সরকার উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৪ জুলাই, ২০২৬, 8:15 PM
সরকার উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যারা নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন কিংবা নতুন করে উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন, তাঁদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য সরকার সবসময় পাশে রয়েছে। তিনি বলেন, “এখন আমাদের কাজ করার সময়। যারা নতুন উদ্যোক্তা হতে চান, প্রথমদিকে তাঁদের জন্য পথটা অনেক কঠিন ও কষ্টের হতে পারে। কিন্তু দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব। আপনাদের পথ দেখানোর জন্য এবং পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেষ্টা করব।”
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা অনেকে বেশ এগিয়ে গেছেন। নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে মানুষ, সমাজ তথা দেশের সামগ্রিক কল্যাণে কাজ করছেন। দেশের লাখো কোটি মানুষের আজ আপনাদের প্রয়োজন। এই দেশের প্রগতির জন্যও আপনাদের ভীষণ প্রয়োজন।”
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তাঁর জীবনের এক টুকরো স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমি আমার জীবনের ছোট্ট একটি বিষয় তুলে ধরতে চাই। জীবনে মোটামুটি ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য এক সময় আমি নিজে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। তবে ব্যবসা শুরু করতে না করতেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাই। কিন্তু ব্যবসা ও রাজনীতি দুটো জিনিস একসঙ্গে চলে না। পরবর্তীতে আমি সিদ্ধান্ত নিই যে রাজনীতিতেই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।” নিজের ওপর দিয়ে যাওয়া অতীতের নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “কিন্তু এই পথচলায় আমাকে অমানুষিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, দিতে হয়েছে অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা। এরপর আল্লাহর রহমতে আজ একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি। তাই বলছি, আপনাদের কাজও কঠিন, তবে আমরা আপনাদের পাশে আছি।”
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শিশুদের মেধা ও বিজ্ঞানমনস্কতা দেখে তাঁর রাজনীতির কারণে তৈরি হওয়া হতাশা কেটে গেছে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি, আপনাদের মতো প্রতিভাবান তরুণদের দেখে মনে হচ্ছে— আমরা একদিন এই দেশের দায়িত্ব যোগ্য কিছু মানুষের হাতে দিয়ে যেতে পারব। আমরা যেখানে শেষ করব, সেখান থেকে দেশটাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন আপনারা।”
অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, প্রয়োজনীয় রিসোর্স নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে বিশেষ ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-(startup.ictd.gov.bd) এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে একটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং সফল তরুণ উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব ‘গল্প নয়, সত্যি’ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে নির্বাচিত ছয়টি স্টার্টআপের প্রতিনিধির হাতে সরকারি অনুদানের চেক তুলে দেন। এ সময় দেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘রাফিহা ফ্যাশন হাউজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা তাঁর প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুদানের আবেদনের কথা জানালে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর হাতেও অনুদানের চেক তুলে দেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সিনেট ভবনের পাশে তরুণ উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং তাঁদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্রজেক্টের খোঁজখবর নেন।
উল্লেখ্য, দেশের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের বিকাশে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞার সূচনা বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী এবং সফল উদ্যোক্তারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৪ জুলাই, ২০২৬, 8:15 PM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যারা নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন কিংবা নতুন করে উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন, তাঁদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য সরকার সবসময় পাশে রয়েছে। তিনি বলেন, “এখন আমাদের কাজ করার সময়। যারা নতুন উদ্যোক্তা হতে চান, প্রথমদিকে তাঁদের জন্য পথটা অনেক কঠিন ও কষ্টের হতে পারে। কিন্তু দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব। আপনাদের পথ দেখানোর জন্য এবং পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেষ্টা করব।”
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা অনেকে বেশ এগিয়ে গেছেন। নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে মানুষ, সমাজ তথা দেশের সামগ্রিক কল্যাণে কাজ করছেন। দেশের লাখো কোটি মানুষের আজ আপনাদের প্রয়োজন। এই দেশের প্রগতির জন্যও আপনাদের ভীষণ প্রয়োজন।”
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তাঁর জীবনের এক টুকরো স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমি আমার জীবনের ছোট্ট একটি বিষয় তুলে ধরতে চাই। জীবনে মোটামুটি ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য এক সময় আমি নিজে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। তবে ব্যবসা শুরু করতে না করতেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাই। কিন্তু ব্যবসা ও রাজনীতি দুটো জিনিস একসঙ্গে চলে না। পরবর্তীতে আমি সিদ্ধান্ত নিই যে রাজনীতিতেই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।” নিজের ওপর দিয়ে যাওয়া অতীতের নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “কিন্তু এই পথচলায় আমাকে অমানুষিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, দিতে হয়েছে অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা। এরপর আল্লাহর রহমতে আজ একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি। তাই বলছি, আপনাদের কাজও কঠিন, তবে আমরা আপনাদের পাশে আছি।”
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শিশুদের মেধা ও বিজ্ঞানমনস্কতা দেখে তাঁর রাজনীতির কারণে তৈরি হওয়া হতাশা কেটে গেছে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি, আপনাদের মতো প্রতিভাবান তরুণদের দেখে মনে হচ্ছে— আমরা একদিন এই দেশের দায়িত্ব যোগ্য কিছু মানুষের হাতে দিয়ে যেতে পারব। আমরা যেখানে শেষ করব, সেখান থেকে দেশটাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন আপনারা।”
অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, প্রয়োজনীয় রিসোর্স নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে বিশেষ ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-(startup.ictd.gov.bd) এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে একটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং সফল তরুণ উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব ‘গল্প নয়, সত্যি’ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে নির্বাচিত ছয়টি স্টার্টআপের প্রতিনিধির হাতে সরকারি অনুদানের চেক তুলে দেন। এ সময় দেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘রাফিহা ফ্যাশন হাউজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা তাঁর প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুদানের আবেদনের কথা জানালে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর হাতেও অনুদানের চেক তুলে দেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সিনেট ভবনের পাশে তরুণ উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং তাঁদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্রজেক্টের খোঁজখবর নেন।
উল্লেখ্য, দেশের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের বিকাশে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞার সূচনা বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী এবং সফল উদ্যোক্তারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।