হাত-পা হারিয়ে হুইলচেয়ারে আদালতে ভুক্তভোগী, ৩ মাসেও ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রধান আসামি
ফরিদপুর প্রতিনিধি:
২৭ জুলাই, ২০২৬, 9:40 PM
হাত-পা হারিয়ে হুইলচেয়ারে আদালতে ভুক্তভোগী, ৩ মাসেও ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রধান আসামি
পূর্বশত্রুতার জেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল যুবক সুজন মুন্সির (৩০)। দীর্ঘ তিন মাস চিকিৎসার পর প্রাণে বেঁচে গেলেও চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে তাঁকে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুজন কারাগারে থাকলেও ঘটনার মূল নায়ক অর্থাৎ প্রধান আসামি আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে। সোমবার সেই আসামিদের রিমান্ড শুনানিতে সাক্ষ্য ও জবানবন্দি দিতে হুইলচেয়ারে চেপে আদালত চত্বরে হাজির হতে হয় অঙ্গ হারানো এই যুবককে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর জজ কোর্টের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১ম আদালতে এ হৃদয়বিদারক দৃশ্যের দেখা মেলে। সুজন মুন্সি ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার ফাজেলখার ডাঙ্গী এলাকার মৃত ধলা মুন্সির ছেলে।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন রাজমিস্ত্রি সুজন। পথে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন রামদা ও চাপাতি নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের নির্মম কোপে সুজনের ডান হাত ও ডান পা কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া পেট ও কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম করা হয়। ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ভাই হায়দার মুন্সিও (৩৫) আহত হন।
ঘটনার পরদিন সুজনের মা নিরু বেগম বাদী হয়ে চরভদ্রাসন থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। আসামিরা হলেন—ফাজেলখার ডাঙ্গী এলাকার কালাম মন্ডল (৪০), সাত্তার মন্ডল (৩৫), শাহ বরাত মন্ডল (২৪) এবং বালিযাডাঙ্গী গ্রামের শামীম মন্ডল (৩০)।
মামলার গতিধারায় জানা গেছে, এজাহারনামীয় আসামি সাত্তার মন্ডল ও শাহ বরাত মন্ডল গত বৃহস্পতিবার আদালতে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠান। সোমবার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ঘটনার তিন মাস পার হলেও মামলার মূল আসামি কালাম মন্ডল গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং সুজনের চিকিৎসাসংক্রান্ত মানবেতর পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
আদালত চত্বরে সুজনের স্ত্রী বেবী বেগম অঝোরে কেঁদে বলেন, "আমার চারটা ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে কীভাবে বাঁচব? যে মানুষটা রোজগার করে সংসার চালাত, তাকে চিরতরে পঙ্গু বানিয়ে দেওয়া হলো। সারাক্ষণ যন্ত্রণায় চিৎকার করে, একা খেতেও পারে না। আমি এই বর্বরতার বিচার ও জড়িতদের ফাঁসি চাই।"
কান্নাজড়ানো কণ্ঠে মা নিরু বেগম বলেন, "আমার ছেলে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল। কলার ধরে টেনে নিয়ে কোপানো শুরু করে। এক হাত, এক পা কেটে ফেলল, পেটেও কোপ দিল। পুলিশ আসামিদের ধরে না। আমি মা হয়ে কীভাবে এই বিচার সহ্য করব?"
এ বিষয়ে মামলার দ্বিতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক জানান, ১০ দিন আগে তিনি মামলাটির দায়িত্ব পেয়েছেন। ইতোমধ্যে এজাহারনামীয় দুজনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল আসামিসহ অন্যান্য পলাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফরিদপুর প্রতিনিধি:
২৭ জুলাই, ২০২৬, 9:40 PM
পূর্বশত্রুতার জেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল যুবক সুজন মুন্সির (৩০)। দীর্ঘ তিন মাস চিকিৎসার পর প্রাণে বেঁচে গেলেও চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে তাঁকে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুজন কারাগারে থাকলেও ঘটনার মূল নায়ক অর্থাৎ প্রধান আসামি আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে। সোমবার সেই আসামিদের রিমান্ড শুনানিতে সাক্ষ্য ও জবানবন্দি দিতে হুইলচেয়ারে চেপে আদালত চত্বরে হাজির হতে হয় অঙ্গ হারানো এই যুবককে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর জজ কোর্টের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১ম আদালতে এ হৃদয়বিদারক দৃশ্যের দেখা মেলে। সুজন মুন্সি ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার ফাজেলখার ডাঙ্গী এলাকার মৃত ধলা মুন্সির ছেলে।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন রাজমিস্ত্রি সুজন। পথে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন রামদা ও চাপাতি নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের নির্মম কোপে সুজনের ডান হাত ও ডান পা কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া পেট ও কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম করা হয়। ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ভাই হায়দার মুন্সিও (৩৫) আহত হন।
ঘটনার পরদিন সুজনের মা নিরু বেগম বাদী হয়ে চরভদ্রাসন থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। আসামিরা হলেন—ফাজেলখার ডাঙ্গী এলাকার কালাম মন্ডল (৪০), সাত্তার মন্ডল (৩৫), শাহ বরাত মন্ডল (২৪) এবং বালিযাডাঙ্গী গ্রামের শামীম মন্ডল (৩০)।
মামলার গতিধারায় জানা গেছে, এজাহারনামীয় আসামি সাত্তার মন্ডল ও শাহ বরাত মন্ডল গত বৃহস্পতিবার আদালতে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠান। সোমবার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ঘটনার তিন মাস পার হলেও মামলার মূল আসামি কালাম মন্ডল গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং সুজনের চিকিৎসাসংক্রান্ত মানবেতর পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
আদালত চত্বরে সুজনের স্ত্রী বেবী বেগম অঝোরে কেঁদে বলেন, "আমার চারটা ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে কীভাবে বাঁচব? যে মানুষটা রোজগার করে সংসার চালাত, তাকে চিরতরে পঙ্গু বানিয়ে দেওয়া হলো। সারাক্ষণ যন্ত্রণায় চিৎকার করে, একা খেতেও পারে না। আমি এই বর্বরতার বিচার ও জড়িতদের ফাঁসি চাই।"
কান্নাজড়ানো কণ্ঠে মা নিরু বেগম বলেন, "আমার ছেলে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল। কলার ধরে টেনে নিয়ে কোপানো শুরু করে। এক হাত, এক পা কেটে ফেলল, পেটেও কোপ দিল। পুলিশ আসামিদের ধরে না। আমি মা হয়ে কীভাবে এই বিচার সহ্য করব?"
এ বিষয়ে মামলার দ্বিতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক জানান, ১০ দিন আগে তিনি মামলাটির দায়িত্ব পেয়েছেন। ইতোমধ্যে এজাহারনামীয় দুজনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল আসামিসহ অন্যান্য পলাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।