ঢাকা ২০ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
ইতিহাসের বৃহত্তম ফুটবল উৎসবের সমাপনী: স্পেনের সামনে আর্জেন্টিনা, প্রস্তুত নিউ ইয়র্ক ইরানি হামলায় জ্বলছে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্র ব্যবসায় আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বিসিসিসিআইয়ের সেমিনার: গুরুত্ব পেল এআই ও ব্লকচেইন চট্টগ্রামে বন্যায় ১৫ উপজেলা লণ্ডভণ্ড: ৭ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ঘরবাড়ি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি গাজীপুরে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শতভাগ ফিট ইয়ামাল, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের আগে স্বস্তিতে স্পেন দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার পার, ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু শাল্লায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতা তাফাজ্জুল গ্রেপ্তার কনেবাহী গাড়ি খাদে ,উৎসবের রাতেই বিষাদের ছায়া, নিহত ২ চরভদ্রাসনে হিউম্যান অ্যাপেল অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে ৫০০ বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

চট্টগ্রামে বন্যায় ১৫ উপজেলা লণ্ডভণ্ড: ৭ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ঘরবাড়ি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি

#
news image

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ উপজেলা। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকেই দুর্গতদের সহায়তায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ কৃষি, মৎস্য, ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর, আবহাওয়া বিভাগ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কাজ করে চলেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতির বিবরণী থেকে জানা যায়, বন্যায় জেলাজুড়ে মোট ৯ হাজার ২০৮টি বসতবাড়ি আংশিক এবং ৬ হাজার ২০টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বা বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম ক্ষতিসাধন করে ১ হাজার ৪৯২ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬৯টি সেতু ও কালভার্ট আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় জেলার মোট ৪০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলাজুড়ে মোট ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল এবং দুর্গতদের চিকিৎসায় মাঠে ছিল ২৪৫টি মেডিকেল টিম। বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া সব মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৯৫ লাখ টাকা নগদ, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা, গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা, ১ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহ নির্মাণের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৮০ মেট্রিক টন চাল, ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সরকারের ত্রাণ তহবিলে ১২০ মেট্রিক টন চাল, ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ১ হাজার ৪৫ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহ নির্মাণের জন্য ৩০ লাখ টাকা জরুরি মজুত রয়েছে।

এদিকে বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি ও মহামারি মোকাবিলায় জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রাম ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অনিরাপদ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সাপে কাটা প্রতিরোধ ও দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া, দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তার এড়িয়ে চলা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশেপাশে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সড়ক প্রচার ও মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে পুনর্বাসন ও সচেতনতামূলক বিশেষ বুলেটিন প্রচার করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সমুদ্র বন্দরগুলোর জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত এখনও বহাল রয়েছে। এছাড়া চলতি মাসের ১৮-১৯ জুলাই হালকা থেকে মাঝারি এবং ২০ থেকে ২২ জুলাই চট্টগ্রাম অঞ্চলে পুনরায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। ফলে নতুন করে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

১৮ জুলাই, ২০২৬,  9:43 PM

news image

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ উপজেলা। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকেই দুর্গতদের সহায়তায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ কৃষি, মৎস্য, ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর, আবহাওয়া বিভাগ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কাজ করে চলেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতির বিবরণী থেকে জানা যায়, বন্যায় জেলাজুড়ে মোট ৯ হাজার ২০৮টি বসতবাড়ি আংশিক এবং ৬ হাজার ২০টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বা বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম ক্ষতিসাধন করে ১ হাজার ৪৯২ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬৯টি সেতু ও কালভার্ট আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় জেলার মোট ৪০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলাজুড়ে মোট ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল এবং দুর্গতদের চিকিৎসায় মাঠে ছিল ২৪৫টি মেডিকেল টিম। বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া সব মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৯৫ লাখ টাকা নগদ, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা, গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা, ১ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহ নির্মাণের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৮০ মেট্রিক টন চাল, ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সরকারের ত্রাণ তহবিলে ১২০ মেট্রিক টন চাল, ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ১ হাজার ৪৫ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহ নির্মাণের জন্য ৩০ লাখ টাকা জরুরি মজুত রয়েছে।

এদিকে বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি ও মহামারি মোকাবিলায় জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রাম ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অনিরাপদ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সাপে কাটা প্রতিরোধ ও দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া, দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তার এড়িয়ে চলা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশেপাশে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সড়ক প্রচার ও মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে পুনর্বাসন ও সচেতনতামূলক বিশেষ বুলেটিন প্রচার করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সমুদ্র বন্দরগুলোর জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত এখনও বহাল রয়েছে। এছাড়া চলতি মাসের ১৮-১৯ জুলাই হালকা থেকে মাঝারি এবং ২০ থেকে ২২ জুলাই চট্টগ্রাম অঞ্চলে পুনরায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। ফলে নতুন করে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।