ঢাকা ১৫ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি : ৪ শিক্ষককে শোকজ আইন পেশার অনেকেই শর্টকাটে অর্থবিত্তের মালিক হতে চায়: অ্যাটর্নি জেনারেল টাইফুন বাভিকে ঘিরে উ. কোরিয়ার সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ বড়লেখায় জনদুর্ভোগ নিরসনে সহকারী কমিশনারের সাথে নিসচা'র মতবিনিময়  দেশের আরও চার পোশাক কারখানা পেল লিড সনদ, সংখ্যা বেড়ে ২৯০ এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি থাকলে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে: আন্তঃশিক্ষা বোর্ড বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ২৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান, সেমিতে স্পেনের মুখোমুখি ফ্রান্স বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলো ১৬ জুলাই খুলে দেওয়া হবে বাহুবলে ডিবির অভিযান: পিকআপসহ ১০৫ বোতল মদ জব্দ, আটক ১

টাইফুন বাভিকে ঘিরে উ. কোরিয়ার সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

#
news image

টাইফুন ‘বাভি’ উত্তর কোরিয়ার দিকে ধেয়ে আসায় আজ মঙ্গলবার দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে পিয়ংইয়ং। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও বিপর্যয় এড়াতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন সব মহলে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ অবলম্বনের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। সিউল থেকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, দুর্বল অবকাঠামো ও ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব উত্তর কোরিয়ায় তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি পড়ে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় দৈনিক ‘রোডং সিনমুন’ জানায়, টাইফুনটি মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে পীত সাগর (ইয়েলো সি) হয়ে দেশের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করতে পারে। তবে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আগে এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অংশে আকস্মিক বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। কিম জং উনকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, “দেশের সব স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণাঞ্চলসহ কয়েকটি বিশেষ এলাকায় ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হতে পারে। একই সাথে পশ্চিম উপকূল ও কিছু অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রতি সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ মিটার বেগে তীব্র বাতাস বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘কেসিএনএ’ (KCNA) জানিয়েছিল, দেশের কৃষি ও শিল্প খাত রক্ষা করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে দুর্যোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়াতেও রেকর্ড পরিমাণ ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশটির কিছু কিছু এলাকায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকস্মিক এই বন্যায় মধ্যাঞ্চলের চুংচিয়ং প্রদেশের কয়েক শ বাসিন্দাকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হয়েছে এবং বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কেবিএস’ (KBS) জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের গিয়ংসাং অঞ্চলে ফুলে-ফেঁপে ওঠা নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে সত্তরের কোঠার এক বৃদ্ধ নিখোঁজ হয়েছেন।

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে বিশ্বজুড়ে এই ধরনের চরম আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র আকার ধারণ করছে। গত গ্রীষ্মকালটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম সময়। একইভাবে দুই কোরিয়াতেই এবার জুন মাসটি ছিল রেকর্ড পরিমাণ উষ্ণ। এর ওপর চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরের প্রাকৃতিক উষ্ণায়ন প্রবণতা ‘এল নিনো’র (El Niño) ফিরে আসা এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেক্স :

১৪ জুলাই, ২০২৬,  9:52 PM

news image

টাইফুন ‘বাভি’ উত্তর কোরিয়ার দিকে ধেয়ে আসায় আজ মঙ্গলবার দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে পিয়ংইয়ং। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও বিপর্যয় এড়াতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন সব মহলে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ অবলম্বনের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। সিউল থেকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, দুর্বল অবকাঠামো ও ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব উত্তর কোরিয়ায় তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি পড়ে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় দৈনিক ‘রোডং সিনমুন’ জানায়, টাইফুনটি মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে পীত সাগর (ইয়েলো সি) হয়ে দেশের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করতে পারে। তবে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আগে এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অংশে আকস্মিক বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। কিম জং উনকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, “দেশের সব স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণাঞ্চলসহ কয়েকটি বিশেষ এলাকায় ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হতে পারে। একই সাথে পশ্চিম উপকূল ও কিছু অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রতি সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ মিটার বেগে তীব্র বাতাস বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘কেসিএনএ’ (KCNA) জানিয়েছিল, দেশের কৃষি ও শিল্প খাত রক্ষা করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে দুর্যোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়াতেও রেকর্ড পরিমাণ ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশটির কিছু কিছু এলাকায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকস্মিক এই বন্যায় মধ্যাঞ্চলের চুংচিয়ং প্রদেশের কয়েক শ বাসিন্দাকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হয়েছে এবং বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কেবিএস’ (KBS) জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের গিয়ংসাং অঞ্চলে ফুলে-ফেঁপে ওঠা নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে সত্তরের কোঠার এক বৃদ্ধ নিখোঁজ হয়েছেন।

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে বিশ্বজুড়ে এই ধরনের চরম আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র আকার ধারণ করছে। গত গ্রীষ্মকালটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম সময়। একইভাবে দুই কোরিয়াতেই এবার জুন মাসটি ছিল রেকর্ড পরিমাণ উষ্ণ। এর ওপর চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরের প্রাকৃতিক উষ্ণায়ন প্রবণতা ‘এল নিনো’র (El Niño) ফিরে আসা এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।