অসহায় বিধবাকে বিয়ে করে চুরির অপবাদ: এলাকাছাড়া নবদম্পতি, একঘরে চাচাতো ভাই !
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি :
১৩ আগস্ট, ২০২৬, 11:43 PM
অসহায় বিধবাকে বিয়ে করে চুরির অপবাদ: এলাকাছাড়া নবদম্পতি, একঘরে চাচাতো ভাই !
স্বামীহারা এক নারী ও তাঁর দুই পিতৃহীন সন্তানের দায়িত্ব নিতে মানবিক কারণে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন শফিকুল ইসলাম মোল্লা (৫১)। কিন্তু ধর্ম ও আইন মেনে করা এই বিয়েই কাল হলো তাঁর জীবনে! বিয়ের পর থেকেই স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর রোষানলে পড়েন তিনি। দেওয়া হয় চুরির মিথ্যা অপবাদ, চলে হুমকি-ধামকি। শেষ পর্যন্ত জীবন ও নিরাপত্তার শঙ্কায় নবদম্পতিকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে।
এমনকি বিয়েতে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনে শফিকুলের চাচাতো ভাই হাফিজ উদ্দিন মোল্লাকেও সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক এ ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ী গ্রামে।
এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও বিচার চেয়ে গত ১১ আগস্ট সরিষাবাড়ী থানায় শাহজাহান মোল্লাকে প্রধান বিবাদী করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে হাটবাড়ী এলাকার শাহজাহান মোল্লার ছেলের মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটছিল ঝর্ণা আক্তারের। তাঁর এই দুর্দশা দেখে সামাজিকভাবে পাশে দাঁড়ানো এবং দুই সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নিহত স্বামীর দূরসম্পর্কের চাচা শফিকুল ইসলাম। পরে নিয়ম মেনে তাঁদের বিয়ে হয়।
কিন্তু এই মানবিক সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, নবদম্পতিকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো শুরু হয়। একপর্যায়ে শফিকুলের বিরুদ্ধে থানায় চুরির একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়। শফিকুলের দাবি, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং মানসিক চাপে রাখার উদ্দেশ্যেই এমন বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ১৫ জুলাই সকালে শাহজাহান মোল্লাসহ ৪-৫ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর বসতবাড়িতে হামলা চালায়। গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করলে তিনি ঘরে ঢুকে আত্মরক্ষা করেন। পরে তাঁকে খুন-জখম, জমি দখল এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তিনি বর্তমানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এলাকাছাড়া।
শফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “একজন অসহায় বিধবা নারী ও তাঁর দুই পিতৃহীন সন্তানের দায়িত্ব নেওয়া কি আমার অপরাধ? আমি ধর্ম ও আইন মেনেই বিয়ে করেছি। অথচ আমাকে চুরির অপবাদ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।”
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ঝর্ণা আক্তার বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। শ্বশুর জীবিত থাকলেও নাতিদের কোনো খোঁজ নিতেন না। এখন একজন মানুষ আমাকে ও আমার সন্তানদের আশ্রয় দিয়েছেন, আমরা বাঁচতে চাই। কিন্তু আমাদের বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত শাহজাহান মোল্লার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীন মিয়া বলেন, “শফিকুল ইসলামের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ানোর পর এমন হয়রানি সমাজের মানবিক মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি :
১৩ আগস্ট, ২০২৬, 11:43 PM
স্বামীহারা এক নারী ও তাঁর দুই পিতৃহীন সন্তানের দায়িত্ব নিতে মানবিক কারণে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন শফিকুল ইসলাম মোল্লা (৫১)। কিন্তু ধর্ম ও আইন মেনে করা এই বিয়েই কাল হলো তাঁর জীবনে! বিয়ের পর থেকেই স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর রোষানলে পড়েন তিনি। দেওয়া হয় চুরির মিথ্যা অপবাদ, চলে হুমকি-ধামকি। শেষ পর্যন্ত জীবন ও নিরাপত্তার শঙ্কায় নবদম্পতিকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে।
এমনকি বিয়েতে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনে শফিকুলের চাচাতো ভাই হাফিজ উদ্দিন মোল্লাকেও সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক এ ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ী গ্রামে।
এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও বিচার চেয়ে গত ১১ আগস্ট সরিষাবাড়ী থানায় শাহজাহান মোল্লাকে প্রধান বিবাদী করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে হাটবাড়ী এলাকার শাহজাহান মোল্লার ছেলের মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটছিল ঝর্ণা আক্তারের। তাঁর এই দুর্দশা দেখে সামাজিকভাবে পাশে দাঁড়ানো এবং দুই সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নিহত স্বামীর দূরসম্পর্কের চাচা শফিকুল ইসলাম। পরে নিয়ম মেনে তাঁদের বিয়ে হয়।
কিন্তু এই মানবিক সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, নবদম্পতিকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো শুরু হয়। একপর্যায়ে শফিকুলের বিরুদ্ধে থানায় চুরির একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়। শফিকুলের দাবি, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং মানসিক চাপে রাখার উদ্দেশ্যেই এমন বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ১৫ জুলাই সকালে শাহজাহান মোল্লাসহ ৪-৫ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর বসতবাড়িতে হামলা চালায়। গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করলে তিনি ঘরে ঢুকে আত্মরক্ষা করেন। পরে তাঁকে খুন-জখম, জমি দখল এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তিনি বর্তমানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এলাকাছাড়া।
শফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “একজন অসহায় বিধবা নারী ও তাঁর দুই পিতৃহীন সন্তানের দায়িত্ব নেওয়া কি আমার অপরাধ? আমি ধর্ম ও আইন মেনেই বিয়ে করেছি। অথচ আমাকে চুরির অপবাদ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।”
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ঝর্ণা আক্তার বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। শ্বশুর জীবিত থাকলেও নাতিদের কোনো খোঁজ নিতেন না। এখন একজন মানুষ আমাকে ও আমার সন্তানদের আশ্রয় দিয়েছেন, আমরা বাঁচতে চাই। কিন্তু আমাদের বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত শাহজাহান মোল্লার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীন মিয়া বলেন, “শফিকুল ইসলামের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ানোর পর এমন হয়রানি সমাজের মানবিক মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।