ঢাকা ১৪ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
বন্যাকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় আরও ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সাইবার হামলার জেরে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করল জার্মানি জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বেজা ও জেনসন অ্যান্ড নিকলসনের চুক্তি: ১৩.৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ছাত্রশিবির থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি’র নতুন আহ্বায়ক কমিটি জবি’র সাংবাদিকতা বিভাগের ‘ফ্যাক্ট-চেকিং ডিজিটাল ল্যাব’ উদ্বোধন 'ফাইনালের আগেই ফাইনাল'- ব্লকবাস্টার সেমিফাইনালে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন ‘জুরাসিক পার্ক’ তারকা স্যাম নিল মারা গেছেন ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

যমুনার উত্তাল স্রোতে ভেসে গেল শত শত পাটের জাগ, হতাশায় সরিষাবাড়ীর চার শতাধিক পাটচাষী  

#
news image

টানা ভারী বর্ষণে যমুনা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে প্রবল স্রোত ও কচুরিপানার চাপে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত পাটের জাগ ও তিনটি ডিঙ্গি নৌকা যমুনার শাখা নদীতে ভেসে গেছে। এতে চার শতাধিক পাটচাষী ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কয়েক মাসের পরিশ্রমে উৎপাদিত সোনালি আঁশের স্বপ্ন মুহূর্তেই নদীর স্রোতে হারিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নেমে এসেছে হতাশা।
রোববার রাতে উপজেলার সাতপোয়া, কামরাবাদ ও পোগলদিঘা ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় চার শতাধিক কৃষকের পাটের জাগ নদীর স্রোতে ভেসে যায়।
গতকাল সোমবার সকাল থেকে সারাদিন কৃষকরা কেউ হেঁটে, কেউ ডিঙ্গি নৌকায় নদীর বিভিন্ন পাড়ে ভেসে যাওয়া পাটের জাগ খুঁজে বেড়ান। তবে দু-একজন কিছু পাটের জাগ উদ্ধার করতে পারলেও অধিকাংশ কৃষক তাদের জাগের কোন সন্ধান পাননি।
 
চর সরিষাবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান মোল্লার দুটি পাটের জাগ ভেসে যাওয়ার পর সেগুলো খুঁজতে গিয়ে তিনি পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া এলাকায় অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে মানিক মোল্লা।
 
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, চর সরিষাবাড়ী, শিশুয়া , বাঘমারা, চর আদ্রা, ছাতারিয়া ও হেলেঞ্চাবাড়ীসহ বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য কৃষকের একাধিক পাটের জাগ নদীর স্রোতে ভেসে গেছে। একই সঙ্গে তিনটি ডিঙ্গি নৌকাও হারিয়ে গেছে। 
 
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল মান্নান মোল্লা, আসকেত আলী, জামাল উদ্দিন, উম্মত আলী, শহিদুল্লাহ, মাসুদ, সাইফুল, নুরুল ইসলাম, খোকা মিয়া, জালাল উদ্দিনসহ বহু কৃষক।
 
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক উম্মত আলী ও নুরুল ইসলাম জানান, পাট পচিয়ে আঁশ ছাড়ানোর জন্য নদীতে জাগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রবল স্রোত ও কচুরিপানার চাপে জাগগুলো ভেসে যায়। এতে তাদের কয়েক মাসের পরিশ্রম ও বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, তাদের সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দুই কোটি টাকারও বেশি। অনেকেই এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তারা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
 
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরিষাবাড়ীতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ২৪৫ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে। অতিবৃষ্টির কারণে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম আবাদ হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, অতিবৃষ্টি ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে কিছু এলাকায় পাটের জাগ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। 
 
বিষয়টি সম্পর্কে মতামত জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা কে মোবাইল ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি ‌।

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি :

১৩ জুলাই, ২০২৬,  9:08 PM

news image

টানা ভারী বর্ষণে যমুনা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে প্রবল স্রোত ও কচুরিপানার চাপে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত পাটের জাগ ও তিনটি ডিঙ্গি নৌকা যমুনার শাখা নদীতে ভেসে গেছে। এতে চার শতাধিক পাটচাষী ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কয়েক মাসের পরিশ্রমে উৎপাদিত সোনালি আঁশের স্বপ্ন মুহূর্তেই নদীর স্রোতে হারিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নেমে এসেছে হতাশা।
রোববার রাতে উপজেলার সাতপোয়া, কামরাবাদ ও পোগলদিঘা ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় চার শতাধিক কৃষকের পাটের জাগ নদীর স্রোতে ভেসে যায়।
গতকাল সোমবার সকাল থেকে সারাদিন কৃষকরা কেউ হেঁটে, কেউ ডিঙ্গি নৌকায় নদীর বিভিন্ন পাড়ে ভেসে যাওয়া পাটের জাগ খুঁজে বেড়ান। তবে দু-একজন কিছু পাটের জাগ উদ্ধার করতে পারলেও অধিকাংশ কৃষক তাদের জাগের কোন সন্ধান পাননি।
 
চর সরিষাবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান মোল্লার দুটি পাটের জাগ ভেসে যাওয়ার পর সেগুলো খুঁজতে গিয়ে তিনি পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া এলাকায় অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে মানিক মোল্লা।
 
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, চর সরিষাবাড়ী, শিশুয়া , বাঘমারা, চর আদ্রা, ছাতারিয়া ও হেলেঞ্চাবাড়ীসহ বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য কৃষকের একাধিক পাটের জাগ নদীর স্রোতে ভেসে গেছে। একই সঙ্গে তিনটি ডিঙ্গি নৌকাও হারিয়ে গেছে। 
 
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল মান্নান মোল্লা, আসকেত আলী, জামাল উদ্দিন, উম্মত আলী, শহিদুল্লাহ, মাসুদ, সাইফুল, নুরুল ইসলাম, খোকা মিয়া, জালাল উদ্দিনসহ বহু কৃষক।
 
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক উম্মত আলী ও নুরুল ইসলাম জানান, পাট পচিয়ে আঁশ ছাড়ানোর জন্য নদীতে জাগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রবল স্রোত ও কচুরিপানার চাপে জাগগুলো ভেসে যায়। এতে তাদের কয়েক মাসের পরিশ্রম ও বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, তাদের সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দুই কোটি টাকারও বেশি। অনেকেই এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তারা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
 
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরিষাবাড়ীতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ২৪৫ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে। অতিবৃষ্টির কারণে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম আবাদ হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, অতিবৃষ্টি ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে কিছু এলাকায় পাটের জাগ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। 
 
বিষয়টি সম্পর্কে মতামত জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা কে মোবাইল ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি ‌।