশের ৬৪ জেলার বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় সরকার ইতোমধ্যে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।